১৫ এপ্রিল, ১৯৮২ তারিখে কিগল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। বামহাতি ব্যাটিংয়ে নামতেন। এছাড়াও, মাঝে-মধ্যে ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কিগলেভিত্তিক সেন্ট মেরিজ কলেজে অধ্যয়ন করেছেন। দীর্ঘদেহী ও খাঁটিমানের ব্যাটসম্যান হিসেবে তাঁর পরিচিতি রয়েছে। ব্যাট হাতে নিয়ে স্থির লয়ে অবিচলিত চিত্তে ক্রিজে অবস্থান করেন। ২০০১-০২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাব এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আবাহনী লিমিটেড ও কন্দুরাতার পক্ষে খেলেছেন। ২০০৩ সালে শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত এমার্জিং টিম ট্রফি প্রতিযোগিতায় সর্বপ্রথম সকলের মনোযোগ আকর্ষণে সক্ষম হন। দলীয় সঙ্গীদের অনেকের ন্যায় তিনিও শ্রীলঙ্কান প্রিমিয়ার লীগের সাথে জড়িত।
ঘরোয়া ক্রিকেট আসরে নিয়মিতভাবে রান সংগ্রহ করেছেন। ২০০১-০২ মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে। ২০০৭-০৮ মৌসুমের শিরোপা বিজয়ী সিংহলীজ এসসি’র অন্যতম সদস্য ছিলেন। ৭৪.৪১ গড়ে ৮৩৯ রান তুলেন ও প্লেয়ার অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন। তিনটি শতক হাঁকান। ৩৯২ বল মোকাবেলায় ব্যক্তিগত সেরা করেন ২৩৬ রান। এরপর, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে গমন করেন। অনানুষ্ঠানিক টেস্টগুলোয় অংশ নিয়ে একটি শতক ও দুইটি অর্ধ-শতকের ইনিংস খেলেন। ঐ সফর শেষে কোচ চণ্ডীকা হাথুরুসিংহা তাঁর মাঝে শ্রীলঙ্কার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। ফলশ্রুতিতে, ২০০৯ সালে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ বার্তা লাভ করেন।
২০০৯ থেকে ২০১২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ৩২ টেস্টে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮-০৯ মৌসুমে মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। তবে, টেস্ট অভিষেক পর্বটি মোটেই সুবিধের হয়নি। প্রথম ইনিংসে তিনি মাত্র এক বল মোকাবেলা করে স্লিপ অঞ্চলে বিদেয় হন। দ্বিতীয় ইনিংসে তুলনামূলক ভালো করেন। কাট শর্ট করে নয় রানে রান-আউটে বিদেয় নেন। তবে, ইউনুস খানের (৩১৩) মনোরম ত্রি-শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এর কিছুদিন পরই লাহোরে শ্রীলঙ্কান খেলোয়াড়দের বহনকারী বাসে সন্ত্রাসীদের আক্রমণের শিকারে পরিণত হন। গলেতে নিজস্ব চতুর্থ টেস্ট ইনিংসে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৭২ রানের ইনিংস খেলেন।
পরের মৌসুমে নিজের ভাগ্য পরিবর্তনে বেশ সচেষ্ট হন। মালিন্ডা বর্ণাপুরা ও মাইকেল ভ্যানডর্টকে দল থেকে বাদ দেয়া হলে দৃশ্যতঃ শীর্ষসারির নিয়মিত খেলোয়াড়রূপে বিবেচিত হতে থাকেন। ২০১০ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ভারতের বিপক্ষে ব্যাটিং উদ্বোধনে নেমে উপর্যুপরী খেলাগুলোয় শতক হাঁকান। গলেতে প্রথম শতরানের ইনিংসটি খেলেন। ১১১ রানের ইনিংস খেলে দলকে বিজয়ী করতে সবিশেষ ভূমিকা রাখেন।
এক সপ্তাহ পর আরও একটি ধ্রুপদীশৈলীর ১০০ রান তুলেন। ২৬ জুলাই, ২০১০ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ১০০ ও ৩৪ রান সংগ্রহ করেন। তবে, কুমার সাঙ্গাকারা’র অনবদ্য ব্যাটিং সাফল্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে তিলকরত্নে দিলশানের যোগ্য সঙ্গী ছিলেন। তিলকরত্নে দিলশান আক্রমণাত্মকভাবে রান সংগ্রহে তৎপর থাকলেও তিনি নিশ্চল ভঙ্গীমায় ধীরে সুস্থে রান সংগ্রহ করতেন। ত্রিশোর্ধ্ব গড়ে রান সংগ্রহের কারণে তিনি নিজেকে আর মেলে ধরতে পারেনি। স্বল্প রানের ইনিংস খেলার কারণে দল নির্বাচকমণ্ডলীর মন জয় করতে পারেননি। ২০১২ সাল শেষে দূর্বল ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের কারণে টেস্ট দল থেকে বাদ পড়েন।
২০১২-১৩ মৌসুমে নিজ দেশে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৫ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৪০ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। তবে, ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ভালো খেললেও আর দলে ফিরে আসার সুযোগ পাননি।
সবমিলিয়ে টেস্টগুলোয় ৩২.৫৬ গড়ে ১৭৯২ রান পেয়েছেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে এগারো হাজারের অধিক রান পেয়েছেন। এসএসসি’র সদস্যরূপে কলম্বোর বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ২৩৬ রান তুলে দলকে জয় এনে দিয়েছিলেন।
২৭ আগস্ট, ২০২০ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।
