|

ডেভিড লার্টার

২৪  এপ্রিল, ১৯৪০ তারিখে স্কটল্যান্ডের ইনভার্নেস এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

৬ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী তিনি। ১৯৬০ থেকে ১৯৬৯ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করতেন। ১৯.৫৩ গড়ে ৬৬৬ উইকেট নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। সুইং নির্ভর বোলিংয়েই অধিক সফলতা পেয়েছেন। কলিন বেটম্যানের অভিমত, ‘খেঁপাটে ভালোমানের ফাস্ট বোলার’ ছিলেন।

মাইনর কাউন্টিজ চ্যাম্পিয়নশীপে সাফোকের পক্ষে খেলতেন। পরবর্তীতে, ফ্রাঙ্ক টাইসন ও তাঁর সঙ্গীর অবসর গ্রহণের ফলে শূন্যতা পূরণে তাঁকে নর্দাম্পটনশায়ার দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সময়কালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট দশ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ২৫.৪৩ গড়ে ৩৭ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৬২ সালে নিজ দেশে জাভেদ বার্কি’র নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১৬ আগস্ট, ১৯৬২ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। অভিষেক খেলাকে স্মরণীয় করে রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৫/৫৭ পান। ঐ খেলায় তিনি ১৪৫ রান খরচায় ৯ উইকেট দখল করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় তুলে নেয় ও ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

অকল্যান্ডে নিজস্ব দ্বিতীয় টেস্টে আরও সাত উইকেট দখল করেন। ইতোপূর্বে নিউজিল্যান্ডে টেস্টবিহীন সফরে যাবার ফলে অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগান। দৃশ্যতঃ ইংল্যান্ড দলে নিয়মিতভাবে খেলার সুযোগ পাননি। তবে, ১৯৬৩ সালে ফ্রেড ট্রুম্যানের পর দ্বিতীয় ইংরেজ ফাস্ট বোলার হিসেবে পরিচিতি ঘটিয়েছিলেন। বিদেশ সফরের জন্য অন্য খেলোয়াড়দের অপারগতার উপর নির্ভর করতে হতো। এছাড়াও, আঘাতের কারণেও খেলায় ধারাবাহিকতা প্রদর্শনে বাদ সাধে।

১৯৬৫ সালে নিজ দেশে পিটার ফন ডার মারউই’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৫ আগস্ট, ১৯৬৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। আসা-যাবার পালায় থেকে অবশেষে নটিংহামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৫/৬৮ নিয়ে খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেন। এ পর্যায়ে অবশ্য জন স্নো’র সাফল্যকে ম্লান করে দেন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ১/২৫ লাভ করেছিলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ২ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রেই পিটার পোলকের শিকারে পরিণত হন। খেলায় তাঁর দল ৯৪ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

পরবর্তীতে অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্যে মনোনীত হলেও গোড়ালীর আঘাতে আর খেলতে পারেননি। ১৯৬৬ সালে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে কয়েকটি খেলায় অংশগ্রহণের মাঝেই সীমিত রাখেন। ১৯৬৯ সালে ফেরার চেষ্টা চালিয়েছিলেন।

এগারো নম্বর অবস্থানে ব্যাট হাতে নামতেন। টেস্ট থেকে ৩.২০ গড়ে ১৬ রান ও প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে একটি অর্ধ-শতক সহযোগে ৬.০৮ গড়ে ৬৩৯ রান তুলেন। এরফলে, উভয় ধরনের ক্রিকেটে রানের তুলনায় উইকেট লাভের দিককেই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট