২৩ সেপ্টেম্বর, ১৯৪২ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্যাডিংটন এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৬০-এর দশকের শেষদিকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
বেশ লম্বাটে গড়নের অধিকারী। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে বল নিয়ন্ত্রণে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছিল। পরবর্তীতে নিখুঁত মানসম্পন্ন উদ্বোধনী বোলারে পরিণত হয়েছিলেন। ১৯৬৪-৬৫ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রেখেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে দারুণ খেলার সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা গমনার্থে তাঁকে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে মনোনীত করা হয়।
১৯৬৬ থেকে ১৯৬৮ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আটটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমে বব সিম্পসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যান। পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের সবকটিতেই তাঁর অংশগ্রহণ ছিল। ৪৮.০০ গড়ে ১১ উইকেট দখল করেন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৬ তারিখে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। ব্রায়ান টাবেরের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। গ্রাহাম ম্যাকেঞ্জি’র সাথে বোলিং উদ্বোধন জুটি দাঁড় করান। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ২/৫৪ ও ১/৯৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৯ ও ২* রান সংগ্রহ করেছিলেন। ২৩৩ রানে পরাজিত হলে সফরকারীরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৭ তারিখে জোহানেসবার্গের নিউ ওয়ান্ডারার্স স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগতভাবে বেশ সফল ছিলেন। দক্ষিণ আফ্রিকার প্রথম ইনিংসে প্রতিপক্ষীয় অধিনায়ক পিএল ফন ডার মারউইকে বিদেয় করে ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তাঁর পূর্বেকার সেরা ছিল ২/৫৪। এ পর্যায়ে টেস্টে নিজস্ব প্রথম পাঁচ-উইকেট লাভ করেন। খেলায় তিনি ৫/৯৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
পরবর্তী শীতকালে নিজ দেশে ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে মনোনীত হন। ১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নিজ দেশে চান্দু বোর্দে’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৩ ডিসেম্বর, ১৯৬৭ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। ৩৯ রান খরচায় ৫ উইকেট পান। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ১/৪৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ব্যাট হাতে নিয়ে ১ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৪৬ রানে জয়লাভ করলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়। এরপর দল থেকে বাদ পড়েন। তবে, চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন।
১৯৬৮ সালের অ্যাশেজ সিরিজে অংশ নিতে দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, এ সিরিজের কোন টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। এ সফরে ৪১ উইকেট দখল করেন। এসেক্সের বিপক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৭১ পান।
১৯৬৭-৬৮ মৌসুমে নিজ দেশে মনসুর আলী খান পতৌদি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ জানুয়ারি, ১৯৬৮ তারিখে ব্রিসবেনের গাব্বায় অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৪০ ও ১/৪৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ০* ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ৩৯ রানে জয়লাভ করে স্বাগতিকরা চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
২৮ বছর বয়সে এসে ১৯৭০-৭১ মৌসুম শেষে ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
