১ মে, ১৯৫৫ তারিখে ভিক্টোরিয়ার মেলবোর্নে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ ও প্রশাসক। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলেছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৬১ সালে ব্রাইটন গ্রামার স্কুলে ভর্তি হন। দ্রুততার সাথে তাঁর ক্রীড়াপ্রতিভা উন্মোচিত হয়। প্রতিভাবান ব্যাটসম্যান ও অজি রুলসে ফুল ফরোয়ার্ড অবস্থানে স্বীয় প্রতিভা তুলে ধরেন। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে প্রথম একাদশ ও প্রথম অষ্টাদশে খেলার জন্যে মনোনীত হন। এক পর্যায়ে আরএমআইটি থেকে ব্যবসায় শিক্ষা সমাপণ করেন। প্রাহরানের প্রথম একাদশে খেলেন।
১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৮৪-৮৫ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া দলে প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে কুইন্সল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে নিজস্ব প্রথম খেলায় অংশ নেন। নিজস্ব প্রথম শতরানের ইনিংস খেলেন। আরও কয়েকটি শতরানের সন্ধান পান। ডিসেম্বর, ১৯৭৯ সালে ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের জন্যে জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
১৯৮১-৮২ মৌসুমে ভিক্টোরিয়ার সদস্যরূপে ওয়েস্টার্ন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জেফ মসকে (২০০*) সাথে নিয়ে তৃতীয় উইকেটে ৩৯০ রানের নিরবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে নতুন রেকর্ড গড়েন। তিনি ২২১ রানে অপরাজিত ছিলেন। তাঁদের সাফল্যে বদৌলতে ১৯২৬ সালের বড়দিন উদযাপনের পূর্বে বিল উডফুল ও বিল পন্সফোর্ডের ৩৭৫ রানের রেকর্ড ভেঙ্গে পড়েন। পরবর্তীতে, অক্টোবর, ২০২০ সালে উইল পুকোভস্কি ও মার্কাস হ্যারিস উদ্বোধনী জুটিতে নিরবিচ্ছিন্ন ৪১৮ রানের রেকর্ড গড়ে নিজেদের অনুকূলে নিয়ে যান। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হয়েছিল।
১৯৭৯ থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়া দলের পক্ষে ছয়টিমাত্র টেস্ট ও সাতটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৭৯-৮০ মৌসুমে নিজ দেশে মাইক ব্রিয়ার্লি’র নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
একই সফরের ১৪ ডিসেম্বর, ১৯৭৯ তারিখে পার্থে অনুষ্ঠিত সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১১ ও ৫৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেন। ইয়ান বোথামের অসাধারণ বোলিংশৈলী প্রদর্শন সত্ত্বেও সফরকারীরা ১৩৮ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
১৯৭৯-৮০ মৌসুমে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। এ সিরিজে দুই টেস্টে অংশ নেন। ১৮ মার্চ, ১৯৮০ তারিখে লাহোরে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। খেলায় তিনি ৯৩ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ১-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে প্রত্যাখ্যাত হলেও ঘরোয়া আসরের নিজের উজ্জ্বীবনী শক্তি ধরে রাখেন। ১৯৮৫ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর, ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেটে অংশ নিতে থাকেন। নর্থকোট ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের অধিনায়ক ও কোচের যৌথ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬-৮৭ ও ১৯৮৭-৮৮ মৌসুমের প্রিমিয়ারশীপে শিরোপা বিজয়ে অংশ নেন।
