|

আর্নি ব্রমলি

২ সেপ্টেম্বর, ১৯১২ তারিখে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার ফ্রিম্যান্টল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ ব্যাটিং কর্মে মনোনিবেশ ঘটাতেন। বামহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। ১৯৩০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘স্লগার’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯২৯-৩০ মৌসুম থেকে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া ও ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়া এবং ভারতীয় ক্রিকেটে ইউরোপিয়ান্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে দল ছেড়ে ভিক্টোরিয়ায় চলে আসেন। এরফলে, জাতীয় দলে খেলার পথ সুগম হয়। নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ৮৪ রান তুলেন। এরফলে, টেস্ট দলে খেলার জন্যে তাঁকে আমন্ত্রণ জানানো হয়।

১৯৩৩ থেকে ১৯৩৪ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছেন। ১৯৩২-৩৩ মৌসুমে নিজ দেশে ডগলাস জার্ডিনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৩৩ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত বডিলাইন সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশগ্রহণ করেন। হ্যামি লাভ ও লেন ডার্লিংয়ের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, ওয়েস্ট থেকে টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণকারী প্রথম খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান। তাঁর টেস্ট ক্রিকেটে অংশগ্রহণের ২২ বছর পর জ্যাক রাদারফোর্ড এ তালিকায় যুক্ত হন। প্রথম ইনিংসে সাত নম্বর অবস্থানে ব্যাটিংয়ে নেমে ২৬ রান তুলেন ও হ্যারল্ড লারউডের বলে কট বিহাইন্ডের বিদেয় নেন। পাশাপাশি, দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ রান সংগ্রহসহ খেলায় তিনি একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

১৯৩৩-৩৪ মৌসুমে দূর্দান্ত খেলে ইংল্যান্ড সফরে জায়গা করে নেন। ১৯৩৪ সালে অ্যাশেজ সিরিজ খেলতে বিল উডফুলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। ২২ জুন, ১৯৩৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ১ ও ৪ রান তুলেন। হ্যাডলি ভেরিটি’র স্মরণীয় বোলিং সাফল্যে ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৩৮ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতায় ফেরে। বিংশ শতাব্দীতে লর্ডসে এটিই অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র পরাজয় ছিল। ঐ সফরে ২০ ইনিংস থেকে মাত্র ৩১২ রান তুলতে সমর্থ হয়েছিলেন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

এরপর তিনি দল নির্বাচকমণ্ডলীর দৃষ্টির বাইরে চলে যান। টেস্টগুলোয় অংশ নিয়ে তিনি মাত্র ৩৮ রান তুলেন ও ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ২৬ রান সংগ্রহ করেন। তবে, সর্বাধিক পরিচিতি লাভ করেছেন ডিপ অঞ্চলে ফিল্ডিং করে। নিখুঁততার সাথে ভূমির সমান্তরালে তীরগতিতে বল উইকেটে ছুড়েছেন। বোলিংয়ে দক্ষ হলেও পরিবর্তিত বোলার হিসেবে তাঁকে ব্যবহার করা হতো।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও রাজ্য দলের পক্ষে ১৯৩৮-৩৯ মৌসুম পর্যন্ত খেলেন। ১৯৪০-এর দশকের শেষদিকে এসেও সেন্ট কিল্ডার পক্ষে গ্রেড ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে তিন শতক সহযোগে ২৮.৫৪ গড়ে ২০৫৫ রান ও ৪২.৩৩ গড়ে ৩৮ উইকেট পেয়েছিলেন। এছাড়াও, ৪৩টি ক্যাচ মুঠোয় পুড়েন।

১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে ভিক্টোরিয়ার ক্লেটন এলাকায় ৫৪ বছর ১৫২ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট