|

টেড অ’বেকেট

১১ আগস্ট, ১৯০৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ইস্ট সেন্ট কিল্ডায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পেশায় আইনজীবী ছিলেন। প্রতিভাবান অল-রাউন্ডার হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। মেলবোর্ন গ্রামার স্কুলে অধ্যয়নকালে ক্রিকেট, অ্যাথলেটিক্স ও অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলে পারদর্শীতা প্রদর্শন করেছিলেন। শীতকালীন ক্রীড়া হিসেবে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে ফুটবল ত্যাগ করতে বাধ্য হন। মেলবোর্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকধারী হন। এরপর, ব্যারিস্টার ও আইনজীবী হিসেবে ১৯৩৩ সালে যুক্ত হন। পরবর্তীতে মোল, হ্যামিল্টন ও ডারহামে আইন প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন।

চমৎকার ক্রীড়াবিদ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় দলের পক্ষে ফুটবলে অংশ নেন ও ক্রিকেট দলের অধিনায়কের দায়িত্বে ছিলেন। ৬ ফুট উচ্চতার অধিকারী টেড অ’বেকেট নতুন বল নিয়ে প্রাণঃবন্ত বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ব্যাটিংয়েও দক্ষতার বহিঃপ্রকাশ ঘটান ও দারুণ ফিল্ডিং করতেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুম থেকে ১৯৩১-৩২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। তন্মধ্যে, প্রথম বলেই উইকেট লাভ করেছিলেন। ভিক্টোরিয়ার পক্ষে প্রথম সাত খেলায় অল-রাউন্ডার হিসেবে দূর্দান্ত ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন।

১৯২৮ থেকে ১৯৩২ সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯২৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। রন অক্সেনহামের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। জ্যাক গ্রিগরি’র অসুস্থতার কারণে খেলার সুযোগ পান। বোলিং উদ্বোধনে নেমেছিলেন। দ্বিতীয় দিনে বেশ আত্মবিশ্বাসী মেজাজ নিয়ে ৪১ রান সংগ্রহ করেন। সপ্তম উইকেটে ২০ বছর বয়সী ডন ব্র্যাডম্যানের (৭৯) সাথে ৮৬ রানের জুটি গড়েন। এরপর, খেলা শেষ হবার পূর্বে প্রসারিত বলে ৪৫ বছর বয়সী জ্যাক হবসের ন্যায় ক্রিকেটের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যানকে বিদেয় করে নিজস্ব প্রথম উইকেটের সন্ধান পান। এটিই খেলায় তাঁর একমাত্র উইকেট ছিল। বল হাতে নিয়ে ১/৯২ ও ০/৩৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি ৪১ ও ৬ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ৩ উইকেটে জয়লাভ করলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৬ ও ২১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, উভয় ইনিংসেই জ্যাক হোয়াইটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৪ ও ১/৪১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। হার্বার্ট সাটক্লিফের উইকেট পান। স্বাগতিকরা ১২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

দুই টেস্ট থেকে ২১৬ রান খরচ করে ২ উইকেট লাভ করেন ও চার ইনিংসে ১০৪ রান তুলেন। পি. জি. এইচ. ফেন্ডারের মতে, তাঁর এ ধরনের বাজে ক্রীড়াশৈলীর কারণে অনেকেই সংক্ষুদ্ধ হয়েছিলেন। তবে, মেলবোর্নে প্যাটসি হেনড্রেনওয়ালি হ্যামন্ডের (২০০) ক্যাচ দর্শনীয়ভাবে তালুবন্দী করেছিলেন। প্রথম ক্ষেত্রে মিড-উইকেটে পুরোপুরি ঝাঁপিয়ে পড়ে ও দ্বিতীয় ক্ষেত্রে অফ স্পিনার ডন ব্ল্যাকি’র বলে মিড-অন অঞ্চল থেকে লুফে নেন। পঞ্চম টেস্টে বাদ পড়েন ও পুণরুজ্জ্বীবিত অস্ট্রেলিয়া দল বিজয়ী হয়।

তাসত্ত্বেও, ১৯৩০ সালে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন উদীয়মান তরুণদের নিয়ে গড়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ডন ব্র্যাডম্যান ও বিল পন্সফোর্ডের সাথে তিনিও ইংল্যান্ড গমনের সুযোগ পেয়েছিলেন। কিন্তু, অসুস্থতা ও আঘাতের কারণে স্বাভাবিক ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখতে পারেননি। এ সময়ে অর্থাৎ, ১৯২৯-৩০ মৌসুমে জাতীয় বোলিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। শুধুমাত্র অক্ষরক্রমে নয়; বরঞ্চ ১৪.৭১ গড়ে ২৮ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে পঞ্চদশ স্থানে অবস্থান করেছিলেন। তন্মধ্যে, অ্যাডিলেডে ভিক্টোরিয়ার পক্ষে ১৫২ রানের মূল্যবান ইনিংস উপহার দেন।

ইংল্যান্ডে তিনি কেবলমাত্র একটি টেস্টে অংশ নিতে পেরেছিলেন। হেডিংলিতে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে খেলার সুযোগ পান। ডন ব্র্যাডম্যান ৩৩৪ রানে বিদেয় নেয়ার পর মাঠে নামেন। ২৯ রান সংগ্রহ করে দলের ৫০৮/৬ ইনিংস ঘোষণায় কিঞ্চিৎ ভূমিকা পালন করেন। তবে, ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিং তেমন ফলপ্রসূ হয়নি। খেলায় ৩৯ ওভার বোলিং করে ৬৬ রান খরচে কেবলমাত্র জর্জ ডাকওয়ার্থের উইকেট পেয়েছিলেন। কিন্তু, ফিল্ডিংয়ে ঠিকই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। সিলি মিড-অন এলাকা থেকে জ্যাক হবসের ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। পুরো সফরে ২৫.২২ গড়ে ৪৫৪ রান ও ২৮.৯৬ গড়ে ২৩ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, প্রায় এক মাস অসুস্থতার কারণে মাঠের বাইরে ছিলেন। এরপর, আর একটিমাত্র টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন।

১৯৩১-৩২ মৌসুমে নিজ দেশে জক ক্যামেরনের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের বিপক্ষে খেলার সুযোগ লাভ করেন। ৩১ ডিসেম্বর, ১৯৩১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। ঐ খেলায় তেমন সফলতা পাননি। খেলায় তিনি ৬ ও ৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৯ ও ০/৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ১৬৯ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

অংশগ্রহণকৃত টেস্টগুলো থেকে ২০.৪৩ গড়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করেন ও ৩১৭ রান খরচ করে তিন উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, আইনজীবী হিসেবে নিযুক্তি লাভের ফলে বেশ আগেভাগেই প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করতে বাধ্য হন।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলাগুলো থেকে ২৯.২১ গড়ে ১৬৩৬ রান ও ২৯.১৬ গড়ে ১০৫ উইকেট দখল করেছিলেন। তন্মধ্যে, ১৯২৭-২৮ মৌসুমে সিডনিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৬/১১৯ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। সেরা ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করে খেলায় ১১৩ ও ৯৫ রান তুলেন। তবে, ১৯২৮ সালের বড়দিনে তাঁর এ কৃতিত্ব নিউ সাউথ ওয়েলসের ব্যাটসম্যান অ্যালান কিপাক্স ও হুকারের মধ্যকার ১০ম উইকেট জুটিতে সংগৃহীত ৩০৭ রানের বিশ্বরেকর্ডের কারণে ম্লান হয়ে যায়। এগারো নম্বর খেলোয়াড় হুকারকে (৬২) বিদেয় করেন।

মেলবোর্ন গ্রামার স্কুলের সাথে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন। স্কুল কাউন্সিলের সদস্য হন ও ওল্ড মেলবোর্নিয়ান্স কাউন্সিলে কাজ করেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। ইসি অ’বেকেট নামীয় সন্তানের জনক। ২ জুন, ১৯৮৯ তারিখে ভিক্টোরিয়ার টিরাং এলাকায় ৮১ বছর ২৯৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট