১৬ ডিসেম্বর, ১৯১০ তারিখে পেরুর লিমায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত শৌখিন ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন। ইংল্যান্ড দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

লিমায় জন্মগ্রহণকারী ফ্রেডি ব্রাউনের পিতা ব্যবসায়ী ছিলেন। মেইডেনহেডভিত্তিক সেন্ট পিরান্স, দ্য লেইজ ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। চমৎকার অল-রাউন্ডার হিসেবে নিজের পরিচিতি ঘটিয়েছেন। লেগ-স্পিন বোলিংসহ নিচেরসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে হার না মানার অধিকারী ছিলেন। সহজাত নেতৃত্বের গুণাবলী তাঁর মাঝে বিদ্যমান ছিল। ১৯৩০ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ার ও সারে দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে খেলেছেন।

খেলোয়াড়ী জীবন ২৩ বছরের হলেও নয় বছর অনেকের ন্যায় তাঁরও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে হারিয়ে যায়। শুরুরদিকের বছরগুলোয় সুইং সহযোগে মিডিয়াম পেস বোলিং করতেন। তবে, লেগ-স্পিনের দিকেই পরবর্তীকালে ধাবিত হন। সহজাত প্রকৃতির বামহাতি ব্যাটসম্যান হলেও পারিবারিক চাপে পড়ে ডানহাতে ব্যাটিং করতে বাধ্য হন ও বেশ সফলতার স্বাক্ষর রাখেন।

১৯৩১ থেকে ১৯৫৩ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে প্রায় ২২ বছরের খেলোয়াড়ী জীবনে সমসংখ্যক টেস্টে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, ১৫ টেস্টে দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। অধিনায়ক হিসেবে বেশ সফল ছিলেন। অ্যাশেজের প্রতিপক্ষীয় দলের বিপক্ষে নিজেদের সেরাটা প্রদর্শনে তৎপরতা দেখান। ১৯৫০-৫১ মৌসুমের অ্যাশেজ সিরিজে অজি দর্শকদের কাছ থেকে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান।

১৯৩১ সালে নিজ দেশে টম লরি নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জুলাই, ১৯৩১ তারিখে লন্ডনের কেনিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। হ্যাডলি ভেরিটি সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ২/৫২ ও ১/৩৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে ব্যাটিং করার সুযোগ না পেলেও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৬ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩৭ সালে নিজ দেশে কার্লি পেজের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৪ জুলাই, ১৯৩৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে জ্যাক কাউয়িকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বতন সেরা ছিল ২/৫২। খেলায় তিনি ৩/৮১ ও ১/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১ ও ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৩০ রানে জয় পেলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৫০ সালে নিজ দেশে জন গডার্ডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ আগস্ট, ১৯৫০ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ০ ও ১৫ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৭৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। আল্ফ ভ্যালেন্টাইনের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ইনিংস ও ৫৬ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

১৯৫০-৫১ মৌসুমে অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে এমসিসি দলকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৫ জানুয়ারি, ১৯৫১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে খেলায় তিনি ৭৯ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১৩ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই মৌসুমে এমসিসি দলকে নেতৃত্ব দিয়ে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৭ মার্চ, ১৯৫১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অধিনায়কের দায়িত্বে থেকে ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৫৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

চল্লিশের কোটায় এসে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৫৩ সালে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ১৯৫৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ২২ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৩ ও ৪/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলোয় ২৫.৩১ গড়ে ৭৩৪ রান সংগ্রহসহ ৩১.০৬ গড়ে ৪৫ উইকেট দখল করেছিলেন। খেলোয়াড়ী জীবন শেষে ১৯৫৩ সালে দল নির্বাচকমণ্ডলীর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ঐ দশকের শেষদিকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়া সফরে দলের ব্যবস্থাপক হিসেবে মনোনীত হন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে এমসিসি’র সভাপতির দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এনসিএ ও ইএসসিএ’র সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৯৩৩ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। সিবিই উপাধীতে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৫৪ সালে ‘ক্রিকেট মাসকিটার’ শীর্ষক গ্রন্থ প্রকাশ করেন। ২৪ জুলাই, ১৯৯১ তারিখে উইল্টশায়ারের র‍্যামসবারি এলাকায় ৮০ বছর ২২০ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট