|

খুররম শাহজাদ

২৫ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে মান্ডি ভাউদ্দিনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে থাকেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্টে অংশ নিয়েছেন।

২০১৭-১৮ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে হাবিব ব্যাংক লিমিটেডের পক্ষাবলম্বন করছেন। এছাড়াও, পেশাওয়ার জালমি ও কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের পক্ষে খেলেছেন। ৯ অক্টোবর, ২০১৭ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত হাবিব ব্যাংক বনাম লাহোর ডব্লিউ’র মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০২৩-২৪ মৌসুম থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্টে অংশ নিচ্ছেন। ঐ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ২০২৩ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। আমির জামালের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ২/৮৩ ও ৩/৪৫ লাভ করেন। এছাড়াও ব্যাট হাতে ৭ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। তবে, মিচেল মার্শের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে ঐ খেলায় তাঁর দল ৩৬০ রানে পরাজয়বরণ করেছিল ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। তবে, ঐ টেস্টে পিঠের আঘাতের কবলে পড়লে সিরিজের বাদ-বাকী টেস্টে অংশ নিতে পারেননি।

২০২৪ সালে নিজ দেশে নাজমুল হোসেন শান্ত’র নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২১ মার্চ, ২০২৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ের সুযোগ পেয়ে ৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। তাসত্ত্বেও, মুশফিকুর রহিমের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১১ ও ৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। এছাড়াও, ৩/৭৫ ও ১/৪৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এইডেন মার্করামের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১২ রান অতিক্রম করেন। দ্বিতীয় ইনিংসে এ সফলতাকে আরও ছাঁপিয়ে যান। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১৪ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ১৪ ও ১৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১২৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। রায়ান রিকেলটনের দূর্দান্ত দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৬ সালে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ১৬ মে, ২০২৬ তারিখে সিলেটে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ৪/৮১ ও ৪/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, লিটন দাসের অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ৭৮ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

সম্পৃক্ত পোস্ট