৮ জুন, ১৯৪৫ তারিখে কেন্টের ব্রোমলি এলাকায় জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রাখতেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ের পাশাপাশি নিচেরসারিতে ডানহাতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে টেস্ট ও ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
‘ডেডলি’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছিলেন। নিখুঁততা আনয়ণের পাশাপাশি ক্ষীপ্রতার সংমিশ্রণ ঘটিয়ে সফল হন। অপ্রচলিত পন্থায় বামহাতে স্পিন বোলিং করতেন। তাঁর বোলিং অনেকাংশেই মিডিয়াম-পেসের সমতুল্য ছিল। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে কেন্টের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৬৩ থেকে ১৯৮৭ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। কেন্ট ও ইংল্যান্ডের সর্বকালের স্পিনারদের অন্যতম সেরা ছিলেন।
১৯৬৬ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে ৮৬ টেস্ট ও ২৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৬৬ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৩০ জুন, ১৯৬৬ তারিখে নটিংহামে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২* ও ১০* রান সংগ্রহসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ১৩৯ রানে জয় পেলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৪ আগস্ট, ১৯৬৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৮১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ইনিংস ও ৫৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে যায়।
১৯৬৮ সালে নিজ দেশে বিল লরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ২২ আগস্ট, ১৯৬৮ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৮৯ ও ৭/৫০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ব্যাট হাতে নিয়ে ৯* ও ১* রান সংগ্রহ করেন। ২২৬ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা সিরিজটি ড্র করতে সমর্থ হলেও সফরকারীরা অ্যাশেজ কুক্ষিগত রাখে।
১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে কলিন কাউড্রে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে পাকিস্তান সফরে যান। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৯ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২২ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৫ ও ৫/৯৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৬৯ সালে নিজ দেশে গ্যারি সোবার্সের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ১২ জুন, ১৯৬৯ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/১৪ ও ১/৩১ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১১* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১০ উইকেটে জয়লাভ করলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ১০ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ১৬ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৫৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। অ্যালান নটের শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই বছর নিজ দেশে গ্রাহাম ডাউলিংয়ের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। পুরো সিরিজে অসাধারণত্বের পরিচয় দেন। ২৪ জুলাই, ১৯৬৯ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। কয়েকটি ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে ভিক পোলার্ডের তৃতীয় উইকেট লাভ করে টেস্টে নিজস্ব ৫০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। এ পর্যায়ে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা সাফল্য ছিল ৭/৫০। খেলায় তিনি ৪/৩৮ ও ৭/৩২ লাভ করেন। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ২৩০ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২১ আগস্ট, ১৯৬৯ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। চমৎকার ক্রীড়া নৈপুণ্যের স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৬/৪১ ও ৬/৬০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৮ উইকেটে জয় পেলে সফরকারীরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সিরিজে ২৪ রান সংগ্রহসহ ২৪ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৭০-৭১ মৌসুমে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া সফরে যান। ১২ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অ্যাশেজ সিরিজের সপ্তম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৩৯ ও ২/২৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ৮* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৬১ রানে পরাভূত হলে স্বাগতিকরা ২-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
একই মৌসুমে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট খেলেন। ঐ মৌসুমে রে ইলিংওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফর করেন। ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭১ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। অসাধারণ ক্রীড়া নৈপুণ্যের ছাঁপ রেখেছিলেন। বল হাতে নিয়ে ৬/১২ ও ৬/৮৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৫ মার্চ, ১৯৭১ তারিখে অকল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে মাইক শ্রিম্পটনের পঞ্চম উইকেট লাভ করে টেস্টে ১০০ উইকেট লাভের মাইলফলক স্পর্শ করেন। খেলায় তিনি ০/৫ ও ৪/৩৪ লাভ করেন। ৫/১০৮ ও ০/০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে ১* ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা সিরিজে ১-০ ব্যবধানে বিজয়ী হয়।
১৯৭২-৭৩ মৌসুমে টনি লুইসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৩ তারিখে কানপুরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। বল হাতে নিয়ে ৩/৯০ ও ২/৪৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত অবস্থায় মাঠ ত্যাগ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থাকে।
