২৫ এপ্রিল, ১৯৪৮ তারিখে মিডলসেক্সের চিজউইক এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, ধারাভাষ্যকার ও সাংবাদিক। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
‘ওয়াল্টার’ ডাকনামে পরিচিত মাইক সেলভি ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। ব্যাটারসী গ্রামার স্কুলে অধ্যয়ন শেষে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয় ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন, মিডলসেক্স ও সারে এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে অরেঞ্জ ফ্রি স্টেট দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৬৮ থেকে ১৯৮৪ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। তন্মধ্যে, ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সময়কালে সারের পক্ষে ৬টি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭১ সালে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্লুধারী হন।
১৯৭২ সালে মিডলসেক্সে যোগ দেন। ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দলটিতে অবস্থান করে ২১৩ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৮২ সালে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলায় অংশ নেয়ার পর লর্ডস ত্যাগ করে গ্ল্যামারগনে চলে যান। ১৯৮৩ থেকে ১৯৮৪ সময়কালে গ্ল্যামারগন দলকে নেতৃত্ব দেন। তবে, ৩৯ খেলায় অংশ নেয়ার পর আঘাতের কারণে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন। কাউন্টি দলটির পক্ষে ২৫.৪৫ গড়ে ৬১৫ উইকেট দখল করেন। ১৯৭৬ সালে গ্লুচেস্টারে অনুষ্ঠিত গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৭/২০ লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে ১৯.০৯ গড়ে ১০১ উইকেট পান। ১২.৪৮ গড়ে ১৮৩৫ রান তুলেছেন ও ৫৬ ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৮০-৮১ মৌসুমে বুলাওয়েতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ৬৭ রান সংগ্রহ করেছেন।
১৯৭৬ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র তিন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৬ সালে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ৪/৪১ ও ২/১১১ লাভ করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ২* ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলায় সফরকারীরা ৪২৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে টনি গ্রেগের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে বোম্বের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৫* রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
টেস্টগুলো থেকে ৫৭.১৬ গড়ে ৬ উইকেট দখল করেছেন ও একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছেন। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৭৮টি খেলায় অংশ নিয়ে ২৬.৬৬ গড়ে ৭৭২টি উইকেট লাভ করেছেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর ধারাভাষ্যকর্মের সাথে জড়িয়ে পড়েন। বিবিসি রেডিও’র টেস্ট ম্যাচ স্পেশালে অংশ নেন। এছাড়া, সাংবাদিকতায় অগ্রসর হন। ‘গার্ডিয়ান’ সংবাদপত্রে ক্রিকেট সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করছেন।
