| |

মোহাম্মদ আকরাম

১০ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৪ তারিখে পাঞ্জাবের ইসলামাবাদে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।

দীর্ঘদেহী ডানহাতি ফাস্ট-মিডিয়াম বোলার মোহাম্মদ আকরাম উইকেটে দর্শনীয় বাউন্স সহযোগে বোলিং করতেন। ওয়াসিম আকরাম ও ওয়াকার ইউনুসের ন্যায় প্রতিভাবান বোলারসহ উদীয়মান শোয়েব আখতারমোহাম্মদ সামি’র কারণে তাঁকে টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্যরূপে ঠাইঁ করে নিতে যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছে। তবে, বিকল্প বোলার হিসেবে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। কিন্তু, তাঁর ব্যাটিং ও ফিল্ডিং বেশ জবুথবু ছিল।

১৯৯২-৯৩ মৌসুম থেকে ২০০৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে অ্যালাইড ব্যাংক ও রাওয়ালপিন্ডি এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে এসেক্স, নর্দাম্পটনশায়ার, সারে ও সাসেক্স দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৯৫ থেকে ২০০১ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও ২৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১/৪২ ও ২/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মুত্তিয়া মুরালিধরনের বোলিংশৈলীতে স্বাগতিকরা ৪২ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

অল্প কিছুদিন পর একই সফরে ২৯ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৫ তারিখে গুজরানওয়ালায় একই দলের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০০০-০১ মৌসুমে ইনজামাম-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৭ মার্চ, ২০০১ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ০/১০৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১* ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ড্যারিল টাফি’র দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৮৫ রানে জয়লাভ করলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৯৫ সালে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে ইংরেজ কাউন্টি দল নর্দান্টসের পক্ষাবলম্বন করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্য কার্টলি অ্যামব্রোসের বিদেশ সফরের কারণে স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন তিনি। ওয়াল্থামস্টো’র অ্যাংলো-পাকিস্তানী রমণীকে বিয়ে করেন ও ইংল্যান্ডে বসবাস করতে থাকেন। ২০০৩ ও ২০০৪ সালে এসেক্স ও সাসেক্স দলে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নেন। পরবর্তীতে, তিন বছরের চুক্তিতে সারে দলে খেলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। আগস্ট, ২০১২ সালে পাকিস্তানের বোলিং কোচ হিসেবে নিযুক্তি লাভ করেন। ২০১৩ সালে ওয়াসিম আকরামের সাথে করাচীভিত্তিক ন্যাশনাল একাডেমির ফাস্ট বোলিং ক্যাম্প পরিচালনা করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট