|

জ্যাক ইয়ং

১৪ অক্টোবর, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। দলে মূলতঃ বোলারের দায়িত্ব পালন করতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, গালি অঞ্চলে চমৎকার ফিল্ডিং করতেন। ১৯৪০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে মিডলসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩৩ থেকে ১৯৫৬ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৪৭ সালের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ী মিডলসেক্স দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। এ সময়ে ১৯.২১ গড়ে ১১৮২ উইকেট দখল করেছিলেন। ১৯৪৭ সালে চেল্টেনহামে গ্লুচেস্টারশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৯/৫২ লাভ করেন। এছাড়াও, ৮.৫৬ গড়ে ২১২৪ রান সংগ্রহ করেছেন। ১৯৪৯ সালে ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৬২ রান তুলেন। এছাড়াও, ১২৫ ক্যাচ মুঠোয় পুড়েছেন।

১৯৩০-এর দশকে কিছু সময় মিডলসেক্সের পক্ষে খেলেছিলেন। ১৯৪৬ সালে নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ে পরিণত করেন। পরের বছর চ্যাম্পিয়নশীপের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ছোটখাটো গড়নের অধিকারী হলেও বেশ শান্ত ভঙ্গীমায় বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বোলিং কৌশলে কাজ করতেন। ১৯৪৭ সালে মিডলসেক্স শিরোপা লাভ করলে ডেনিস কম্পটনবিল এডরিচের সাথে টেস্ট দলে ঠাঁই পান। আট মৌসুমে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তন্মধ্যে, ১৯৫২ সালে ১৯.৮৮ গড়ে সর্বাধিক ১৬৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৯৪৭ থেকে ১৯৪৯ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৪৭ সালে নিজ দেশে অ্যালান মেলভিলের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৬ জুলাই, ১৯৪৭ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। হ্যারল্ড বাটলারের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ০/৩১ ও ২/৫৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন ও একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

পরের বছর ১৯৪৮ সালে নিজ দেশে লিন্ডসে হ্যাসেটসমৃদ্ধ ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যানের নেতৃত্বাধীন অপরাজেয় দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুন, ১৯৪৮ তারিখে নটিংহামের ট্রেন্ট ব্রিজে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। ৬০-২৮-৭৯-১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ১০-৩-২৮-০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১* ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১৪ আগস্ট, ১৯৪৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১১৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ৩* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইনিংস ও ১৪৯ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

একবার এমসিসি দলের সদস্যরূপে বিদেশ সফরে যান। ১৯৪৮-৪৯ মৌসুমে জর্জ মানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৪৯ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৫২ ও ০/১৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

১৯৪৯ সালে নিজ দেশে ওয়াল্টার হ্যাডলি’র নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ জুন, ১৯৪৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

৪৪.৫২ গড়ে ১৭ উইকেট দখল করেন, ৫.৬০ গড়ে ২৮ রান তুলেন ও ৫টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যক্তিগত সেরা ৯/৫৫ পেয়েছিলেন। ১৯৫১ সালে হ্যাস্টিংসে ইংরেজ একাদশের সদস্যরূপে কমনওয়েলথ একাদশের বিপক্ষে এ সফলতা পান।

৩৩ বছর বয়সে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলোর কোনটিতেই দল জয় পায়নি। তবে, ১৯৫৬ সাল পর্যন্ত সফলতার সাথে কাউন্টি ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। অবশ্য শেষের বছরগুলোয় হাঁটুর সমস্যায় ভুগতেন। ৩৪১টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ১৯.৬৮ গড়ে ১৩৬১ উইকেট দখল করেছেন।

৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৩ তারিখে লন্ডনের সেন্ট জোন্স উড এলাকায় নিজ গৃহে ৮০ বছর বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। ডেনিস কম্পটন তাঁর সম্পর্কে মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘তিনি বেশ অবহেলিত বোলার ছিলেন। সেরা ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে অত্যন্ত ভালোমানের বোলিং করতেন। তিনি নিখুঁততা ও সহজে হার না মানার অধিকারী ছিলেন।’

সম্পৃক্ত পোস্ট