১১ আগস্ট, ১৯৫৪ তারিখে পাঞ্জাবের লুধিয়ানায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, আম্পায়ার, রেফারি, কোচ ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি উইকেট-রক্ষণেও সিদ্ধহস্তের পরিচয় দিতেন। ভারতের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
ছোটখাটো গড়নের অধিকারী। দুঃসাহসী ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। ভারতের মাঝারিসারিতে ভিত্তি আনয়ণে অগ্রসর হন। একবার উইকেটে থিতু হয়ে পড়লে তাঁকে বিদেয় করা বেশ কঠিন বিষয় ছিল। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৯২-৯৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ভারতীয় ক্রিকেটে হরিয়াণা, পাঞ্জাব ও রেলওয়ের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৭২ সালে পাঞ্জাবের বিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে জম্মু ও কাশ্মীরের বিদ্যালয় দলের বিপক্ষে খেলে মনোমুগ্ধকর ২৬০ রানের ইনিংস উপহার দেন। এরপর থেকে তাঁর নাম সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত তাঁকে পাঞ্জাব বিশ্ববিদ্যালয় দলের সাথে যুক্ত করা হয় ও ১৩৯ রানের ইনিংস খেলেন। অক্টোবর, ১৯৭৩ সালে ১৯ বছর বয়সে পাঞ্জাবের সদস্যরূপে রঞ্জী ট্রফিতে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। জলন্ধরে সার্ভিসেসের বিপক্ষে ঐ খেলার দ্বিতীয় ইনিংসে মহিন্দার অমরনাথের সাথে ১৬৯ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। নিজে করেন ৬০ রানের অপরাজিত ইনিংস।
বিশ্ব মানসম্পন্ন বোলারদের বিপক্ষেও দারুণ সফল ছিলেন। ১৯৭৭ সালের দিলীপ ট্রফির সেমি-ফাইনালে সৈয়দ আবিদ আলী, ইরাপল্লী প্রসন্ন ও ভাগবত চন্দ্রশেখরের ন্যায় প্রসিদ্ধ বোলারদের নিয়ে গড়া দক্ষিণাঞ্চলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে দারুণ খেলে উত্তরাঞ্চলের বিজয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ব্যাটিং করে ১৭৩ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি।
দল নির্বাচকমণ্ডলীর উপেক্ষার শিকারে পরিণত হন। পরের মৌসুমে রানের ফল্গুধারা অব্যাহত রাখেন। মৌসুম শেষে ৭৬.২০ গড়ে ৭৬২ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, ইন্ডিয়ান বর্ষসেরা ক্রিকেটার হিসেবে মনোনীত হন। জানুয়ারি, ১৯৭৯ সালে উত্তরাঞ্চলের সদস্যরূপে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজ একাদশের বিপক্ষে ১৩৫ রানের অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। এ পর্যায়ে ভ্যানবার্ন হোল্ডার ও ম্যালকম মার্শালের ন্যায় বোলারদের মোকাবেলা করেছিলেন তিনি। পরের খেলায় দিলীপ ট্রফিতে উত্তরাঞ্চলের শিরোপা বিজয়ে জোড়ালো ভূমিকা রাখেন। সুনীল গাভাস্কার, দিলীপ বেঙ্গসরকার, অশোক মানকড়, যজুর্বেন্দ্র সিংসমৃদ্ধ পশ্চিমাঞ্চলের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে ৮৯ রান তুলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক হন। এরফলে, জাতীয় দলে খেলার পথ সুগম হয়।
১৯৭৮ থেকে ১৯৮৫ সময়কালে ভারতের পক্ষে সর্বমোট ৩৭ টেস্ট ও ৪২টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৩ অক্টোবর, ১৯৭৮ তারিখে শিয়ালকোটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।
১৯৭৯-৮০ মৌসুমে শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবনের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২ আগস্ট, ১৯৭৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১১ ও ৫* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দিলীপ বেঙ্গসরকারের শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় এবং চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
অনেকগুলো বছর একত্রে থাকা দলীয় সঙ্গী সুনীল গাভাস্কার তাঁকে ‘দলের সঙ্কটমোচনের অধিকারী’রূপে আখ্যায়িত করেন। প্রকৃত, প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও প্রচণ্ড চাপের মুখে পড়েও সেরা খেলা উপহারে অগ্রসর হতেন। অপর বিখ্যাত ক্রিকেটার চেতন শর্মা সম্পর্কে তাঁর ভ্রাতৃষ্পুত্র হন। তাঁর তুলনায় প্রায় ১২ বছরের বড় ছিলেন। উভয়েই একত্রে ভারতের পক্ষে দুইটি ওডিআইয়ে অংশ নেন। তন্মধ্যে, চেতন শর্মা’র বোলিংয়ে ইংরেজ তারকা ব্যাটসম্যান গ্রায়েম ফাওলারের ক্যাচ তিনি মুঠোয় পুড়েছিলেন।
ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ১৯৮৩ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় ভারতের শিরোপা বিজয়ী দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় দলের দ্বিতীয় সর্বাধিক রান সংগ্রাহক ছিলেন।
১৯৮৩-৮৪ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান দলের মুখোমুখি হন। ২৯ অক্টোবর, ১৯৮৩ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, দিলীপ বেঙ্গসরকারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ধাবিত হন। ২০০৩ থেকে ২০০৬ সময়কালে জাতীয় দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। কোচ গ্রেগ চ্যাপেলের সমালোচনায় মুখরিত হন ও সৌরভ গাঙ্গুলীকে সহায়তা করেন। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে আবারও জাতীয় দল নির্বাচক হন। এরপূর্বে রঞ্জী ট্রফিতে উত্তরপ্রদেশ দলকে প্রশিক্ষণ দেন। মহিলাদের ওডিআইয়ে আম্পায়ার হিসেবে খেলা পরিচালনা করেছিলেন।
১৩ জুলাই, ২০২১ তারিখে ৬৬ বছর ৩৩৬ দিন বয়সে নয়াদিল্লিতে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
