|

ডন ব্ল্যাকি

৫ এপ্রিল, ১৮৮২ তারিখে ভিক্টোরিয়ার বেন্ডিগো এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। পাশাপাশি, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯২০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

স্পিন ও নিখুঁত নিশানা বরাবর বল ফেলতেন। দক্ষতার সাথে মিডিয়াম থেকে স্লো-মিডিয়াম বোলিং করে বলে পেস আনতেন। মেলবোর্নভিত্তিক সেন্ট হিল্ডা সিসি’র পক্ষে খেলার পর বেশ দেরীতে বড় আসরের ক্রিকেটে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। ১৯২৪-২৫ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন। দলটির পক্ষে ২৩.৮৮ গড়ে ১৫৯ উইকেট পেয়েছিলেন। ১৯২৬-২৭ মৌসুমের প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে যে-কোন অস্ট্রেলীয় বোলারের তুলনায় অধিক বল করেন। ২৪৯৫ বল থেকে মাত্র ৮১৬ রান খরচায় ৩৩ উইকেট পান।

১৯২৮ থেকে ১৯২৯ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। সবগুলো টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯২৮ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। অটো নথলিংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়েছিল। অভিষেককালীন তাঁর বয়স ছিল ৪৬ বছর ২৫৩ দিন। এরফলে অস্ট্রেলিয়ার বয়োজ্যেষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে সর্বকালের তালিকায় নিজেকে চিত্রিত করেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ৮ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫৭ ও ২/৭০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

প্রধানতঃ অফ-স্পিন বোলিংয়ে পারদর্শীতার কারণে দলে নিজেকে ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। পেসে বৈচিত্র্যতা আনয়ণে সক্ষম ছিলেন। দ্রুততার সাথে পুরো সিরিজে বোলিং করেছেন। তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া ঐ সিরিজে ৩১.৭১ গড়ে চৌদ্দ উইকেট দখল করে শীর্ষস্থানে ছিলেন। তন্মধ্যে, মেলবোর্নে সিরিজের চূড়ান্ত টেস্টের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত সেরা ৬/৯৪ লাভ করেন। ৪৬ বছর ২৬৮ দিন বয়সে এসে পাঁচ-উইকেট লাভ করে সর্বকালের বয়োজ্যেষ্ঠদের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছেন।

১৮ এপ্রিল, ১৯৫৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার সাউথ মেলবোর্নে ৭৩ বছর ১৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট