|

আর্থার মোল্ড

২৭ মে, ১৮৬৩ তারিখে নর্দাম্পটনশায়ারের মিডলটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৮৯০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বল ছোঁড়ায় অভিযুক্ত শুরুরদিকের অন্যতম বোলার হিসেবে পরিচিতি পান। ক্ষীপ্রগতিসম্পন্ন ফাস্ট বোলার হলেও তাঁর বোলিং ভঙ্গীমা বেশ সন্দেহজনক ছিল। টম রিচার্ডসন, বিল লকউড ও চার্লস কর্টরাইটের ন্যায় সেরা ফাস্ট বোলারদের আধিপত্য থাকলেও তিনি মানের দিক দিয়ে যৎকিঞ্চিৎ পিছিয়েছিলেন। অবসর গ্রহণকালীন যে-কোন দ্রুতগতির বোলারের চেয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অধিক উইকেট দখল করেছিলেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৮৮৯ থেকে ১৯০১ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। দূর্দান্ত গতির পেস বোলিং করতেন। অধিকাংশই ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে করেছিলেন। ১৮৮৯ সালের প্রথম মৌসুমে ১১.৮০ গড়ে শতাধিক উইকেট সংগ্রহ করে বেশ সাড়া জাগান। বারো বছরের মধ্যে কেবলমাত্র তিনটি গ্রীষ্মকালে ১০০ উইকেটের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি। ১৮৯৭ সালে ৯৮, ১৮৯৮ সালে ৯০ ও ১৯০০ সালে ৯৭ উইকেট পেয়েছিলেন। তবে, ১৮৯৪ ও ১৮৯৫ সালে যথাক্রমে ২০৭ ও ২১৩ উইকেট দখল করেছিলেন।

১৮৯৩ সালে সব মিলিয়ে ইংল্যান্ডের পক্ষে তিনটিমাত্র টেস্টে অংশ নেয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। ঐ বছর নিজ দেশে জ্যাক ব্ল্যাকহামের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ১৮৯৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। টেড ওয়েইনরাইট, স্ট্যানলি জ্যাকসন ও বিল লকউডের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। বল হাতে নিয়ে ৩/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে চার্লি টার্নারের বলে শূন্য রানে বিদেয় করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

একই সফরের ২৪ আগস্ট, ১৮৯৩ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৪৮ ও ২/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে হিউ ট্রাম্বলের বলে শূন্য রানে ফিরে যান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

সারের রিচার্ডসন ও লকউডকে প্রাধান্য দেয়া হলে আর ইংরেজ দলে খেলার সুযোগ পাননি। এছাড়াও, নতুন শতাব্দীতে এসে তাঁর পেস বোলিংও পড়তির দিকে যেতে থাকে। সব মিলিয়ে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ১৫.৫৪ গড়ে ১৬৭৩ উইকেট দখল করেন। তন্মধ্যে, ১৫২বার পাঁচ-উইকেট ও ৫৬বার দশ উইকেট পেয়েছিলেন।

তিনি হয়তোবা আরও খেলতে পারতেন। পেস কিংবা উইকেট লাভে প্রশ্নের সৃষ্টি না হলেও প্রায়শঃই তাঁর বোলিং ভঙ্গীমা নিয়ে সন্দেহের পরিবেশ সৃষ্টি করতো। তবে, অধিনায়ক আর্চি ম্যাকলারিন তাঁকে পূর্ণ সহায়তা করে গেছেন। ১৯০০ সালে ল্যাঙ্কাশায়ারের পক্ষে সবগুলো খেলায় অংশ নিলেও ফিলিপসের পরিচালনায় একটি খেলায় অংশ নেন। অবশেষে জুনের শেষদিকে ট্রেন্ট ব্রিজে নটিংহ্যামশায়ারের বিপক্ষে খেলেন। প্রথম ওভারেই ফিলিপস তাঁর বলে দুইবার নো-বল ডাকেন। এরফলে, তাঁকে ঐ খেলায় বোলিং করা থেকে বিরত থাকতে হয়।

নর্দাম্পটনশায়ার লীগের মাধ্যমে তিনি তাঁর খেলোয়াড়ী জীবনের সমাপ্তি টানেন। অবসর গ্রহণের পর বন্দুক চালনা, পানশালা পরিচালনা ও স্বীয় মাতার দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন। ২৯ এপ্রিল, ১৯২১ তারিখে নর্দাম্পটনশায়ারের মিডলটন চিনি এলাকায় ৫৭ বছর ৩৩৭ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট