২৩ এপ্রিল, ১৯৭৯ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার মডবারি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি ডানহাতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছেন। ২০০০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘চক’ ডাকনামে পরিচিত গ্রাহাম ম্যানো ১.৮১ মিটার উচ্চতার অধিকারী। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে অন্যতম উজ্জ্বলতম উইকেট-রক্ষক হিসেবে চিত্রিত হয়েছিলেন। ১৯৯৮-৯৯ মৌসুম থেকে ২০১০-১১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেলবোর্ন রেনেগাডেসের পক্ষে খেলেছেন। দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে হাঁটুর আঘাতের কবলে পড়েন ও অধিনায়কত্ব হারান। পুরা কাপে দুইটি শতরানের ইনিংস খেলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর আস্থা অর্জন করেন। অস্ট্রেলীয় দল নির্বাচক জেমি কক্সের পরামর্শক্রমে ম্যাথু ওয়েড ও লুক রঙ্কিকে পাশ কাটিয়ে তাঁকে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল।

২০০৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে একটিমাত্র টেস্ট ও চারটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। ঐ বছর রিকি পন্টিংয়ের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐ টেস্টটি খেলেছিলেন। নিয়মিত উইকেট-রক্ষক ব্র্যাড হাড্ডিনের আঙ্গুলের আঘাতের ফলে তিনি এজবাস্টন টেস্টে তাঁর স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। ৩০ জুলাই, ২০০৯ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে তিনি অস্ট্রেলিয়ার ৪১১তম টেস্ট খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। খেলায় তিনি ৮ ও ১৩* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, উইকেটের পিছনে অবস্থান করে তিনটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দীকরণে অগ্রসর হয়েছিলেন। তবে, মাইকেল ক্লার্কের অনবদ্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

এরপর, ভারত সফরে ওডিআই সিরিজে অংশ নেন। টিম পেইনের পরিবর্তে খেলার সুযোগ পান। ৩১ অক্টোবর, ২০০৯ তারিখে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। একই সফরের ৮ নভেম্বর, ২০০৯ তারিখে গুয়াহাটিতে সর্বশেষ ওডিআই খেলেন। টিম পেইন ও ম্যাথু ওয়েডের ন্যায় উদীয়মান খেলোয়াড়দের উত্থানে তাঁর খেলায় অংশগ্রহণের সম্ভাবনা স্তিমিত হয়ে পড়ে।

১২ মার্চ, ২০১১ তারিখে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা থেকে স্বীয় অবসরের কথা ঘোষণা করেন। অ্যাডিলেডে তাসমানিয়ার বিপক্ষে খেলা চলাকালীন এ ঘোষণা দেন। এরফলে, রেডব্যাকসের পক্ষে তাঁর তেরো বছরের খেলোয়াড়ী জীবনের ইতি ঘটে। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে ২৫.৪৯ গড়ে ৪০০৩ রান সংগ্রহ করেছেন। এছাড়াও, ৩৪৮টি ডিসমিসাল ঘটিয়েছেন।

৩০ জুন, ২০১৬ তারিখে অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় অনূর্ধ্ব-১৫ থেকে ১৯ হাই পারফরম্যান্স পাথওয়ে ম্যানেজার হিসেবে তাঁকে নিযুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে, ১১ মে, ২০২২ তারিখে ন্যাশনাল ডেভেলপম্যান্টের প্রধানের দায়িত্ব ছেড়ে দেন ও ভিক্টোরিয়ার জেনারেল ম্যানেজার হিসেবে দায়িত্ব পালনে অগ্রসর হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট