৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৪৪ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার মাউন্ট ললি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৭০-এর দশকের সূচনালগ্নে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেছিলেন।

মাউন্ট ললিতে জন্মগ্রহণ করলেও করিগিনে শৈশবকাল অতিবাহিত করেছেন। সেখানে তাঁর পিতা দোকান পরিচালনা করতেন। ১৮ বছর বয়সে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন মাঠে ইংরেজ অধিনায়ক টেড ডেক্সটারকে অনুশীলনীতে গুগলি বলে বিমোহিত করেছিলেন। লেগ-স্পিনারদের পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন। আলঙ্করিকভাব আনয়ণসহ বুদ্ধিমত্তা সহযোগে বল ফেলা ও ধৈর্য্যশীলতার সমাহারের বিষয়ে তাঁর জুড়ি মেলা ভার ছিল। স্পিনের শৈল্পিকসত্তায় গতির সামঞ্জস্যতা বজায় রাখতেন। লেগ-স্পিনে বৈচিত্র্যতা আনতেন।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুম থেকে ১৯৭৬-৭৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কেমব্রিজশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। চার মৌসুম ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ায় সাধারণমানের ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের পর সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানে আরও দশ মৌসুম খেলেছিলেন।

১৯৭০ থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও একটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭০-৭১ মৌসুমে নিজ দেশে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ নভেম্বর, ১৯৭০ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। রড মার্শ ও অ্যালান থমসনের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বেশ ঘাবড়ে গিয়েছিলেন। তবে, জন এডরিচজিওফ বয়কটের মূল্যবান উইকেট লাভে সক্ষম হন। খেলায় তিনি ১/৮৬ ও ১/৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

পরের চার টেস্টে বাদ পড়েন। সিডনিতে সিরিজ নির্ধারণী টেস্টে সাহসী চিত্তে ব্যাটিং করেন। জন স্নো’র বলে মাথায় চোট পেলে সাময়িকভাবে রিটায়ার হার্ট হন। পরবর্তীতে ৩০ রান তুলেন। কিন্তু তাঁর দল অ্যাশেজে পরাজিত হয়।

১৯৭০-৭১ মৌসুমে নিজ দেশে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের সপ্তম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৪২ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৩০ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ৬১ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭২-৭৩ মৌসুমে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ২১ এপ্রিল, ১৯৭৩ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৭* ও ১১* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৫/৯০ ও ১/৩৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ডেনিসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৪ ও ১৪* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৮ ও ১/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৬৩ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/১৫ ও ২/৭৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, গ্রেগ চ্যাপেলের জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিংয়ের দিকে ধাবিত হন। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে স্পিন কোচিং ক্লিনিক পরিচালনা করেছেন। সেপ্টেম্বর, ২০০৭ সালে চেন্নাইভিত্তিক এমএসি স্পিন একাডেমিতে প্রশিক্ষণ দিয়েছেন। বিখ্যাত ক্রিকেটার শেন ওয়ার্নকে আঘাত থেকে উত্তরণে পরামর্শ দিতেন।

ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। দুইবার বিয়ে করেন। দ্বিতীয় পত্নী অ্যানের গর্ভে ট্রুডিয়ান নাম্নী এক কন্যা রয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ২৫ মে, ২০১১ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ব্রাইটন এলাকায় ৬৬ বছর ২৫৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট