জ্যাকব ডাফি

২ আগস্ট, ১৯৯৪ তারিখে সাউদল্যান্ডের লামসডেন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে খেলছেন। ডানহাতে ফাস্ট মিডিয়াম বোলিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে পারদর্শী। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন।

২০১১-১২ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ওতাগো’র ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, রয়েল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর, নর্দার্ন সুপারচার্জার্স (পুরুষ), ওতাগো ‘এ’ ও নিউজিল্যান্ড অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পক্ষে খেলেছেন। ২৬ মার্চ, ২০১২ তারিখে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত ওয়েলিংটন বনাম ওতাগো’র মধ্যকার অনুষ্ঠিত খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০২০ সাল থেকে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ডিসেম্বর, ২০২০ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে তিনি তাঁর প্রথম টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেন। এরফলে, ১৯৯৩ সালে জেফ উইলসনের পর প্রথম সাউথল্যান্ডার হিসেবে জাতীয় দলে খেলার গৌরব অর্জন করেন। দ্রুতগতিসম্পন্ন বোলারের সকল ধরনের গুণাবলী তাঁর মাঝে বিরাজমান। দীর্ঘদেহের অধিকারী তিনি। বলকে দুই দিক দিয়েই সুইং করাতে পারেন। তবে, এ ধরনের সহজাত গুণাবলীর বিচ্ছুরণ ঘটাতে কিছুটা সময় নেন।

নিউজিল্যান্ডের অনূর্ধ্ব-১৯ দলে অন্তর্ভুক্তিকালীন দৃশ্যতঃ তাঁর বোলিংয়ে কিছুটা ত্রুটি থাকলেও পরবর্তীকালে উত্তরণ ঘটে। এরপর থেকে তিনি এ অবস্থাতেই রয়ে যান। ২০২০ সালের শেষদিকে প্রথমবারের মতো তাঁকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশগ্রহণের জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়। নিজেকে সামলিয়ে নেয়ার সক্ষমতা তাঁকে দলে অন্তর্ভুক্তির সুযোগ এনে দেয়।

ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রধান শক্তি হিসেবে রয়েছেন। বিশেষতঃ চারদিনের প্লাঙ্কেট শীল্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ২০২৩ সালে ডুনেডিনে অনুষ্ঠিত নর্দার্ন ডিস্ট্রিক্টসের বিপক্ষে খেলায় তিনি নয় উইকেট দখল করেছিলেন। ওতাগো’র পক্ষে সকল স্তরের ক্রিকেটে শীর্ষ উইকেট শিকারীতে পরিণত হন। এ পর্যায়ে প্রায় তিন দশক ধরে স্টিফেন বুকের ধারণকৃত রেকর্ড নিজের করে নেন।

১৮ ডিসেম্বর, ২০২০ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আই অভিষেকে চার-উইকেট দখল করে প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার লাভ করেন। তবে, পরবর্তী তিন বছরে নিউজিল্যান্ড দলে তাঁর নামেমাত্র অংশগ্রহণ ছিল। ১২ জুলাই, ২০২২ তারিখে ডাবলিনের মালাহাইডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। এক পর্যায়ে ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে তাঁকে নিয়ে আসা হয়।

২০২৫ সালে মিচেল স্যান্টনারের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে সফরে যান। ৭ আগস্ট, ২০২৫ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ম্যাথু ফিশার ও জাকারি ফোকসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/২৪ ও ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেভন কনওয়ের অসাধারণ শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৩৫৯ রানে পরাভূত হলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

২০২৫-২৬ মৌসুমে নিজ দেশে রোস্টন চেজের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৫ তারিখে মাউন্ট মুঙ্গানুইয়ে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৭ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৮৬ ও ৫/৪২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ডেভন কনওয়ে’র অসাধারণ জোড়া শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৩২৩ রানে জয়লাভ করলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়। এ সিরিজে ৪২ রান সংগ্রহসহ ২৩ উইকেট দখল করে ম্যান অব দ্য সিরিজের পুরস্কার লাভ করেন।

মন্তব্য করুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *