৪ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে কাদোমায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। দলে মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকা পালন করছেন। লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে উইলো নিয়েও বেশ কার্যকর ভূমিকা রাখেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
২০১৬ সালের আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ঐ প্রতিযোগিতায় সবিশেষ অবদান রেখেছিলেন। প্লেট ফাইনালে জিম্বাবুয়ে দল পরাজিত হলেও প্রতিবেশী দক্ষিণ আফ্রিকাকে পরাজিত করতে সক্ষম হয়। ২০১৭ সালের শীতকালে ইংল্যান্ড গমনার্থে ন্যাশনাল এমার্জেন্স দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন।
জিম্বাবুয়ের ক্রিকেটের অন্যতম উদীয়মান লেগ-স্পিন অল-রাউন্ডার হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। ২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মিড ওয়েস্ট রাইনোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শেষে মিড ওয়েস্ট রাইনোসের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ২ মার্চ, ২০১৬ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত মিড ওয়েস্ট রাইনোস বনাম মাতাবেলেল্যান্ড তুস্কার্সের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক খেলার প্রথম ইনিংসে ছয়-উইকেট পান। এরপর দ্বিতীয় ইনিংসে আরও দুই উইকেট পেয়েছিলেন।
২০১৬ সালে ইয়র্কশায়ার ক্রিকেট লীগ প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ইংল্যান্ড গমন করেন। ঐ প্রতিযোগিতায় ৫৭ উইকেট লাভ করে তৃতীয় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন।
২০১৮ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ৬ জুলাই, ২০১৮ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রবেশ করেন। ২০১৮-১৯ মৌসুমে হ্যামিল্টন মাসাকাদজা’র নেতৃত্বাধীন জিম্বাবুয়ীয় দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৩ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ওয়েলিংটন মাসাকাদজা’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তাঁর দল চতুর্থ দিনেই ১৫১ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায় ও ১৭ বছরের মধ্যে প্রথম বিদেশের মাটিতে জয়লাভ করতে সমর্থ হয়। ৩ ও ৬ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/২৭ ও ৪/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
১১ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে ঢাকায় স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২১৮ রানের ব্যবধানে তাঁর দল পরাজয়বরণ করে। ০/১৩৭ ও ০/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১-১ ব্যবধানে সিরিজটি শেষ হয়।
২০২২-২৩ মৌসুমে নিজ দেশে ক্রেগ ব্রাদওয়েটের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ঐ টেস্টে গুদাকেশ মোতি’র অসামান্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ৪ রানের ব্যবধানে জয় পায়। এছাড়াও, দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে। খেলায় তিনি ৫/১৪০ ও ০/৩০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
২০২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে হাশমতউল্লাহ শাহীদি’র নেতৃত্বাধীন আফগান দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত সফররত আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে জিয়া-উর-রেহমানের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ দ্বি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
