২১ জুলাই, ১৯৪৫ তারিখে কুইন্সল্যান্ডের মেরিবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৮১-৮২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন সরব রেখেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে কুইন্সল্যান্ডের প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন।
১৯৭৪ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ২১ টেস্ট ও ১৫টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে নিজ দেশে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৯ বছর বয়সে ২৬ জানুয়ারি, ১৯৭৪ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। অ্যাশলে উডকক ও অ্যালান হার্স্টের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের সাথে নিজেকে জড়ান। নিউজিল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথমবারের মতো পাঁচ-উইকেটের সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ২/৪৪ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৫/৫৮ লাভ করেন। এছাড়াও, দলের একমাত্র ইনিংসে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন। ঐ খেলায় তাঁর দল ইনিংস ও ৫৭ রানের ব্যবধানে জয় পেলে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
একই মৌসুমে ফিরতি সফরে ইয়ান চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১ মার্চ, ১৯৭৪ তারিখে ওয়েলিংটনে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেন। খেলায় তিনি ৩/৭৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
গ্যারি কোজিয়ারের ন্যায় তিনিও ১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেট খেলতে প্রস্তাবনা পাননি। তবে, ১৯৭৭ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৭৯ সালে দলের সাথে ভারত গমন করেন। কানপুর টেস্টে দিলীপ দোশীকে বোল্ড করে বিশ্বের তৃতীয় ও প্রথম অস্ট্রেলীয় হিসেবে এগারোজন ব্যাটসম্যানের প্রত্যেকের উইকেট লাভের অধিকারী হন। তাঁর পূর্বে ১৯৫৬ সালে জিম লেকার ও ১৯৬৫ সালে শ্রীনিবাস বেঙ্কটরাঘবন এ সাফল্যের অধিকারী ছিলেন। প্রথম ইনিংসে ৫/৯৯ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ৭/৬৭ পেয়েছিলেন। সব মিলিয়ে খেলায় তিনি ১৬৬ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে তাঁর এ বীরত্বপূর্ণ ক্রীড়াশৈলী বৃথা যায়। স্বাগতিক দল ১৫৩ রানের ব্যবধানে জয় পায়। ২৭৯ রানের জয়ের লক্ষ্যমাত্রায় ধাবিত অস্ট্রেলিয়া দল কপিল দেব ও শিবলাল যাদবের তোপে পড়ে।
১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৫ ও ২০* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ৩/৫২ ও ৬/৩৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, ইয়ান বোথামের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ১৩৮ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭৯-৮০ মৌসুমে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১৮ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ০/৬৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, কোন ইনিংসেই তাঁকে ব্যাট হাতে নিয়ে মাঠে নামতে হয়নি। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
ছয় বছরের অধিক সময় খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করলেও মাঝে-মধ্যে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় তাঁকে খেলানো হয়নি। তবে, ১৯৭৯ সালের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। কোন খেলা থেকেই দু’য়ের অধিক উইকেট পাননি। ১৫ খেলা থেকে ১৫ উইকেট দখল করেছিলেন। তবে, তাঁর বোলিং গড় বেশ উৎসাহব্যঞ্জক ছিল। ২৭.৪৬ গড়ে উইকেট ও ওভারপ্রতি ৩.০৬ গড়ে রান খরচ করেছিলেন।
খেলোয়াড়ী জীবন থেকে অবসর গ্রহণের পর বেশ আর্থিক সঙ্কটে ভুগেন। অতঃপর, ব্রিসবেন হাই স্কুলে শিক্ষকতা পেশায় মনোনিবেশ ঘটান।
