৫ জুন, ১৯৭৪ তারিখে ত্রিনিদাদের মিসন ভিলেজ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। দলে মূলতঃ বোলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
দীর্ঘদেহী, শক্ত-মজবুত গড়নের অধিকারী তিনি। কোর্টনি ওয়ালশের যোগ্য উত্তরসূরী হিসেবে বোলিং দায়িত্ব পালন করতে অগ্রসর হন। তড়িৎগতিতে বোলিং না করলেও বেশ নিখুঁতভাব বজায় রাখতেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুম থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন।
১৯৯৭ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৩৮ টেস্ট ও ১০৮টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৪ মার্চ, ১৯৯৭ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। কোর্টনি ওয়ালশ ও কার্টলি অ্যামব্রোসের সাথে একত্রে খেলে তিন উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৩/৯২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ঘটনাবহুল এ টেস্টে ভারতের ইনিংসে তাঁর করা ১৭৩তম ওভারের প্রথম বলে এ কুম্বলে কুঁচকিতে আঘাত পান। তবে, পরবর্তী ৫ বল মোকাবেলা করে কুম্বলে রিটায়ার্ড হার্ট হন। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে শূন্য রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ২০০২ সালে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং করেন। কিংস্টনে চূড়ান্ত টেস্টে ৫/৭২ নিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ১৫৫ রানে জয় এনে দেয়াসহ সিরিজ বিজয়ে সহায়তা করেন। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ থেকে ২৩ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৫ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/৬৯ ও ১/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩১২ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাজয়বরণ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২০০০-০১ মৌসুমে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে গ্লেন ম্যাকগ্রা’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/৭৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ১২৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
২১ নভেম্বর, ২০০১ তারিখে ক্যান্ডির অ্যাসগিরিয়া স্টেডিয়ামে ক্রিকেটে ইতিহাসের অন্যতম অপ্রত্যাশিত ঘটনার সাথে নিজেকে জড়ান। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নিজস্ব তৃতীয় ওভারের দ্বিতীয় বল শেষে পেটে ব্যথার কারণে কলিন স্টুয়ার্ট ওভার শেষ করার জন্যে বোলিং কর্মে অগ্রসর হন। তবে, প্রথম তিন বলের দুইটিতে বেশ উঁচুতে ও একটিতে দ্রুতগতির ফুল টসের ফলে আম্পায়ার জন হ্যাম্পশায়ার তাঁকে বোলিং করা থেকে বিরত রাখলে ক্রিস গেইল অফ-স্পিন বোলিং করে ওভার শেষ করতে সক্ষম হন।
২০০১ সালে নিজ দেশে শন পোলকের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ৬ এপ্রিল, ২০০১ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/৪৭ ও ০/৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, ব্যাট হাতে নিয়ে ০ ও ১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। প্রতিপক্ষীয় অধিনায়কের অপূর্ব অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ঐ টেস্টে তাঁর দল ৮২ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০১-০২ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩১ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৩/১৪০ ও ২/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৫ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, শোয়েব আখতারের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ক্যারিবীয় দল ১৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৩ সালে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৯ এপ্রিল, ২০০৩ তারিখে ত্রিনিদাদের পোর্ট অব স্পেনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/১২৪ ও ২/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০ ও ১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। রিকি পন্টিংয়ের অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ১১৮ রানে পরাজিত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০৩-০৪ মৌসুমে ব্রায়ান লারা’র নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ১৬ জানুয়ারি, ২০০৪ তারিখে সেঞ্চুরিয়নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১০৯ ও ০/১৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩০ ও ২৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। হার্শেল গিবসের দূর্দান্ত শতকের উপর ভর করে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
কার্টলি অ্যামব্রোস ও কোর্টনি ওয়ালশের অবসর গ্রহণের পর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ভীতিদায়ক বোলিং আক্রমণে নেতৃত্ব দেন। টেস্টগুলো থেকে ৩৩ ঊর্ধ্ব গড়ে ১৩১ উইকেট দখল করেছেন।
২০০৭ সালে অনুমোদনবিহীন ইন্ডিয়ান ক্রিকেট লীগে ব্রায়ান লারা’র সাথে মুম্বই চ্যাম্পসের পক্ষে একত্রে খেলেন।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। ২০২২ সালে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের দল সিলেট সানরাইজার্সের প্রধান কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এরপূর্বে ২০২০ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ চ্যাম্পিয়নশীপে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো রেড ফোর্সের কোচের দায়িত্বে ছিলেন।
