৬ অক্টোবর, ১৯৮৪ তারিখে ট্রান্সভালের ভেরিনিগিং এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৬ ফুট ৫ ইঞ্চি (১.৯৬ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। ক্রিকেটপ্রিয় পরিবারের সন্তান। বিদ্যালয় ও স্থানীয় পর্যায়ে ক্রিকেট খেলে বেশ সাড়া জাগান। ডেল স্টেইন ও ভার্নন ফিল্যান্ডারের সাথে বিশ্ব ক্রিকেট অঙ্গনে সেরা ভীতিদায়ক বোলিং কর্মের সাথে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছিলেন। ২০০৩-০৪ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ইস্টার্নস ও টাইটান্স এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্ট ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, ব্রিসবেন হিট, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কলকাতা নাইট রাইডার্স, রাজস্থান রয়্যালস, পার্থ স্কর্চার্স, সেন্ট লুসিয়া জুকস, আফ্রিকা একাদশ ও বিশ্ব একাদশের পক্ষে খেলেছেন।

১৯ বছর বয়সে ৯ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে বেনোনিতে ইস্টার্নসের সদস্যরূপে স্বীয় ভ্রাতা আলবি মরকেলকে সাথে নিয়ে সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান একাদশের বিপক্ষে খেলার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। কেন্টের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। এরপর, ইয়র্কশায়ারে চলে যান। ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে রাজস্থান রয়্যালস, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস ও কলকাতা নাইট রাইডার্সের পক্ষে খেলেন। আইপিএলের পঞ্চম আসরে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে ১৬ খেলায় অংশ নিয়ে ২৫ উইকেট দখল করেন। এরফলে, পার্পল ক্যাপ লাভ করেন। ২০০৪ থেকে ২০২০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ তারিখে আইপিএলের নিলামের চূড়ান্ত তালিকায় ২২জন বিদেশী খেলোয়াড়ের অন্যতম হিসেবে শন মার্শকোরে অ্যান্ডারসনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

২০০৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ৮৬ টেস্ট, ১১৭টি ওডিআই ও ৪৪টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২০০৬-০৭ মৌসুমে নিজ দেশে রাহুল দ্রাবিড়ের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ২০০৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। আঘাতের কবলে পড়া ডেল স্টেইনের স্থলাভিষিক্ত হয়েছিলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩১* ও ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৮৬ ও ০/২৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মাখায়া এনটিনি’র দূর্দান্ত বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৭৪ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সক্ষম হয়।

এরপর থেকে খুব দ্রুত দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ে পরিণত হন। ছয় মাস পর ৬ জুন, ২০০৭ তারিখে বেঙ্গালুরুতে আফ্রিকা একাদশের সদস্যরূপে এশিয়া একাদশের বিপক্ষে একদিনের আন্তর্জাতিক প্রথম খেলার সুযোগ পান।

২০০৮-০৯ মৌসুমে নিজ দেশে মোহাম্মদ আশরাফুলের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশী দলের মুখোমুখি হন। ২৬ নভেম্বর, ২০০৮ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত সফররত বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে মাশরাফি মর্তুজা’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, ৪/৭৩ ও ২/২১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, অ্যাশওয়েল প্রিন্সের অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে ইনিংস ও ৪৮ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

একই মৌসুমে প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৭ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজে উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২/৮০ ও ১/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

অক্টোবর, ২০০৮ সালে স্বীয় ভ্রাতা আলবি মরকেলের সাথে একত্রে সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেট অ্যানুয়েল কর্তৃক বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। এরফলে, ৫৬ বছরের মধ্যে প্রথম ঘটনা হিসেবে তাঁরা নিজেদের চিত্রিত করেন। ২০১৭ সালে টেস্টে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ এবং ২০০৯-১০ ও ২০১১-১২ মৌসুমে দুইবার ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। এছাড়াও, ওডিআইয়ে ২০১০-১১ মৌসুমে একবার প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ লাভ করেন।

২০০৯-১০ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যান্ড্রু স্ট্রসের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে জেমস অ্যান্ডারসনের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৭৫ ও ১/৫১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলনায়ক গ্রায়েম স্মিথের আপ্রাণ প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।

