| |

যোসেফ ভাইন

১৫ মে, ১৮৭৫ তারিখে সাসেক্সের উইলিংডন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ ছিলেন। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। লেগ-ব্রেক বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিংশৈলী প্রদর্শন করতেন। ১৯১০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অংশ নিয়েছিলেন।

বুদ্ধিমত্তা সহকারে বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। অবিরাম বোলিং করতে পারতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে সাসেক্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, লন্ডন কাউন্টির পক্ষে খেলেছেন। ১৮৯৬ থেকে ১৯২২ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। সাসেক্সের বেশ কয়েকজন পেশাদারী পর্যায়ে অংশগ্রহণকারী খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম সেরা ও সর্বাপেক্ষা জনপ্রিয় খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন।

ক্লাবে রণজিৎসিংজী’র অভিষেকের এক বছর পর ১৮৯৬ সালে সাসেক্সের পক্ষে প্রথমবারের মতো খেলায় অংশ নেন। সাসেক্সের অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছিলেন। রঞ্জীতসিংজী ও সি.বি. ফ্রাইয়ের একাধিপত্যে ম্লান হয়ে পড়লেও সি.বি. ফ্রাইয়ের সাথে কয়েকটি উদ্বোধনী ইনিংসের সাথে নিজেকে জড়িয়েছিলেন। ঐ সময়ে তিনি কেবলমাত্র অসাধারণ ফিল্ডার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। তাঁরা উভয়ে সাসেক্স থেকে চলে গেলে তিনি শীর্ষ ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হন। ১৮৯৯ সালে হোভে হ্যাম্পশায়ারের বিপক্ষে ১১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। এটিই তাঁর প্রথম শতরানের ইনিংস ছিল। এরপর থেকে তরতর করে নিজেকে উত্তরণ ঘটাতে থাকেন।

শুধু যে ফ্রাইয়ের সাথে ব্যাটিং উদ্বোধনে সফলতা পেয়েছেন তা নয়; রবার্ট রেল্ফের সাথে ২৫২ ও ২০৪ রানের জুটি করেছেন। ভ্যালেন্স জাপের সাথে দ্বিতীয় উইকেটে ২৪৯ ও রঞ্জী’র সাথে পঞ্চম উইকেটে ২০৭ রানের জুটি গড়েছেন। এছাড়াও, নয় ইনিংসে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্যাটিং করে অপরাজিত ছিলেন। দারুণ খেলার সুবাদে ১৯১১ সালে তাঁকে ইংল্যান্ড দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯১২ সালে ইংল্যান্ডের পক্ষ সব মিলিয়ে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। উভয় টেস্টই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯১১-১২ মৌসুমে জনি ডগলাসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৯ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ২২৫ রানে জয়লাভ করে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

এরপর, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯১২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলার প্রথম ইনিংসে ৩৬ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ফ্রাঙ্ক ওলি’র সাথে সপ্তম উইকেটে ১৪৩ রানের জুটি গড়েছিলেন। এছাড়াও, দ্বিতীয় ইনিংসে ৬ রানে অপরাজিত ছিলেন। স্বাগতিকরা ৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সব মিলিয়ে ৫৪৭টি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়ে ৬৮৫ উইকেট ও পঁচিশ হাজারের অধিক রান পেয়েছেন। তন্মধ্যে, সাসেক্সের পক্ষে একাধারে ৪২১ খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

কাউন্টি ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ব্রাইটন কলেজে অনেকগুলো বছর কোচের দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২৫ এপ্রিল, ১৯৪৬ তারিখে সাসেক্সের অ্যালড্রিংটন এলাকায় ৭০ বছর ৩৪৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট