২২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৮ তারিখে ডাবলিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। অসাধারণ বামহাতি ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ইনিংস উদ্বোধনে কিংবা শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ব্রেভিত্তিক প্রেজেন্টেশন কলেজ ও ডাবলিনভিত্তিক ট্রিনিটি কলেজে পড়াশুনো করেছেন। বিদ্যালয় ও যুবদের ক্রিকেটে বেশ সাড়া জাগান। খুব দ্রুত নিজেকে প্রতিভাবান পরিবারের সেরা খেলোয়াড়ে পরিণত করেন। ১৯৯৩ সাল থেকে ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। অনূর্ধ্ব-১৫ স্তরের ক্রিকেটে ইন্টারন্যাশনাল বনাম ওয়েলসের মধ্যকার প্রথম ইনিংসে ১৮ রান তুলেন। ঐ খেলাটি টাইয়ের দিকে গড়ায়। ঐ মৌসুমের অনূর্ধ্ব-১৫ আন্তঃপ্রাদেশিক খেলায় অধিক সফল হন। তবে, আবহাওয়ার কারণে স্বাভাবিক খেলা প্রদর্শনে বিঘ্ন ঘটায়। তাসত্ত্বেও, স্ট্রাবেনে এনসিইউ দলের বিপক্ষে ৫৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন।
১৯৯৭ সালে ইয়ুথ ইন্টারন্যাশনাল টুর্নামেন্টে দ্বিতীয় হবার সুবাদে আয়ারল্যান্ড দল ১৯৯৮ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেটে অংশ নেয়ার সুযোগ পায়। ডেনমার্কের বিপক্ষে দলের টিকে থাকার খেলায় ৩৭/১ থাকা অবস্থায় মাঠে নামেন। শেষ খেলোয়াড় হিসেবে ১০৫ রানে বিদেয় নেন ও দলীয় সংগ্রহকে স্ফীত করে ২৪৭ রানে নিয়ে যান। শুরু থেকেই খেলায় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন। ১৭৫ মিনিট ব্যাটিং করে ১৩টি চারের সাহায্যে এ রান তুলেন। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন।
‘জয়সি’, ‘স্পাড’ কিংবা ‘পিস’ ডাকনামে পরিচিতি পান। আয়ারল্যান্ডের কিংবদন্তীতুল্য তারকা ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। অনেক ক্রিকেটবোদ্ধার কাছে তিনি আয়ারল্যান্ডের সেরা ক্রিকেটার হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। উপর্যুপরী দুইটি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পৃথক দুইটি দলের পক্ষে সমধিক পরিচিতি লাভ করেছেন। মূলতঃ শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে বামহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯৭ থেকে ২০১৮ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স ও সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্স ও মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন।
সকল ধরনের বল মোকাবেলা করে দ্রুততার সাথে রান সংগ্রহে তৎপর হতেন। এরফলে, সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে অমূল্য খেলোয়াড়ে পরিণত হন। সচরাচর, কভার ড্রাইভেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্য পোষণ করতেন। মাঠের যে-কোন জায়গায় দারুণ ফিল্ডিং করতেন। এছাড়াও, দলের প্রয়োজনে মাঝে-মধ্যে সংরক্ষিত উইকেট-রক্ষক হিসেবে ব্যবহৃত হতেন। পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে কিছুটা ভূমিকা রাখলেও পরবর্তীতে বোলিং করে খুব কমই সফলতা পেয়েছেন। প্রেজেন্টেশন কলেজ ও ডাবলিনভিত্তিক ট্রিনিটি কলেজে পড়াশুনো করেছেন।
২০০০ সালে এনবিসি ডেনিস কম্পটন পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ড দলের পক্ষে খেলেন। কেনিয়া ও কানাডার বিপক্ষে যথাক্রমে ৭৫ ও ৬৬ রান তুলেন। এরপর, প্রথম আইরিশ হিসেবে ইংল্যান্ডের পক্ষে আধুনিক ক্রিকেট খেলায় অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ২০০৬ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষে ওডিআইয়ে অভিষেক ঘটলেও খেলোয়াড়ী জীবনের অধিকাংশ সময়ই আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। কিন্তু, খেলোয়াড়ী জীবন থেকে বঞ্চিত না হবার বাসনা নিয়ে সঠিক সময়ে ২০১১ সালের পরবর্তী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে আয়ারল্যান্ড দলে পুণরায় যুক্ত হন। এ পর্যায়ে চার বছর অবস্থানের শর্তাবলী পূরণ না করা সত্ত্বেও আইসিসি বিষয়টি ব্যতিক্রমী হিসেবে আখ্যায়িত করে ও বিশেষভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ প্রদান করে। এরফলে, প্রথম আইরিশ ক্রিকেটার হিসেবে আইসিসি বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দুইটি ভিন্ন দলের পক্ষে অংশগ্রহণের গৌরব অর্জন করেন। ছয় খেলায় অংশ নেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৪ রান তুলেন। এছাড়াও, একই পরিবারের পাঁচজন ভাই-বোনের অন্যতম হিসেবে আয়ারল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নেন।
আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলায় অংশ নেয়া ঐতিহ্যবাহী জয়েস পরিবারের পাঁচ সদস্যের অন্যতম তিনি। ডাবলিনে চার ভাই ও চার বোন নিয়ে গড়া বৃহৎ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর অপর ভ্রাতৃদ্বয় গাস জয়েস ও ডম জয়েস আয়ারল্যান্ডের পক্ষে খেলেছেন। তন্মধ্যে, ডম জয়েস তাঁর অভিষেক ওডিআইয়ে এড জয়েসের বিপক্ষে খেলেন। যমজ ভগ্নী ইসোবেল জয়েস ও সেসেলিয়া জয়েস আয়ারল্যান্ড মহিলা দলের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। উভয়েই দলের পক্ষে কিশোরী অবস্থাতেই দলের প্রধান চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। তন্মধ্যে, ইসোবেল জয়েস রেকর্ডসংখ্যক ৬২ খেলায় দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। পিতা জিমি জয়েস ২০১৩ সালে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেছেন। মাতা মৌরিন আয়ারল্যান্ড মহিলা দলের স্কোরার ও এক জ্যেষ্ঠ ভ্রাতা পেশাদার দাবাড়ু।
আইসিসি ট্রফি প্রতিযোগিতায় আয়ারল্যান্ডের তারকা খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্স ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ইংল্যান্ড লায়ন্স ও মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে খেলেছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৫৫ খেলায় অংশ নিয়ে ৪৭.৯৫ গড়ে ১৮৪৬১ রানের সন্ধান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, ২০০২ সালে মিডলসেক্সের ক্যাপ লাভ করেন। এরপর, সাসেক্সে চলে গেলে ২০০৯ সালে ক্যাপ পান। এ পর্যায়ে ২০১৪ ও ২০১৫ সালে সাসেক্সের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৮ সালে দলে আর্থিক সুবিধে গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন।
২০০১ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে ১৪ খেলায় অংশ নিয়ে ৮৪.২২ গড়ে ৭৫৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২০০৫ সালে ইংল্যান্ডে আবাসকালীন শর্তাবলী পূর্ণ করেন। এরপর, ২০০৬ সালে ডাবলিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ইংল্যান্ডের সদস্যরূপে একদিনের আন্তর্জাতিকে অভিষেক ঘটে। আয়ারল্যান্ড দলে কনিষ্ঠ ভ্রাতা ডমিনিক জয়েসকে যুক্ত করা হয়। এর দুই দিন পর গোড়ালীর আঘাত থেকে সেড়ে উঠার পর ইংল্যান্ড দলের পক্ষ নিজস্ব প্রথম টি২০আইয়ে অংশ নেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার পূর্বে এজবাস্টনে মিডলসেক্সের সদস্যরূপে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে খেলোয়াড়ী জীবনের সেরা ২১১ রান তুলেন। ২০০৮ সালের টি২০ কাপে দলের শিরোপা বিজয়ে নেতৃত্ব দেন। এক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের অন্যতম দল নির্বাচক অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘ইংল্যান্ডের টেস্ট দলে যুক্ত হবার জন্যে তিনি যোগ্য।’
এরপর সাসেক্সের দিকে ধাবিত হন। প্রথম মৌসুমে দারুণ খেলেন। তিনটি শতক হাঁকানোর সুবাদে ২০০৯ সালের আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ইংল্যান্ডের প্রাথমিক দলে ঠাঁই পান। তিন বছর সাসেক্সের অধিনায়কত্ব লাভ করেন। মাইকেল ইয়ার্ডি’র স্থলাভিষিক্ত হন ও ২০১৫ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৪ সালে সাসেক্সের পক্ষে স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম বিভাগে সাত শতক সহযোগে ৬৬ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়ায় দূর্দান্ত খেলে ইংল্যান্ড দলে স্বীয় স্থান অনেকাংশে পাকাপোক্ত করে নিয়েছিলেন। এসসিজিতে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শতক হাঁকান। এরপর, ২০০৭ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় দূর্বলতর প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরও একটি শতরান করেছিলেন। তবে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলার বিষয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন ও প্রতিযোগিতা থেকে ইংল্যান্ডের বিদেয় নেয়ার পর দল থেকে বাদ পড়েন।
