১১ জুলাই, ১৯৯৬ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলছেন। উইকেট-রক্ষণের পাশাপাশি বামহাতে ব্যাটিং করেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
সেন্ট স্টিদিয়ান্স কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। অনূর্ধ্ব-১৩ পর্যায়ের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। জাতীয় সপ্তাহে অনূর্ধ্ব-১৫ পর্যায়ে সেরা খেলোয়াড় ছিলেন। গটেং ও দক্ষিণ আফ্রিকার অনূর্ধ্ব-১৯ দলে খেলেছেন।
২০১৫-১৬ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে গটেং ও লায়ন্স কাবস এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে নর্দাম্পটনশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, জজি স্টার্সের পক্ষে খেলেছেন। ৫ নভেম্বর, ২০১৫ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত গটেং বনাম নর্দার্নসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। অভিষেক ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিলেও পরবর্তী ইনিংসগুলো দূর্দান্ত ও সাহসী ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এরপর থেকে দলে স্থায়ী সদস্যের আসন গাড়েন।
গটেংয়ের পক্ষে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতায় দলের শীর্ষস্থানীয় রান সংগ্রাহকে পরিণত হন। তন্মধ্যে, ২০১৭-১৮ মৌসুমের সিএসএ প্রভিন্সিয়াল ওয়ান-ডে চ্যালেঞ্জে ৩৫১ রান ও একই মৌসুমের সানফয়েল থ্রি-ডে কাপে ৫৬২ রান তুলেছিলেন। জুন, ২০১৮ সালে হাইভেল্ড লায়ন্সের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এছাড়াও, জুলাই, ২০১৮ সালে ক্রিকেট সাউথ আফ্রিকা এমার্জিং দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। খুব সহজে অর্ধ-শতরানের কোটা স্পর্শ করলেও ইনিংসগুলোকে বড় ধরনের দিকে নিয়ে যেতে পারেননি।
২০২০-২১ মৌসুমের ইংরেজ কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের প্রথম বিভাগে নর্দাম্পটনশায়ারের পক্ষে দূর্দান্ত খেলেন। দলটির পক্ষে আট ইনিংসে দুই শতক ও ছয়টি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেলে ৫৩৯ রান তুলেন।
২০২২ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০২১-২২ মৌসুমে নিজ দেশে মমিনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ৩১ মার্চ, ২০২২ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। লিজাড উইলিয়ামসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। রাসি ফন দার ডুসেন ও এইডেন মার্করামের আইপিএলে ব্যস্ততার কারণে তিনি খেলার সুযোগ পান। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামলেও তেম্বা বাভুমা’র পর টেস্টে পাঁচ নম্বর অবস্থানে খেলেন। রিভার্স সুইপের মাধ্যমে প্রথম বল মোকাবেলা করেন। খেলায় তিনি ২১ ও ৩৯* রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে জড়িত ছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৮ এপ্রিল, ২০২২ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৪২ ও ১২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে তাইজুল ইসলামের বলে বিদেয় নেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৩৩২ রানে পরাজিত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ৭ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেশব মহারাজের দূর্দান্ত বোলিংশৈলী প্রদর্শন স্বত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
২০২৪-২৫ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে এইডেন মার্করামের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে বাংলাদেশ গমন করেন। ২১ অক্টোবর, ২০২৪ তারিখে মিরপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৭ ও ১* রান সংগ্রহ করেন। কাইল ভেরিনের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই মৌসুমে নিজ দেশে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। কয়েকবার ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ১০১ রান অতিক্রম করেন। এ পর্যায়ে ১৪৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৫৯ রান সংগ্রহ করেন। তাঁর দূর্দান্ত দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভের পাশাপাশি ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২৫-২৬ মৌসুমে তেম্বা বাভুমা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২২ নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে ৩৫ রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। মার্কো জানসেনের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে সফরকারীরা ৪০৮ রানের বিশাল জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
