২৯  অক্টোবর, ১৯৭৩ তারিখে ট্রান্সভালের জোহানেসবার্গে জন্মগ্রহণকারী ইহুদী পেশাদার ক্রিকেটার। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। পাশাপাশি, দূর্দান্ত ফিল্ডার হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

বি.কম ডিগ্রী ও সিএফএ সনদ লাভ করেছেন। সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতেন ও বিকেলে অনুশীলনে অংশ নিতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে কেপ কোবরাজ, গটেং ও লায়ন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে ট্রান্সভাল ‘বি’ দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ঐ মৌসুমে মাত্র দুই খেলায় অংশ নিলেও মোটেই উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করতে পারেননি। পরের বছর স্বরূপ ধারন করেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে পাঁচ খেলায় অংশ নিয়ে ৪৭ গড়ে ৪২৩ রান তুলেন। পরের মৌসুমে একেবারেই বেখাপ্পা খেলা প্রদর্শন করেন। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে ১০ খেলা থেকে ২৯ গড়ে রান পান। তন্মধ্যে, সফররত জিম্বাবুয়ে ‘এ’ দলের বিপক্ষে মাত্র দুই রান তুলতে পেরেছিলেন। পরের মৌসুমে দারুণ খেলে দক্ষিণ আফ্রিকা দলে জায়গা করে নেন।

১৯৯৬ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত সময়কালে দক্ষিণ আফ্রিকার পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্ট ও ১৩টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে নিজ দেশে শচীন তেন্ডুলকরের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৬ ডিসেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ২৫ ও ৫৫ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ তালুবন্দীসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। অ্যান্ড্রু হাডসনের ব্যাটিং দাপটে সফরকারীরা ৩২৮ রানের বিশাল ব্যবধানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এছাড়াও, নিউল্যান্ডস টেস্টে বিখ্যাত ক্রিকেট তারকা শচীন তেন্ডুলকরের (১৬৯) ক্যাচ ডিপ স্কয়ার লেগ অঞ্চলে ক্ষীপ্রতার সাথে এক হাতে তালুবন্দী করে নিজেকে স্মরণীয় করে রাখেন। ঐ খেলায় তাঁর দল জয়লাভ করে। অবশ্য, খেলায় তিনি ব্যাট হাতে সুবিধে করতে পারেননি। একই সফরের ২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে জিকিবার্হায় অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে প্রথমবারের মতো খেলেন।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৩০ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬৪ ও ৪১ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। বৃষ্টিবিঘ্নিত খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

ইহুদিদের অলিম্পিক হিসেবে খ্যাত ‘মাকাবিয়া গেমসে’ দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিনিধিত্ব করে ক্রিকেটে ২০০৫ ও ২০০৯ সালে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে দূর্দান্ত ক্রিকেটার হিসেবে পরিচিতি ঘটালেও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে এর ব্যতয় ঘটে।

১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে হান্সি ক্রোনিয়ে’র নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ১১ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে হারারেতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। শন পোলকমার্ক বাউচারের সাফল্যে ইনিংস ও ২১৯ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

টেস্টগুলো থেকে ২৬ গড়ে ৮৩৩ রান ও ওডিআই থেকে ২০.৭৬ গড়ে ২৭০ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। ২০১৬ সালে চার সদস্যবিশিষ্ট কমিটির অন্যতম হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকার পুরুষ ও মহিলা দলের ক্রীড়াশৈলী পর্যবেক্ষণ কর্মে অংশ নিয়েছিলেন। তিনি ড. আলী বাখেরের ভ্রাতৃষ্পুত্র।

সম্পৃক্ত পোস্ট