২৪ এপ্রিল, ১৯৭০ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বেন্টলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী পেশাদার ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০২-০৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনে সরব ছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া ও ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ওয়ারউইকশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯ বছর বয়সে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে খেলতে শুরু করেন।
১৯৯৪ থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২০ টেস্ট ও ৮৮টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৬ জানুয়ারি, ১৯৯৪ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। টেস্টে অংশ নেয়ার পূর্বে নিয়মিতভাবে ওডিআই দলে খেলতে থাকেন।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে মার্ক টেলরের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ৫ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে রাওয়ালপিন্ডিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ঐ টেস্টে হ্যাট্রিক করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। এরফলে, তৃতীয় খেলায়াড় হিসেবে অভিষেকে হ্যাট্রিক করার গৌরব অর্জন করেন। ৪/৭৫ ও ৩/৮৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সেলিম মালিকের অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায় ও তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা এগিয়ে যায়।
১৯৯৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে গাব্বা টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৭১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছিলেন। ঐ টেস্টটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার শিরোপা বিজয়ী অস্ট্রেলিয়া দলের অন্যতম সদস্য ছিলেন। সেমি-ফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলার শেষ ওভারে সুনিয়ন্ত্রিত বোলিং করে দলকে জয় এনে দেন। এছাড়াও, ১৯৯৬ সালের প্রতিযোগিতায় তাঁর দল রানার্স-আপ হয়েছিল। এ পর্যায়ে সেমি-ফাইনালের শেষ ওভারে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পাঁচ বলে ৬ রানের দরকার ছিল। তবে, তিনি কোর্টনি ওয়ালশকে বিদেয় করে দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে প্রথমবারের মতো জিম্বাবুয়ের মাটিতে টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। প্রসঙ্গতঃ, এটিই উভয় দলের মধ্যকার উদ্বোধনী টেস্ট ছিল। ১৪ অক্টোবর, ১৯৯৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র-টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৬৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ২/২২ ও ০/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করে।
ডিসেম্বর, ১৯৯৯ সালে স্লিপ অঞ্চলে দণ্ডায়মান শেন ওয়ার্নের হাত থেকে ক্যাচ ফস্কে গেলে তিনি দ্বিতীয় হ্যাট্রিক লাভ করা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে ব্যক্তিগত স্বর্ণালী সময় অতিবাহিত করেছিলেন। ভারত ও পাকিস্তানের বিপক্ষে ছয় টেস্টে অংশ নিয়ে ৩১ উইকেট দখল করেছিলেন।
একই মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ২৪ মার্চ, ২০০০ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। এ পর্যায়ে তিনি দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২০০০-০১ মৌসুমে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০০১ তারিখে ঐতিহাসিক সিরিজের মুম্বইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ভারত দল মামুলী ১৭৬ রানে গুটিয়ে যাবার পর সফরকারী দলের সংগ্রহ এক পর্যায়ে ৯৯/৫ ছিল। ম্যাথু হেইডেন ও অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ভারতের মুঠোয় থাকা খেলাটিকে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে যেতে সমর্থ হন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫৫ ও ০/৪৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। অ্যাডাম গিলক্রিস্টের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীতে স্বাগতিক দল ১০ উইকেটে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। অস্ট্রেলীয় আলাপচারিতামূলক ‘থ্যাঙ্ক গড ইউয়ার হিয়ার’ অনুষ্ঠানে নিয়মিতভাবে অংশ নিয়েছেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত। ওয়েন্ডি ফ্লেমিং নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন।
