|

ডেভিড স্মিথ

১৪ সেপ্টেম্বর, ১৮৮৪ তারিখে ভিক্টোরিয়ার রিচমন্ড এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ মাঝারিসারির ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘সোকার’ ডাকনামে ভূষিত ডেভ স্মিথ ১.৮৩ মিটার উচ্চতা ও ৮২ কেজি ওজনের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৮-০৯ মৌসুম থেকে ১৯১১-১২ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়ার প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯১২ সালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুইটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ লাভ করেছিলেন। উভয় টেস্টই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলেছিলেন। ১৯১২ সালে ত্রি-দেশীয় সিরিজ খেলতে সিড গ্রিগরি’র নেতৃত্বাধীন অজি দলের সাথে ইংল্যান্ড গমন করেন। এসিবি’র সাথে বাদানুবাদের জের ধরে ছয়জন প্রধান খেলোয়াড়ের অনুপস্থিতিতে খেলার জন্যে মনোনীত হয়েছিলেন। ২৪ জুন, ১৯১২ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২৪* রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে সমতা বিরাজ করে।

এরপর, ১৯ আগস্ট, ১৯১২ তারিখে লন্ডনের ওভালে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। স্বাগতিকরা ২৪৪ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজ ১-০ ব্যবধানে জয়লাভ করে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। মাঠের বাইরে আনন্দ উপভোগেই অধিক ব্যস্ত ছিলেন।

সব মিলিয়ে এ সফরে ১৩.২৭ গড়ে ২৯২ রান তুলেছিলেন। সফরের শুরুতে সারের বিপক্ষে এক ইনিংস থেকেই তিনি ঠিক ১০০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, দলীয় সঙ্গীর কারণে রান-আউটের শিকার হন ও সারে দল ২১ রানে জয় পায়। অত্যন্ত দূর্বলমানের অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে তাঁকে দুই টেস্ট খেলতে হয়।

সফরটিতে তিনি বেশ অনিয়ন্ত্রিত অবস্থায় ছিলেন। মাতাল অবস্থায় সাধারণ জনগণ ও ইংরেজ শৌখিন খেলোয়াড়দের অযাচিত আচরণ করেন। দেশে ফিরে বোর্ড থেকে জবাবদিহিতার জন্যে বলা হলেও তিনি অসুস্থতার কারণে অভিযোগ খণ্ডাতে পারেননি। এরপর আর কোন প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নেননি। তবে, ১৯১০-১১ মৌসুমে দলের সাথে নিউজিল্যান্ড গমন করেছিলেন।

ক্রিকেটের পাশাপাশি অস্ট্রেলীয় রুলস ফুটবলেও সিদ্ধহস্তের অধিকারী ছিলেন। ১৯০৩ থেকে ১৯১৪ সময়কালে ১৪৩টি খেলায় অংশ নিয়ে ১১৪ গোল করেছিলেন। এসেনডন ও রিচমন্ডের পক্ষে সেন্টার হাফ-ফরোয়ার্ড অবস্থানে খেলেছেন। তন্মধ্যে, জ্যাক ওরেলের প্রশিক্ষণে ১৯১১ সালে শিরোপা বিজয়ী এসেনডন দলকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। অবসর গ্রহণের পূর্বে রিচমন্ডের পক্ষে একটি খেলায় অংশ নিয়েছিলেন।

২৯ জুলাই, ১৯৬৩ তারিখে ভিক্টোরিয়ার হথর্ন এলাকায় ৭৮ বছর ৩১৮ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।

সম্পৃক্ত পোস্ট