১৭ জানুয়ারি, ১৯৯৭ তারিখে ল্যাঙ্কাশায়ারের বোল্টন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ ইনিংস উদ্বোধন করে থাকেন। ডানহাতে ব্যাটিং করেন। পাশাপাশি, লেগ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী। ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
গুজরাতে জন্মগ্রহণকারী পিতার ব্রিটিশ নাগরিকত্ব লাভের সুবাদে ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা ইসমাঈল তাঁর কোচ ও মন্ত্রণাদাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বোল্টন স্কুলে অধ্যয়ন করেছেন। চমৎকার কৌশল অবলম্বন ও খাঁটিমানের রক্ষণাত্মক পন্থা অবলম্বনের কারণে ‘বোল্টন ব্লকার’ ডাকনামে ভূষিত হন। ধ্রুপদীশৈলীর ব্যাটসম্যান হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন। শচীন তেন্ডুলকরকে পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রেখেছেন। সোজাভাবে ব্যাট ধরে খেলতেই অধিক স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
২০১৫ সাল থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ল্যাঙ্কাশায়ার ও নটিংহ্যামশায়ার দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২১ আগস্ট, ২০১৫ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত খেলায় ল্যাঙ্কাশায়ারের সদস্যরূপে গ্ল্যামারগনের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নেন। এরফলে, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ল্যাঙ্কাশায়ারের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটারের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে, ২০১৬ মৌসুমকে ঘিরে চার বছরের জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন।
প্রায় দেড় যুগ পূর্বে মাইকেল অ্যাথার্টনের ইংল্যান্ড দলে উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলার পর তিনি এ অবস্থানে খেলেন। এছাড়াও, কনিষ্ঠতম ব্যাটসম্যান ও কাউন্টি ক্রিকেটে পঞ্চম সর্বকনিষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে এক হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এছাড়াও, আগস্ট, ২০১৬ সালে গোলাপের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জোড়া শতকধারী প্রথম খেলোয়াড়ের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত খেলায় ইয়র্কশায়ারের বিপক্ষে ১১৪ ও অপরাজিত ১০০ রানের ইনিংস খেলে স্বর্ণালী মুহূর্ত অতিবাহিত করেন। বিস্ময়করভাবে বাংলাদেশ গমনার্থে টেস্ট দলে তাঁকে ঠাঁই দেয়া হয়।
২৪ জুলাই, ২০২০ তারিখে নটিংহ্যামশায়ারে চলে যান। পরবর্তীতে, ২০২২ সাল পর্যন্ত ট্রেন্ট ব্রিজে খেলার জন্যে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়।
২০১৬ সাল থেকে ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ক্রিকেটে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। নভেম্বর, ২০১৬ সালে দীর্ঘ সংস্করণের খেলায় প্রথমবারের মতো অংশগ্রহণ করেন। ২০১৬-১৭ মৌসুমে অ্যালাস্টার কুকের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ৯ নভেম্বর, ২০১৬ তারিখে ১৯ বছর বয়সে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। রাজকোটে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে অ্যালাস্টার কুকের সাথে ইনিংস উদ্বোধনে নেমে ৩১ ও ৮২ রান তুলেন। মঈন আলী’র অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলী সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
এরপর, বিশাখাপত্তনমে ১৩ ও ২৫ এবং মোহালিতে ৯ ও ৫৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে, আঙ্গুলের আঘাতের কারণে ঐ সিরিজ থেকে বাদ পড়েন।
২০২১-২২ মৌসুমে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ২৫ ও ২৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ট্রাভিস হেডের অসাধারণ শতকে ভর করে স্বাগতিকরা ৯ উইকেটে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দিবা-রাত্রির দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মারনাস লাবুশেনের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২৭৫ রানে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৫ জানুয়ারি, ২০২২ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ৯ রান সংগ্রহ করেছিলেন। উসমান খাজা’র জোড়া শতক সত্ত্বেও খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে স্বাগতিকরা ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
