২৫ মে, ১৮৯৭ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি লেগ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
আর্থার পার্সিভাল হাউয়েল কিপাক্স ও সোফি এস্টেল দম্পতির তৃতীয় পুত্র সন্তান ছিলেন। বন্ডি ও ক্লিভল্যান্ড স্ট্রিট পাবিলক স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। ১৪ বছর বয়সে ওয়াভার্ল ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবে প্রথম খেলতে শুরু করেন। ১৯১৪-১৫ মৌসুমের মধ্যে নিজেকে প্রথম স্তরের ব্যাটসম্যান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সমর্থ হন।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯১৮-১৯ মৌসুমে পুণরায় শেফিল্ড শীল্ড প্রতিযোগিতা শুরু হলে দুইবার নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। তবে, এইচ. এল. কলিন্সের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়ান ইম্পেরিয়াল ফোর্স দল অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসলে তাঁর খেলার পথ ১৯২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত রুদ্ধ হয়ে পড়ে। এ পর্যায়ে তিনি ৯৮ গড়ে ৪৯১ রান তুলে শীর্ষে ছিলেন।
দূর্দান্ত ও প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ১৯১৮-১৯ মৌসুম থেকে ১৯৩৫-৩৬ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯২৮ সালের বড়দিনে এমসিজিতে নিউ সাউথ ওয়েলসের সদস্যরূপে হল হুকারকে সাথে নিয়ে শেষ উইকেট জুটিতে ৩০৭ রান তুলে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। দশম উইকেটে ২০০ বা ততোধিক রানের জুটির ক্ষেত্রে তাঁদের সংগৃহীত ৩০৭ রান প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটের ইতিহাসে তেরোটি জুটির শীর্ষে অবস্থান করছে। পরের মৌসুমে রাজ্যে দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান।
১৯২৫ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২২ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯২৪-২৫ মৌসুমে নিজ দেশে আর্থার জিলিগানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ক্ল্যারি গ্রিমেটের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যাট হাতে নিয়ে ৪২ ও ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০৭ রানে জয়লাভ করলে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯২৫-২৬ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ড প্রতিযোগিতায় ১১২ গড়ে রান সংগ্রহ করেছিলেন। তাসত্ত্বেও ১৯২৬ সালে ইংল্যান্ড গমনার্থে অস্ট্রেলিয়া দল থেকে বাদ পড়েন। কিন্তু এ পর্যায়ে অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটের ইতিহাসে নিজেকে ঠাঁই করে নেন। ১৯২৭-২৮ মৌসুমে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে ব্যাপকসংখ্যক রান তুলেন। তন্মধ্যে, এক ইনিংসে ৩১৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। পরের মৌসুমে অস্ট্রেলিয়া দলে ফিরে আসেন। এরপর থেকে ১৯৩২ সাল পর্যন্ত টেস্ট দলে নিয়মিতভাবে খেলতে থাকেন। ১৯২৮-২৯ মৌসুমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ-টেস্ট খেলেন। ১৯৩০ সালে ইংল্যান্ড সফরে যান ও ১৯৩০-৩১ মৌসুমে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হন।
১৯২৮-২৯ মৌসুমে নিজ দেশে পার্সি চ্যাপম্যানের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৩০ নভেম্বর, ১৯২৮ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৬ ও ১৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৬৭৫ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজিত হলে তাঁর দল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ১ ফেব্রুয়ারি, ১৯২৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ৫১ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জ্যাক হোয়াইটের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অভিষেকধারী আর্চি জ্যাকসনের অনবদ্য ব্যাটিং সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ১২ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ৮ মার্চ, ১৯২৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩৮ ও ২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫ উইকেটে জয় পেলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৩০ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২৭ জুন, ১৯৩০ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৮৩ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৭ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সমর্থ হয়।
১৯৩০-৩১ মৌসুমে নিজ দেশে জ্যাকি গ্রান্টের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ ডিসেম্বর, ১৯৩০ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৪৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৪ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ১২২ রানে পরাজিত হলে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ৩ ও ১০ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে ব্যারন কনস্ট্যান্টাইনের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে পরাজয়বরণ করলেও ৪-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২ ডিসেম্বর, ১৯৩২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৮ ও ১৯ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে হ্যারল্ড লারউডের শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিক দল ১০ উইকেটের ব্যবধানে শোচনীয়ভাবে পরাস্ত হল পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৩৪ সালে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৮ আগস্ট, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৮ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ঐ খেলায় তাঁর দল ৫৬২ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় পেলে ২-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
৫ সেপ্টেম্বর, ১৯৭২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের বেলেভ্যু হিল এলাকায় ৭৫ বছর ১০৩ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