শিশুকাল থেকে ক্রিকেটের প্রতি অনুরাগী হয়ে পড়েন। ১৯৯৯ সালে মিডলসেক্সের পক্ষে প্রথম খেলেন ও দ্বিতীয় একাদশের নিয়মিত খেলোয়াড় ছিলেন। এরপর থেকেই পরবর্তী এক দশককাল ক্লাবটির মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে থাকেন। প্রথম-শ্রেণীর খেলাগুলো থেকে মিডলসেক্সের পক্ষে ১৯ শতক সহযোগে ৪৬.৭৬ গড়ে ৮২৭৮ রান সংগ্রহ করেন।
২০০১ সালে লর্ডসে ওয়ারউইকশায়ারের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম শতক হাঁকান। চ্যাম্পিয়নশীপে এটিই আয়ারল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী কোন খেলোয়াড়ের প্রথম তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করা ছিল। ২০০৬ সালে এজবাস্টনে একই দলের বিপক্ষে ২১১ রানের সর্বোচ্চ ইনিংস খেলেন। ২০০৮ সাল পর্যন্ত ঐ কাউন্টিতে অবস্থান করেন। রোজ বোলে টি২০আইয়ে ফিল্ডিংকালে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্তির পর এটিই তাঁর প্রথম অংশগ্রহণ ছিল। ৪৭২ মিনিট ব্যাটিং করেন। এ পর্যায়ে ৩৪৯ বল মোকাবেলায় ২২ চার মারেন। ৫৬/২ থাকাকালে দলের সংগ্রহ ৪৪৬ তুলে শেষ খেলোয়াড় হিসেবে মাঠ ত্যাগ করেন। তন্মধ্যে, ৬ষ্ঠ উইকেটে উইকেট-রক্ষক ডেভ ন্যাশের সাথে ১৬৭ রানের জুটি গড়েন। অবশ্য, খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল। এর পূর্বেকার মৌসুমে লর্ডসে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে ১৯২ রানের স্মরণীয় ইনিংস খেলেন।
২০০৪ সালে টেস্ট খেলায় ব্যস্ত অ্যান্ড্রু স্ট্রসের অনুপস্থিতিজনিত কারণে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেন। সহঃঅধিনায়কের দায়িত্বে থাকা ওয়াইস শাহ সকলের সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যর্থতার কারণে এ দায়িত্ব পান। তবে, তিনি আঘাতের কবলে পড়লে হাটনকে এ দায়িত্ব দেয়া হয়।
তবে, ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলে হতাশার কবলে পড়েন। অতঃপর, ২০০৮ সালে মিডলসেক্স থেকে চলে আসেন ও দক্ষিণাঞ্চলীয় সাসেক্সের সাথে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। কয়েক মৌসুম দলকে নেতৃত্ব দেন। এ পর্যায়ে দলের প্রভাববিস্তারকারী সদস্যের মর্যাদা পেলেও আর ইংল্যান্ড দলে খেলার আমন্ত্রণ পাননি।
২০১২ সালের মাঝামাঝি সময়ে মাইকেল ইয়ার্ডি’র পরিবর্তে সাসেক্সের অধিনায়ক হিসেবে মনোনীত হন। ২০১৪ সালের গ্রীষ্মকালে স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেন। এ সময়ে সাতটি শতক হাঁকান ও চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম বিভাগে ৬৬ গড়ে রান পেয়েছিলেন। কেবলমাত্র ইয়র্কশায়ারের অ্যাডাম লিথ নিয়মিতভাবে খেলে তাঁর তুলনায় এগিয়েছিলেন। ইংল্যান্ডের দল নির্বাচকমণ্ডলীর সদস্য অ্যাঙ্গাস ফ্রেজার এক পর্যায়ে মন্তব্য করেন যে, ‘এড জয়েস এখনো ইংল্যান্ড দলে খেলার যোগ্য। টেস্ট দলে অ্যালাস্টার কুকের সাথে উদ্বোধনী জুটিতে খেলার বিষয়ে জোড়ালোভাবে বিবেচিত হচ্ছেন।’ ২০১৫ সালে বিস্ময়করভাবে সাসেক্স দল অবনমনের কবলে পড়লে নেতৃত্ব থেকে অব্যাহতি নেন ও লুক রাইটকে সকল স্তরের ক্রিকেটের দায়িত্ব ভার দেয়া হয়।
২০১৬ সাল শেষে সাসেক্সে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুর্ভাবনা থাকায় ও আয়ারল্যান্ডে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের প্রচলন ঘটলে দল ত্যাগ করেন। ঐ মৌসুমে ডার্বিতে ডার্বিশায়ারের বিপক্ষে ২৫০ রানের নতুন ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েন। সাসেক্স ও আয়ারল্যান্ডের মধ্যকার আর্থিক সুবিধা গ্রহণের খেলার জন্যে মনোনীত হন। শার্কসের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ড দল ছয় উইকেটে জয় পায় ও তিনি নয় রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইংল্যান্ডের কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়ে উপর্যুপরী সাত মৌসুম সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন।
এক পর্যায়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট অভিষেকের আশা ছেড়ে দিয়ে আয়ারল্যান্ডে চলে আসেন ও আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন শুরু করেন। আয়ারল্যান্ডের পক্ষে পাঁচ বছরের অধিক সময় সর্বশেষ খেলায় অংশগ্রহণের পর অক্টোবর, ২০১০ সালে বিশ্বকাপ পূর্ববর্তী সফরে দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। অল্প কিছুদিন পরই আইসিসি থেকে ফেব্রুয়ারি, ২০১১ সালে ঐ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্যে জন্মসূত্রে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার বিশেষ অনুমতি লাভ করেন। এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন যে, ‘খেলার মূল আকর্ষণ টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যেই মূলতঃ ইংল্যান্ডের পক্ষে অংশ নিয়েছিলেন। তবে, জন্মসূত্রে আইরিশ হবার সুবাদে টেস্ট ক্রিকেটে আয়ারল্যান্ডের সফলতায় নিজেকে সঁপে দেয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।’
২০১৫ সালের বিশ্বকাপে নিজস্ব স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়ে দলের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে অর্ধ-শতক হাঁকিয়েও দলের বিজয়ে অংশ নেন। উভয়ক্ষেত্রেই বড় ধরনের বিপর্যয় হিসেবে পরিচিতি পায়।
২০০৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে একটিমাত্র টেস্ট, ৭৮টি ওডিআই ও ১৮টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। তন্মধ্যে, আয়ারল্যান্ডের পক্ষে এক টেস্ট, ৬১ ওডিআই ও ১৬টি টি২০আই এবং ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৭টি ওডিআই ও দুইটি টি২০আইয়ে অংশ নেন।
২০১৩ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে ব্যক্তিগত সেরা অপরাজিত ১১৬ রানের ইনিংস উপহার দেন। ৭৮টি ওডিআই থেকে ৩৮.০০ গড়ে ২৬২২ রান তুলেন। তন্মধ্যে, আয়ারল্যান্ডের পক্ষে ৬১টি ওডিআই থেকে ৪১.৩৬ গড়ে পাঁচ শতক সহযোগে ২১৫১ রান তুলে পঞ্চম সর্বাধিক রান সংগ্রাহকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এছাড়াও, ২০০৬ থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে ইংল্যান্ডের পক্ষে ১৭টি ওডিআই থেকে ২৭.৭০ গড়ে ৪৭১ রান সংগ্রহ করেন। সব মিলিয়ে ২৫৫টি প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ৪৭ শতক সহযোগে ৪৭.৯৫ গড়ে রান তুলেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৫০ রানের ইনিংস খেলেন।
২০১৮ সালে নিজ দেশে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ১১ মে, ২০১৮ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বয়েড র্যাঙ্কিন বাদে অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে ৪ ও ৪৩ রান তুলেন। এরফলে দলের সংগ্রহ ৩৩৯ রান হয় ও আয়ারল্যান্ডকে খেলায় জয়লাভের স্বপ্ন দেখায়। তবে, ঐ টেস্টে কেভিন ও’ব্রায়ানের বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও তাঁর দল ৫ উইকেটে পরাজিত হয়।
আয়ারল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে অংশ নেয়ার মাত্র এক সপ্তাহ পরই মে, ২০১৮ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড কর্তৃক তিন-বছর মেয়াদে আয়ারল্যান্ড মহিলা ক্রিকেট দলের স্থায়ীভাবে প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন।
তাঁর সম্পর্কে জেরার্ড সিগিন্স ও জেমস ফিটজেরাল্ড ‘আয়ারল্যান্ডস হান্ড্রেড ক্রিকেট গ্রেটস’ শীর্ষক গ্রন্থে মন্তব্য করেছেন যে, সন্দেহাতীতভাবে তিনি আয়ারল্যান্ডের সেরা ব্যাটসম্যান ও তিনি তাঁর সময়কালে সেরা ক্রিকেটারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। উপর্যুপরী সাত মৌসুমে ইংরেজ ক্রিকেটে সহস্র রানের মাইলফলক স্পর্শের বিষয়ে অল আউট ক্রিকেট সাময়িকী মন্তব্য করে যে, সেরা কাউন্টি ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট খেলার সুযোগ পাননি।
