১৫ জুলাই, ১৯৩৯ তারিখে তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের পেশাওয়ারে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। পাকিস্তানের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

ঝাঁকুনি সহকারে অফ-স্পিন বোলিং করতেন ও বলকে বড় ধরনের বাঁক খাওয়াতে পারতেন। ১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৬২-৬৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর পাকিস্তানী ক্রিকেটে করাচী, পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স ও পেশাওয়ার ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬২ সময়কালে পাকিস্তানের পক্ষে সব মিলিয়ে ১২ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ঐ টেস্টগুলো ৪৯.২৫ গড়ে ২৭ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৫৭-৫৮ মৌসুমে আব্দুল কারদারের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের সাথে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১৭ জানুয়ারি, ১৯৫৮ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। নাসিম-উল-গণিসাঈদ আহমেদের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ০/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিং করার সুযোগ পেয়ে ১* রানে অপরাজিত ছিলেন। তবে, হানিফ মোহাম্মদের ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

ইংল্যান্ড সফরে টেস্টে বল নিক্ষেপের কারণে নো-বল ডাকার সম্ভাবনা ব্যক্ত করলে কোন বোলিং করেননি। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। বোম্বেতে সিরিজের প্রথম টেস্ট খেলার জন্যে তাঁকে দলে রাখা হয়েছিল। বল ছুঁড়ে মারার অভিযোগ আনা হয়। পরবর্তীতে, মাদ্রাজে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং পরিসংখ্যান গড়েন। এ পর্যায়ে ভারত দল ৫৩৯ রানের পর্বতসম ইনিংস দাঁড় করায়। তিনি ৮৪-১৯-২০২-৬ বোলিং বিশ্লেষণ করেছিলেন।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে নিজ দেশে টেড ডেক্সটারের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬২ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৮ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও লাহোরে অনুষ্ঠিত প্রথম টেস্টে জয়ের সুবাদে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

১৯৬২ সালে জাভেদ বার্কি’র নেতৃত্বে পাকিস্তানী দলের সাথে ইংল্যান্ডে ফিরতি সফরে যান। তবে, এ সফরের শুরুতে তাঁকে দেশে ফেরৎ পাঠানো হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর পায়ের আঘাত উল্লেখ করা হলেও ক্রিকেট বিশ্লেষকদের অভিমত, অধিনায়কের সাথে মতবিরোধ ও তাঁর বোলিং ভঙ্গীমার বিষয়ে নেতিবাচক প্রতিবেদনের কারণেই এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল।

অল্প কিছুদিন পরই প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণ করেন ও ব্যবসায় পরিচালনায় অগ্রসর হন। এক পর্যায়ে ব্রিটেনে পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্সের মহাব্যবস্থাপক হন ও ক্রিকেট প্রশাসনে জড়িয়ে পড়েন। বিচক্ষণতার সাথে দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। তাঁর সময়কালে ওয়াসিম আকরামের প্রতিভার বিচ্ছুরণ ঘটে।

১৯৮৭ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে ইমরান খানের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানের দলীয় ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে পূর্ববর্তী খেলাগুলোয় ডেভিড কনস্ট্যান্ট ও কেন পালমারের ক্রমাগত ভুলের কারণে টেস্ট আম্পায়ারদের নামের তালিকা থেকে বাদ দেয়ার দাবী জানান। ইংরেজ কর্তৃপক্ষ তা মানতে রাজী না হলে তিক্ততাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে। জাভেদ মিয়াঁদাদের মতে, ‘তিনি এ দায়িত্বের উপযোগী ছিলেন।’

৮ মার্চ, ২০১৩ তারিখে করাচীতে ৭৩ বছর ২৩৬ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট