১২ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে নেভিসের গভর্নমেন্ট রোড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি গালি অঞ্চলে দূর্দান্ত ফিল্ডিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

কিশোর বয়সেই দারুণ ভঙ্গীমায় স্ট্রোক প্লে মারতেন। স্বাধীনভাবে কভার অঞ্চলে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে লিওয়ার্ড আইল্যান্ডসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, নেভিসের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৮-৮৯ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৩১ টেস্ট ও ৫৭টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছেন। গর্ডন গ্রীনিজডেসমন্ড হেইন্সের অবসরজনিত শূন্যতা পূরণে তাঁকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের সদস্যরূপে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৬ এপ্রিল, ১৯৯৪ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্রায়ান লারা’র ত্রি-শতকের কারণে সংবাদ শিরোনামে পরিণত হওয়া ঐ খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ ও ২১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একই বছরের ১৭ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে ফরিদাবাদে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৫ সালে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১০ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেনি বেঞ্জামিনের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ ও ১২৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৭ সালে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জুন, ১৯৯৭ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২১ ও ৮৩ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কার্টলি অ্যামব্রোসের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২২ ডিসেম্বর, ১৯৯৭ তারিখে ইংল্যান্ড বনাম ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যকার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। তবে, প্রথম দিন বল বিপজ্জ্বনকভাবে লাফিয়ে উঠে ব্যাটসম্যানদেরকে আঘাতের কারণে ১০.১ ওভার শেষে ৫৬ মিনিট পর দলের সংগ্রহ ১৭/৩ থাকাকালে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। খেলায় তিনি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৯ ও ৬২ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। উভয় ইনিংসেই অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের বলে বিদেয় নিয়েছিলেন। কার্ল হুপারের অসাধারণ ব্যাটিং দৃঢ়তায় স্বাগতিকরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ১৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪ ও ২৩ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে অ্যান্ডি ক্যাডিকের বলে বিদেয় নেন। অ্যাঙ্গাস ফ্রেজারের বোলিং দাপটে সফরকারীরা ৩ উইকেটে জয় পেলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা বিরাজ করে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের অন্যতম সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। স্মর্তব্য যে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ – দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার এটিই প্রথম টেস্ট ছিল। ২৬ নভেম্বর, ১৯৯৮ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৩৫ ও ১২ রান সংগ্রহ করে উভয় ইনিংসে অভিষেক ঘটা ডেভিড তারব্রুগের শিকারে পরিণত হন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। শন পোলকের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৪ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০২ সালে নিজ দেশে সৌরভ গাঙ্গুলী’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। অপ্রত্যাশিতভাবে দ্বিতীয়বারের মতো খেলার সুযোগ পান। পাঁচ ইনিংস থেকে তিনি মাত্র ৯১ রান তুলতে পেরেছিলেন। অধিকাংশই বাউন্ডারি থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।

২ মে, ২০০২ তারিখে ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৮ ও ৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। মারভিন ডিলনের সুন্দর বোলিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-১ ব্যবধানে সমতায় আসতে সক্ষম হয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলোয় ঘূর্ণায়মান বল মোকাবেলায় তাঁকে হিমশিম খেতে দেখা যায়। রঙিন পোশাকে প্রায়শঃই দূর্দান্ত সূচনা করতেন। কিন্তু, ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারা ও বড় ধরনের ইনিংস খেলতে না পারায় তাঁকে দলের বাইরে চলে যেতে হয়।

টেস্টে ভারতের বিপক্ষে একমাত্র শতক হাঁকান। এছাড়াও, অংশগ্রহণকৃত ৫২ ইনিংস থেকে মাত্র চারবার অর্ধ-শতরানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ক্যারিব বিয়ার কাপে লিওয়ার্ডসের পক্ষে পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে ৫৪.৮৩ গড়ে ৩২৯ রান তুলে ব্যাটিং গড়ে শীর্ষে অবস্থান করেন। ২০০৪ সালে ক্যারিব বিয়ার সিরিজের খেলায় ডানহাতের কনিষ্ঠা ভেঙ্গে যায় ও আঙ্গুলটি অসাড় হয়ে পড়ে। ফেব্রুয়ারিতে সেন্ট মার্টিনে অনুষ্ঠিত উইন্ডওয়ার্ড আইল্যান্ডসের বিপক্ষে খেলায় এ ঘটনা ঘটে। পরের বছর প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ফিরে আসেন। এ মৌসুমে ৫৪.৮৩ গড়ে ৩৩৯ রান তুলেছিলেন। এরপর খেলার জগৎ থেকে অবসর গ্রহণ করেন। প্রতিভাবান ক্রিকেটারের মর্যাদা পেলেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজেকে মেলে ধরতে পারেননি।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। ২৬ জুলাই, ২০০৮ তারিখে ক্লাইড বাটসের নেতৃত্বাধীন দল নির্বাচকমণ্ডলীর অন্যতম সদস্যরূপে যুক্ত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট