|

ড্যানিয়েল ফ্লিন

১৬ এপ্রিল, ১৯৮৫ তারিখে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ব্যাটসম্যানের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিং করতেন। পাশাপাশি বামহাতে স্লো বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

মাঝারিসারির আগ্রাসী বামহাতি ব্যাটসম্যান ও ধীরগতিতে বামহাতে বোলিং করতেন। ধীরে ধীরে বৃহৎ আসরের ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন। নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়কত্ব করেছেন। ২০০৪-০৫ মৌসুম থেকে ২৯১৯-২০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। প্লাঙ্কেট শীল্ডের খেলায় অকল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২১ জানুয়ারি, ২০০৫ তারিখে গিসবোর্নে অনুষ্ঠিত ওতাগো বনাম নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ২৪ টেস্ট, ২০ ওডিআই ও পাঁচটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। ২০০৮ সালে আঘাতপ্রাপ্ত জ্যাকব ওরামের পরিবর্তে টি২০আই দলে খেলার সুযোগ পান। ৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০৮ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

একই বছরে ইংল্যান্ড সফরে ড্যানিয়েল ভেট্টোরি নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে টেস্ট ও ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। আরন রেডমন্ডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ১৫ মে, ২০০৮ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। হেলমেট পরিহিত অবস্থায় খেলেও জেমস অ্যান্ডারসনের বলে গুরুতর আঘাত পান। সামনের দুইটি দাঁত পড়ে যায় ও রক্তাক্ত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেন। ৯ ও ২৯* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অল-রাউন্ড নৈপুণ্যে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৩ মে, ২০০৮ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ঘটনাবহুল ঐ টেস্টে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত ৪ ও ৪০.৩ ওভারে দলীয় সংগ্রহ ১৩৬/৪ থাকাকালে আঘাতের কবলে পড়লে মাঠ ত্যাগ করতে বাধ্য হন। দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যাট হাতে মাঠে নামতে পারেননি। মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিং সাফল্যে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০০৮-০৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ড্যানিয়েল ভেট্টোরির নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ১৭ অক্টোবর, ২০০৮ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৯ রানের সমকক্ষ হন। খেলায় তিনি ১৯ ও ৪৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

এরপর, একই মৌসুমে নিজ দেশে প্রথমবারের মতো টেস্ট ক্রিকেট খেলেন। ঐ মৌসুমে ক্রিস গেইলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১১ ডিসেম্বর, ২০০৮ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৪৯ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি ৯৫ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। জেরোম টেলরের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই মৌসুমে নিজ দেশে এমএস ধোনি নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ৮ মার্চ, ২০০৯ তারিখে হ্যামিল্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯ রানে পৌঁছানোকালে ৫০০ রান সংগ্রহের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ০ ও ৬৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শচীন তেন্ডুলকরের অসামান্য ব্যাটিং দৃঢ়তায় সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১২-১৩ মৌসুমে রস টেলরের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সাথে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ২৫ নভেম্বর, ২০১২ তারিখে কলম্বোয় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সাথে নিজেকে জড়ান। প্রথম ইনিংসে ৩৭ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ৫৩ ও ০ রান সংগ্রহসহ ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১৬৭ রানে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।

একই মৌসুমে ব্রেন্ডন ম্যাককালামের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। ২ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কেপটাউনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ভার্নন ফিল্যান্ডারের বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ২৭ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

একই সফরের ১১ জানুয়ারি, ২০১৩ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে রোরি ক্লেইনভেল্টের বলে শূন্য রানে বিদেয় নেন। ডেল স্টেইনের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৯৩ রানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

২ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে ক্রিকেট জগৎ থেকে অবসর গ্রহণের কথা ঘোষণা করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট