৮ সেপ্টেম্বর, ১৯১৪ তারিখে সিডনির র্যান্ডউইকে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। লেগ-ব্রেক গুগলি বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৩০-এর দশকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৩২-৩৩ মৌসুম থেকে ১৯৩৩-৩৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অভিষেক খেলায় অকল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/১০২ লাভ করেছিলেন।
নেলসন কলেজে অধ্যয়নকালীন ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ একাদশের বিপক্ষে খেলার সুযোগ পান। ওয়েলিংটনের পক্ষে দুইটি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। লেগ-স্পিন বোলিং করে অকল্যান্ডের বিপক্ষে ৫/১০২ লাভ করেন। ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতা নিয়ে তীক্ষ্ণ লেগ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, তাঁর গুগলি মোকাবেলায়ও ব্যাটসম্যানদের যথেষ্ট বেগ পেতে হয়েছিল। দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে অভিজ্ঞতাসমৃদ্ধ ৩৫ বছর বয়সী ডিআর জারার্ডের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দলের মোকাবেলা করার জন্যে নিউজিল্যান্ড দলে অন্তর্ভুক্ত করে। অথচ, মাত্র দুই মাস পূর্বে তিনি প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৩৩ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে বব ওয়াটের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১৮ বছর ১৯৭ দিন বয়স নিয়ে ২৪ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ড দলের বিপক্ষে পিই হোয়াইটল’ ও এইচডি স্মিথের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, নিউজিল্যান্ডের ক্রিকেটের ইতিহাসের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে টেস্টে প্রতিনিধিত্ব করার গৌরবের অধিকারী হন। তবে, এ সিরিজে মোটেই সুবিধে করতে পারেননি তিনি। তাঁকে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হয়েছিল। ঐ টেস্টে বৃষ্টির কারণে পরাজয় এড়াতে সক্ষম হয়।
এরপর, একই সফরের ৩১ মার্চ, ১৯৩৩ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। এ টেস্টেও একই কারণে ফলাফল আসেনি। এরপর আর তাঁকে ব্ল্যাক ক্যাপসের পক্ষে খেলতে দেখা যায়নি। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৯১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ‘ওয়ালি হ্যামন্ডের টেস্ট’ নামে পরিচিত খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
ঐ সিরিজে ওয়াল্টার হ্যামন্ড তাঁর স্বর্ণালী সময়ে অবস্থান করছিলেন ও স্বাগতিক দলকে নাকানিচুবানির শিকার হতে হয়। ঐ সিরিজে ১৬৯ রান খরচায় হার্বার্ট সাটক্লিফের একটিমাত্র উইকেটের সন্ধান পান তিনি ও দ্রুত পর্দার অন্তরালে চলে যান।
খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পূর্বে আর একটি খেলায় ওয়েলিংটনের প্রতিনিধিত্ব করেন। পরের মৌসুমে অকল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। এরফলে, তাঁর প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন মাত্র ১৬ দিনব্যাপী স্থায়ী ছিল।
১৯৩৫ সালে কলোনিয়াল সুগার রিফাইনিং কোম্পানিতে চাকুরী করেন। ৪০ বছর এখানে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানের পক্ষে প্রথমে ফিজিতে ২০ বছর ও পরবর্তী ২০ বছর অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করেন। ফিজিতে অবস্থানকালে সরাসরি ক্রিকেটের সাথে জড়িয়ে পড়েন। দলটির সাথে ১৯৫৩-৫৪ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড সফরে আসেন। তবে, আঘাতের কবলে না পড়লে তিনি হয়তোবা ফিজি দলের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করতেন। অস্ট্রেলিয়ায় গল্ফের দিকে ঝুঁকেছিলেন ও জীবনের বাদ-বাকী সময় সিডনিতে বসবাস করতেন।
মৃত্যুর পূর্বে তিনি স্মৃতিচারণ করেন যে, ইংল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ককে বলেছিলেন যে, ‘ক্ষমা করবেন, মি. ওয়াট, আপনি বোলিং করার পূর্বেই ক্রিজ ছেড়ে যাচ্ছেন। তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।’ তাসত্ত্বেও বারংবার অবৈধভাবে একই কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন। এছাড়াও, তিনি প্রত্যেক এমসিসি খেলোয়াড়ের স্বাক্ষর সম্বলিত অটোগ্রাফ বহি সংরক্ষণ করেছিলেন।
৩১ মে, ১৯৯৪ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের সিডনিতে ৭৯ বছর ২৬৫ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
