১ নভেম্বর, ১৯৭০ তারিখে বার্বাডোসের বেল্লেপ্লেইন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধনে নামতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিং করতেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

দৃষ্টিনন্দন উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে সুনাম কুড়িয়েছেন। ফুরফুরে মেজাজে থাকাকালে সকল ধরনের বোলিং তছনছ করে দিতেন। তবে, ব্যাটিংয়ে স্থবিরতা চলে আসলে বেশ বিরক্তিকর পর্যায়ে চলে যেতো। তাসত্ত্বেও, তাঁর প্রতিভা প্রশ্নাতীত ছিল।

ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে বার্বাডোস ও ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহামের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০০৪-০৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ১৯৯১ সালে ব্রিজটাউনে গায়ানার বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে রেড স্ট্রিপ কাপে একগুচ্ছ অপূর্ব ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে অগ্রসর হন। ৫০ ঊর্ধ্ব গড়ে ৫৪৭ রান তুলেন। ফলশ্রুতিতে, ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে খেলার পথ সুগম হয় ও ভারত সফরের জন্যে মনোনীত হন।

১৯৯৪ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে সর্বমোট ৫২ টেস্ট ও ৯০টি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। ২৩ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন। মাঝারিসারিতে ব্যাটিংয়ে নেমে মোটে ৩ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। এরপর, কিছু উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলার পর শীর্ষসারি থেকে বাদ পড়েন।

আরও কয়েক মাস পর টেস্ট দলে যোগ দেন। একই মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ধৈর্য্যশীলতার চরম পরীক্ষা দিয়ে দলের একমাত্র ইনিংসে ৫১ রান তুলেন। এ পর্যায়ে ১৬৩ মিনিট সময় ক্রিজে অবস্থান করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

এরপর, ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৯৫ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৫১ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ঝড়োগতিতে ৮৮ রান সংগ্রহ করেন। দলীয় অধিনায়কের অসাধারণ বোলিং কৃতিত্বে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩২২ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। গর্ডন গ্রীনিজডেসমন্ড হেইন্সের অবসর গ্রহণের পর নিজ দেশে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হন।

১৯৯৫ সালে রিচি রিচার্ডসনের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ৮ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৬৯ ও ২ রান সংগ্রহসহ তিনটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। ইয়ান বিশপের বোলিং দাপটে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২২ জুন, ১৯৯৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ৯৩ রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। অভিষেকধারী ডমিনিক কর্কের অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ৭২ রানে জয় পেলে স্বাগতিকরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনয়ণ করে।

একই সফরের ১০ আগস্ট, ১৯৯৫ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৪৭ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কেনি বেঞ্জামিনের প্রাণান্তঃকর প্রয়াস সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ২-২ ব্যবধানে অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৬-৯৭ মৌসুমে কোর্টনি ওয়ালশের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২২ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৮ ও ১১৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। ইয়ান হিলি’র অসাধারণ ব্যাটিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ১২৩ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

এরপর, ২৯ নভেম্বর, ১৯৯৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৭৭ ও ১৫ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অনিন্দ্যসুন্দর অল-রাউন্ড ক্রীড়া নৈপুণ্যে সফরকারীরা ১২৪ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৭ সালে নিজ দেশে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের মুখোমুখি হন। ১৩ জুন, ১৯৯৭ তারিখে সেন্ট জোন্সে অনুষ্ঠিত সফররত শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫০ ও ৭৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। কার্টলি অ্যামব্রোসের অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ৬ উইকেটে পরাভূত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৯৭-৯৮ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক অ্যাথার্টনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ২৯ জানুয়ারি, ১৯৯৮ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। তবে, প্রথম দিন বল বিপজ্জ্বনকভাবে লাফিয়ে উঠে ব্যাটসম্যানদেরকে আঘাতের কারণে ১০.১ ওভার শেষে ৫৬ মিনিট পর দলের সংগ্রহ ১৭/৩ থাকাকালে খেলাটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। খেলায় তিনি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।

১৯৯৮-৯৯ মৌসুমে নিজ দেশে স্টিভ ওয়াহ’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১৩ মার্চ, ১৯৯৯ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১২ ও ১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক ব্রায়ান লারা’র অসাধারণ দ্বি-শতকের (২১৩) কল্যাণে স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা আনতে সমর্থ হয়।

২০০০ সালে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৫ জুন, ২০০০ তারিখে বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৫৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। কোর্টনি ওয়ালশের অনবদ্য বোলিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৯৩ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।

২০০০-০১ মৌসুমে জিমি অ্যাডামসের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ২৩ নভেম্বর, ২০০০ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ ও একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। স্বাগতিকরা গ্লেন ম্যাকগ্রা’র অসাধারণ বোলিংশৈলীর কল্যাণে ইনিংস ও ১২৬ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

একই সফরের ২ জানুয়ারি, ২০০১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। ব্যাট হাতে নিয়ে ৭৯ ও ৫৪ রান সংগ্রহসহ একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। সফরকারীরা মাইকেল স্লেটারের অনবদ্য ব্যাটিংয়ের কল্যাণে ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে ৫-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে না পারায় এক পর্যায়ে দল থেকে বাদ পড়েন। ২০০১-০২ মৌসুমে কার্ল হুপারের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ৩১ জানুয়ারি, ২০০২ তারিখে শারজায় অনুষ্ঠিত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, শোয়েব আখতারের অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর কল্যাণে ক্যারিবীয় দল ১৭০ রানে পরাজয়বরণ করলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টগুলো থেকে ২৮৮২ রান ও ওডিআই থেকে ২২৮৩ রানের সন্ধান পেয়েছিলেন। কিউইদের বিপক্ষেই নিজের সেরা খেলা প্রদর্শন করেছিলেন। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর শীর্ষ দুইটি ইনিংস ২০৮ ও ১৭০ রান তুলেছিলেন।

সন্দেহাতীতভাবে ঘরোয়া আসরে দূর্দান্ত খেলেছিলেন। প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ২৬ শতক সহযোগে দশ সহস্রাধিক রান ও ১৬৪টি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন।

প্রতিযোগিতাধর্মী ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতে প্রবেশ করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহিলা দলের কোচ হিসেবে মনোনীত হন। এ পর্যায়ে ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেটের সেমি-ফাইনালে পৌঁছার পর ভারতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ ক্রিকেটের চূড়ান্ত খেলায় দলকে নিয়ে যান।

সম্পৃক্ত পোস্ট