১০ মার্চ, ১৯৯০ তারিখে পাঞ্জাবের শিয়ালকোটে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখছেন। ডানহাতে মিডিয়াম-ফাস্ট বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামেন। পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন।
পাঞ্জাব প্রদেশের সামব্রিয়ালের অদূরবর্তী ছোট্ট গ্রাম জাতেকিতে জন্মগ্রহণ করেন। কৈশোর জীবনের শুরুতে ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করাসহ শিয়ালকোটভিত্তিক আইনী প্রতিষ্ঠানের সহকারী হিসেবে কাজ করেছেন। পরবর্তীতে, চামড়ার কারখানায়ও কাজ করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে ইসলামাবাদ, খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজ, পাকিস্তান টেলিভিশন, রাওয়ালপিন্ডি, শিয়ালকোট, সাউদার্ন পাঞ্জাব, সুই গ্যাস কর্পোরেশন অব পাকিস্তান, সুই নর্দার্ন গ্যাস পাইপলাইন্স লিমিটেড এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে লিচেস্টারশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মুলতান সুলতান্স ও শিয়ালকোট স্ট্যালিয়ন্সের পক্ষে খেলেছেন।
২০০৯ সালের শুরুরদিকে আঞ্চলিক দল শিয়ালকোটের পক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথম অংশ নেন। ঐ মৌসুমে দলটি কায়েদ-ই-আজম ট্রফি প্রতিযোগিতার শিরোপা জয় করে। ২০০৮-০৯ মৌসুমে তিন খেলায় অংশ নিয়ে ৩২ গড়ে কেবলমাত্র চার উইকেট দখল করেছিলেন। দুইটি ঘরোয়া মৌসুম সফলতার সাথে সম্পন্ন করার পর ২০১৬ সালেই কেবল নিজের প্রতিশ্রুতিশীলতার কথা জানান দেন। ২০১৫-১৬ মৌসুমে ঘরোয়া প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ উইকেট সংগ্রাহকে পরিণত হন। খান রিসার্চ ল্যাবরেটরিজের পক্ষে ১০ খেলায় অংশ নিয়ে আশাব্যঞ্জক ১৬.৭৮ গড়ে ৬১ উইকেট পেয়েছিলেন।
২০১৬-১৭ মৌসুমে পুণরায় সর্বোচ্চ উইকেট লাভ করে জাতীয় দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টি আকর্ষণে সক্ষমতা দেখান। ১২.৭৪ গড়ে ৭১ উইকেট পেয়েছিলেন। ঘরোয়া একদিনের প্রতিযোগিতা ডিপার্টমেন্টাল ওয়ান ডে কাপে ১৫ উইকেট দখল করেন। এরফলে, জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির প্রশ্নে নিজেকে আরও এগিয়ে নিয়ে যান।
২০১৭ সাল থেকে পাকিস্তানের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিচ্ছেন। খেলায় সফলতা লাভসহ শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখার কারণে ২০১৭ সালে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমনার্থে পাকিস্তান দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। দলীয় অধিনায়ক মিসবাহ-উল-হক তাঁকে টেস্ট ক্যাপ প্রদান করেন। ২১ এপ্রিল, ২০১৭ তারিখে কিংস্টনের সাবিনা পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজস্ব দ্বিতীয় বলেই টেস্ট ক্রিকেটে সফলতা পান। ক্রেগ ব্রাদওয়েটকে শূন্য রানে বিদেয় করেন। ১/৬৩ ও ২/৩৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে এক রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন ও একটি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছিলেন। তবে, ইয়াসির শাহের দূরন্ত বোলিংশৈলীর সুবাদে খেলায় তাঁর দল ৭ উইকেটে জয় পায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০১৮ সালে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। পুরো সিরিজে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ১ জুন, ২০১৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণের পাশাপাশি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, ১* ও ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জোস বাটলারের ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। এ সিরিজে ১০ উইকেট লাভ করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০১৮-১৯ মৌসুমে সরফরাজ আহমেদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে পুরো সিরিজে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হয়েছিলেন। ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে আবুধাবিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অপূর্ব বোলিংশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। ৫/৩৩ ও ৫/৬২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ১০ ও ০* রান সংগ্রহ করেছেন। তাঁর অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে পাকিস্তান দল ৩৭৩ রানে জয় পেয়ে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। খেলায় তিনি ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার পান। পাশাপাশি, এ সিরিজে ১৭ উইকেট দখল করে তিনি ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।
২০২১ সালে বাবর আজমের অধিনায়কত্বে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ গমন করেন। ২০ আগস্ট, ২০২১ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৩/৪৪ ও ০/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, শাহীন শাহ আফ্রিদি’র দূর্দান্ত বোলিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১০৯ রানে জয় পেয়ে অমিমাংসিত অবস্থায় সিরিজটি শেষ করতে সক্ষম হয়।
২০২৪-২৫ মৌসুমে শান মাসুদের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নের সুপারস্পোর্ট পার্কে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসে সি বসকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ৫/৩৩। খেলায় তিনি ১/৭৯ ও ৬/৫৪ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১০* ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এইডেন মার্করামের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার ছাঁপ রাখেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে কেটি মাফাকা’র তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৯৪ ও ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে ০* রান করে সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। রায়ান রিকলটনের দূর্দান্ত দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