১৯৭৪ সালে নিজ দেশে পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। লর্ডস টেস্টে সফরকারী পাকিস্তানের বিপক্ষে অংশ নেন। অপূর্ব ক্রীড়াশৈলীর স্বাক্ষর রাখেন। তিনি ৭১ রান খরচায় ১৩ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৭৪-৭৫ মৌসুমে মাইক ডেনিসের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ২৫ জানুয়ারি, ১৯৭৫ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৭/১১৩ ও ৪/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে অ্যাশলে মলেটের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। ১৬৩ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৪-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭৫ সালে নিজ দেশে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ১০ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে বার্মিংহামের এজবাস্টনে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ ও ৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮৫ রানের ব্যবধানে জয়লাভ করে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩১ জুলাই, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/২৯ ও ০/৬৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৮ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ০ ও ৩* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৯৬ ও ১/৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৭৬ সালে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের বিপক্ষে দারুণ খেলেছিলেন। লর্ডসে ড্র হওয়া ঐ টেস্টে ৫/৩৯ লাভ করে তৃতীয়বারের মতো লর্ডস অনার্স বোর্ডে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করার গৌরব অর্জন করেন। ২৫০ রানে স্বাগতিক দল তাদের ইনিংস শেষ করলে জন স্নোকে সাথে নিয়ে প্রতিপক্ষকে ১৮২ রানে গুটিয়ে দেন। বল হাতে নিয়ে গর্ডন গ্রীনিজ, ক্লাইভ লয়েড, মাইকেল হোল্ডিং, ভ্যানবার্ন হোল্ডার ও অ্যান্ডি রবার্টসকে বিদেয় করেন। ১৮.৪-৭-৩৯-৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান।
৮ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে উভয় ইনিংসে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, ৩/৫৫ ও ০/৯০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলায় সফরকারীরা ৪২৫ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২২ জুলাই, ১৯৭৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৮০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। স্বাগতিকরা ৫৫ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
এরপর, ২৩ আগস্ট, ১৯৭৩ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১২ ও ১৪ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১০৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইনিংস ও ২২৬ রানে পরাজিত হলে স্বাগতিকরা ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে টনি গ্রেগের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের সাথে ভারত গমন করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে বোম্বের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৪/৮৯ ও ৫/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৭ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে সফরকারীরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৭৭ সালে নিজ দেশে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুলাই, ১৯৭৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ১০ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫৩ ও ৬/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। সফরকারীরা ৯ উইকেটে পরাজয়বরণ করলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ২৫ আগস্ট, ১৯৭৭ তারিখে লন্ডনের কেনসিংটন ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। স্মর্তব্য যে, বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা শুরুর পূর্বে এটি সর্বশেষ টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/১০২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও সফরকারীরা ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৭৯-৮০ মৌসুমে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে অস্ট্রেলিয়া গমন করেন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১/৩৩ ও ৩/৮২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ০ রান সংগ্রহ করে উভয় ক্ষেত্রে জিওফ ডাইমকের বলে বিদেয় নেন। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ইয়ান বোথামের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ১৩৮ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৮১-৮২ মৌসুমে কিথ ফ্লেচারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের অন্যতম সদস্যরূপে শ্রীলঙ্কা গমন করেন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্ট খেলেন। স্মর্তব্য যে, শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্ট ছিল। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/২৮ ও ৩/৬৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ডিএস ডি সিলভা’র বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে, জন অ্যাম্বুরি’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। একই সফরের ১৪ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে কলম্বোর এসএসসিতে সর্বশেষ ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৭০-এর দশকের শেষদিকে বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট খেলতে বিশ্ব একাদশের সদস্যরূপে অংশ নেন। ১৯৮১ সালে তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদ্রোহী দলের সদস্যরূপে যোগ দেন। এরফলে, প্রবল সমালোচনার পাত্রে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৮৭ সালে সকল স্তরের ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এ পর্যায়ে ২০.২৮ গড়ে ২৪৬৫ উইকেট লাভ করেছিলেন।
‘বিটিং দ্য ব্যাট’ শীর্ষক আত্মজীবনী প্রকাশ করেছেন। ক্রিকেটে অসামান্য ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনের স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮১ সালে এমবিই উপাধীতে ভূষিত হয়েছিলেন। এছাড়াও, অবসর গ্রহণের পর নৈশভোজন পরবর্তী বক্তার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। অক্টোবর, ২০০৪ সালের উইজডেন ক্রিকেটার সাময়িকীতে তাঁকে ‘বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী ইংল্যান্ডের সেরা একাদশের’ অন্যতম সদস্য হিসেবে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করা হয়। ২০০৮ সালে এক বছরের জন্যে এমসিসি’র সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ২০০৯ সালে আইসিসি ক্রিকেট হল অব ফেমে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০১১ ক্যান্টারবারিতে কেন্টের সেন্ট লরেন্স গ্রাউন্ডে একটি স্ট্যান্ড ‘আন্ডারউড-নট স্ট্যান্ড’ নামে নামাঙ্কিত করা হয়।
১৪ এপ্রিল, ২০২৪ তারিখে ৭৮ বছর ৩১১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
