২১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৫ তারিখে নেভিসের চার্লসটাউন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে দলে দায়িত্ব পালন করতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ওডিআই দলে প্রতিনিয়ত তাঁকে খেলতে দেখা যেতো। কভার অঞ্চলে অসাধারণ ফিল্ডিং করতেন।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে লিওয়ার্ড আইল্যান্ডস দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, মেরিলেবোন ক্রিকেট ক্লাব ও বাকিংহামশায়ারের পক্ষে খেলেছেন। ১৯৮৫-৮৬ মৌসুম থেকে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

১৯৮৮ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সব মিলিয়ে ৩৩ টেস্ট ও ১০৫টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। টেস্টগুলো থেকে দুইটি শতক ও আটটি অর্ধ-শতরানের ইনিংস খেললেও ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে না পারায় প্রায়শঃই দলে আসা-যাবার পালায় ছিলেন।

১৯৮৮ সালে ভিভ রিচার্ডসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২১ জুলাই, ১৯৮৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে স্বাগতিক ইংল্যান্ডে বিপক্ষে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কার্টলি অ্যামব্রোসের দূর্দান্ত বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯২ সালে নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ১৮ এপ্রিল, ১৯৯২ তারিখে বার্বাডোসের ব্রিজটাউনে অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে সফল ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩৭ রান অতিক্রম করেন। ৫৯ ও ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, খেলায় তিনি ০/৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কার্টলি অ্যামব্রোসের অনবদ্য বোলিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ৫২ রানে জয়লাভ করে।

১৯৯২-৯৩ মৌসুমে দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। তন্মধ্যে, ব্রিসবেন টেস্টে ১৫৭ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে অন্যতম স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেছিলেন। এছাড়াও, ১৯৯৩-৯৪ সালে জ্যামাইকায় সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শতক হাঁকিয়েছিলেন।

১৯৯৫ সালে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪২ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইয়ান বিশপের অপূর্ব বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৫ ও ০ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণে সমর্থ হয়।

একই সফরের ১০ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৩১ ও ০/২২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। কেনি বেঞ্জামিনের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

ক্ষুদে দ্বীপ নেভিসের তিনজন টেস্ট ক্রিকেটারের অন্যতম হিসেবে খেলার গৌরব অর্জন করেন। তবে, পূর্বসূরীদের তুলনায় নিজেকে বেশ গুটিয়ে রেখেছিলেন। ৩৩ টেস্ট থেকে আটটি শূন্য রানের ইনিংস খেলেন।

ওডিআইগুলো থেকে প্রায় দুই হাজার রান ও ৪২ উইকেট দখল করেছিলেন। দূর্দান্ত স্ট্রোক খেললেও তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ৬৭.৪৬। সীমিত-ওভারের ক্রিকেটে নয়টি অর্ধ-শতক হাঁকান। শারজায় অজিদের বিপক্ষে ৮৪ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দিতে ভূমিকা রাখেন। এক পর্যায়ে ১৯৯৬ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় পাঁচ খেলা থেকে মাত্র ২ রান তুলতে পেরেছিলেন। ১৯৯৯ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নিয়েছিলেন। ১৬ মে, ১৯৯৯ তারিখে ব্রিস্টলে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐ ওডিআই খেলেছিলেন।

ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। জুলাই, ২০০৭ সালে জ্যামাইকায় কোচিং ক্লিনিক পরিচালনা করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট