|

টারিসাই মুসাকান্দা

৩১ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে মাসভিঙ্গো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। শীর্ষসারির ব্যাটসম্যান। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও ডানহাতে মিডিয়াম কিংবা ডানহাতে স্লো-মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী। জিম্বাবুয়ের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

দ্রুততার সাথে মারমুখী ভঙ্গীমায় ব্যাটিং করতে পারেন। প্রিন্স এডওয়ার্ডে অধ্যয়ন করেছেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করার বিষয়টি খুব সহজে হয়নি। বিদ্যালয় পর্যায়ের ক্রিকেটে বেশ কয়েকটি বড় ধরনের ইনিংস খেলেন। ফলশ্রুতিতে, ২০১২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ পান। তাসত্ত্বেও ঐ আসরে জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধিত্ব করা থেকে বঞ্চিত হন। ১৯ বছর বয়সে ২০১৪ সালে পেশাদারী পর্যায়ে অভিষেক ঘটে। একই সালে আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় জিম্বাবুয়ের পক্ষে খেলেছিলেন।

কিছুকাল ক্রিকেট থেকে বিরত থাকেন ও রাগবি খেলার দিকে মনোযোগী হন। বিদ্যালয় দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রাভেন উইক রাগবি প্রতিযোগিতার ন্যায় বিদ্যালয় পর্যায়ের অন্যতম বৃহৎ আসরে অংশ নেন। এরপর পুণরায় ক্রিকেটের দিকে নজর দেন। ২০১৩-১৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর জিম্বাবুয়ীয় ক্রিকেটে মিড ওয়েস্ট রাইনোসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮ মার্চ, ২০১৪ তারিখে কেউইকেউইয়ে অনুষ্ঠিত মিড ওয়েস্ট রাইনোস বনাম ম্যাশোনাল্যান্ড ঈগলসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রমাগত ধারাবাহিকতা রক্ষার স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৬ সালে জিম্বাবুয়ের ওডিআই দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।

২০১৬ সাল থেকে জিম্বাবুয়ের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে উপুল থারাঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কা দলের মুখোমুখি হন। ২৭ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে বুলাওয়েতে ত্রি-দেশীয় সিরিজের চূড়ান্ত খেলায় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেলেন। তিন নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নামেন। ২৩ বছর বয়সে প্রথমবারের মতো খেলতে নেমে ৩৭ বলে ৩৬ রান তুলেন ও দলের শীর্ষ রান সংগ্রাহক হন।

তবে, ১৪ জুলাই, ২০১৭ তারিখে কলম্বোয় একই দলের বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকে মাত্র ৬ রান তুলতে পেরেছিলেন। এ পর্যায়ে ২০১৭ সালে গ্রায়েম ক্রিমারের নেতৃত্বে দলের সাথে শ্রীলঙ্কা সফরে যান ও সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। স্বাগতিক দল ৪ উইকেটে জয়লাভ করে। পরবর্তী দুই বছর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার জন্যে জিম্বাবুয়ে দলের নিয়মিত সদস্য হতে পারেননি। এরপর থেকে সকল স্তরের ক্রিকেটে জিম্বাবুয়ের প্রতিনিধিত্ব করছেন।

যুক্তরাজ্যের ডেভনে প্রথমবারের মতো গ্রীষ্মকাল অতিবাহিত করেন। প্রথম বিভাগ প্রতিযোগিতায় বাডলেই সল্টারটন সিসির পক্ষে যুক্ত হন। ৭৬.৯১ গড়ে ৮৪৬ রান তুলে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী উপহার দেন। ব্যক্তিগত সেরা ১২৪ রান তুলেন। এছাড়াও, ২১.৩১ গড়ে ২৯ উইকেট পেয়েছেন। ব্যক্তিগত সেরা ৫/৩৩ বোলিং পরিসংখ্যান দাঁড় করিয়েছিলেন। ২০১৯-২০ মৌসুমে অস্ট্রেলিয়ায় নিউ সিটি ফোনিক্স সিসি ও ২০১৮-১৯ মৌসুমে অ্যালবারি-উডুঙ্গার পক্ষে খেলেছিলেন।

২০২০-২১ মৌসুমে বাবর আজমের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান দলের মুখোমুখি হন। ৭ মে, ২০২১ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৪৭ রানে সফরকারীরা জয়লাভ করে।

সম্পৃক্ত পোস্ট