এরপর, ১৪ জানুয়ারি, ২০১০ তারিখে জোহানেসবার্গের ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। দূর্দান্ত ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৩৯ ও ৪/৫৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৭৪ রানে জয় পেলে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। ডেল স্টেইনের সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১০ সালে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১০ জুন, ২০১০ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/১৯ ও ২/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২ রান সংগ্রহ করেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ অল-রাউন্ড সাফল্যে স্বাগতিকরা ১৬৩ রানে পরাজয়বরণ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০১০-১১ মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১১ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৮ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/১০৬ ও ১/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়।

২০১১-১২ মৌসুমে প্রথমবারের মতো মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের অন্যতম সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ৭ মার্চ, ২০১২ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ৩ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ৫০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৫২ ও ০/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর বদান্যতায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৩ মার্চ, ২০১২ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে সিএফকে ফন উইককে বিদেয় করে টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/২০। খেলায় তিনি ০/৫৪ ও ০/২৩ লাভ করেন। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান।

মাখায় এনটিনি’র অবসর গ্রহণের পর থেকে নতুন বল নিয়ে বোলিং আক্রমণ কার্য পরিচালনার সুযোগ পান। ছন্দে থাকাকালে পেস ও বাউন্সের অপূর্ব সমন্বয়ে খেলতেন এবং তিনি দুর্নিবার হয়ে পড়তেন। আঘাত তাঁর নিত্যসঙ্গী হয়ে পড়লেও যথাসম্ভব ভালোমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হতেন। নিচেরসারির মারকুটে ব্যাটিংয়েও সুখ্যাতি কুড়ান এবং সময়ে-সময়ে দলের অমূল্য খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিতি ঘটাতেন। দক্ষিণ আফ্রিকার বিজয়ে অসাধারণ ভূমিকা রাখেন ও এক পর্যায়ে বিশ্বের অন্যতম সেরা বোলার হিসেবে বিবেচিত হন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজস্ব ৫০তম টেস্টে অংশ নেন।

২০১৩-১৪ মৌসুমে গ্রায়েম স্মিথের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবক দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ১৪ অক্টোবর, ২০১৩ তারিখে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত পাকিস্তানী দলের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৩৫ ও ০/১২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাটিংয়ে নেমে ২* ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, খুররম মঞ্জুরের শতকের কল্যাণে পাকিস্তান দল ৭ উইকেটে জয়লাভ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১৪ সালে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ বছর হাশিম আমলা’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ের গমন করেন। ৯ আগস্ট, ২০১৪ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৩৯ ও ৩/১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। অভিষেক ঘটা ডেন পাইতের বোলিং কল্যাণে সফরকারীরা ৯ উইকেটে জয় পায়।

২০১৪-১৫ মৌসুমে নিজ দেশে দিনেশ রামদিনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২ জানুয়ারি, ২০১৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে এসজে বেনের দ্বিতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ৩৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ২/৮৩ ও ২/১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, এবি ডি ভিলিয়ার্সের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে জয় পায়। ঐ সিরিজে দলীয় অধিনায়ক হাশিম আমলা’র দূর্দান্ত ব্যাটিংশৈলীতে তাঁর দল ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করেছিল।

২০১৫-১৬ মৌসুমে নিজ দেশে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২২ জানুয়ারি, ২০১৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৭৩ ও ৩/৩৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে বেন স্টোকসের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। কাগিসো রাবাদা’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ২৮০ রানে জয়লাভ করলেও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ৪১১ রান সংগ্রহসহ ১২ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৬-১৭ মৌসুমে ফাফ ডু প্লিসি’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড গমন করেন। ১৬ মার্চ, ২০১৭ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪০ রানের সমকক্ষ হন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৮২ ও ৩/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কেশব মহারাজের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ২৫ মার্চ, ২০১৭ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে টিডব্লিউএম ল্যাথামের প্রথম উইকেট লাভ করে টেস্টে ২৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। বল হাতে নিয়ে ৪/১০০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯* রান সংগ্রহ করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।

২০১৭ সালে ডিন এলগারের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ৪ আগস্ট, ২০১৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ২০ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/৯২ ও ৪/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যের কল্যাণে সফরকারীরা ১৭৭ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পরাভূত হয়। ৭৮ রান সংগ্রহসহ ১৯ উইকেট দখল করে মঈন আলী’র সাথে যৌথভাবে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

২০১৭-১৮ মৌসুমে নিজ দেশে টিম পেইনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজ চলাকালে বিস্ময়করভাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

একই সফরের ৩০ মার্চ, ২০১৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৩৪ ও ২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে প্যাট কামিন্সের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ৪৯২ রানে জয় পেলে ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। রোজ কেলি নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট