৬ অক্টোবর, ১৯২৯ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের আর্নক্লিফ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার, কোচ, ধারাভাষ্যকার, সাংবাদিক ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে মিডিয়াম বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
ডাক সহকারী আর্নেস্ট হ্যাস্টিংস ফাভেল ও অ্যামেলিয়া ডরিস দম্পতির দ্বিতীয় সন্তান ছিলেন। স্থানীয় বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করতেন। এ. ডব্লিউ. গ্রীন ও পয়ডেভিন-গ্রে শীল্ড প্রতিযোগিতায় শুরুরদিকের ক্রিকেট খেলতেন। ১৮ বছর বয়সে সেন্ট জর্জ ডিস্ট্রিক্ট ক্রিকেট ক্লাবের পক্ষে প্রথম স্তরের ক্রিকেট খেলতে শুরু করেন। ১৯৫১ সালে সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান। সেখানে ইস্ট টরেন্স দলে যোগ দেন।
১৯৫১-৫২ মৌসুম থেকে ১৯৬৯-৭০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৫১ সালের শেষদিকে রাজ্য দলের পক্ষে প্রথম খেলেন। নিউ সাউথ ওয়েলসের বিপক্ষে ৮৬ ও ১৬৪ রানের ইনিংস উপহার দেন। ১৯৫২-৫৩ মৌসুমে শেফিল্ড শীল্ডের শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন।
১৯৫৪ থেকে ১৯৬১ সাল পর্যন্ত সময়কালে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৯ টেস্টে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৫৪-৫৫ মৌসুমে নিজ দেশে লিওনার্ড হাটনের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ২৬ নভেম্বর, ১৯৫৪ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ২৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ইনিংস ও ১৫৪ রানে জয় পেয়ে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ২৫ ফেব্রুয়ারি, ১৯৫৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৯ রান সংগ্রহ করেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলেও স্বাগতিকরা ৩-১ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।
১৯৫৫ সালে ইয়ান জনসনের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ সফরে যান। ১১ জুন, ১৯৫৫ তারিখে কিংস্টনে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি দলের একমাত্র ইনিংসে ফ্রাঙ্ক কিংয়ের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ৮২ রানে জয় পেলে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।
১৯৫৮-৫৯ মৌসুমে নিজ দেশে পিটার মে’র নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ৯ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৪ রান তুলেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও পূর্বের দুই টেস্টে জয়ের সুবাদে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
এরপর, ৩০ জানুয়ারি, ১৯৫৯ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৪ ও ১৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। ১০ উইকেটে জয় পেলে স্বাগতিকরা পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
১৯৫৯-৬০ মৌসুমে দলের সাথে ভারত গমন করেন। মাদ্রাজ টেস্টে ১০১ রানের একমাত্র শতরানের সন্ধান পান। ১৯৬০-৬১ মৌসুমে নিজ দেশে ফ্রাঙ্ক ওরেলের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফাস্ট বোলার ওয়েসলি হলের দ্রুত গতিসম্পন্ন বোলিংয়ের সাথে পেড়ে উঠেননি। এরফলে, দল থেকে বাদ পড়েন।
২৭ জানুয়ারি, ১৯৬১ তারিখে অ্যাডিলেডে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১ ও ৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ১-১ ব্যবধানে অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
ব্যাপকসংখ্যক রান কিংবা রেকর্ডের অধিকারী ছিলেন না। তবে, বিনোদনধর্মী খেলা উপহার দিতেন। টেস্টগুলো থেকে ২৭.০৩ গড়ে ৭৫৭ রান তুলেছিলেন। ১৯৭০ সালে ক্রিকেট খেলা থেকে বিদেয় নেন।
ক্রিকেটের বাইরে বেসবল খেলায় দক্ষ ছিলেন। ১৯৫৩ ও ১৯৫৪ সালের অল-অস্ট্রেলিয়ান বেসবল দলের সদস্য ছিলেন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কমিশনের বেতার ধারাভাষ্যকারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। এক পর্যায়ে কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন। অনেকগুলো বছর সাউথ অস্ট্রেলিয়ায় কিশোর ক্রিকেটার ও ফুটবলারদের প্রশিক্ষণ দিতেন। ১৯৬৫-৬৬ মৌসুমে সাউথ অস্ট্রেলিয়া দলের দল নির্বাচকের দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৬৯ সালে এমবিই উপাধীতে ভূষিত হন। ১৯৭০ সালে স্যার ডোনাল্ড ব্র্যাডম্যান মন্তব্য করেন যে, যারা ক্রিকেট খেলেছে, তাঁরা কেউই তাঁর ন্যায় উত্তম ক্রীড়াসূলভ আচরণ করতে পারেননি। একই বছর স্বীয় আত্মজীবনী ‘বাই হুক অর বাই কাট’ প্রকাশ করেন।
ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। পরিণয় এএল ফাভেল নামীয় সন্তানের জনক। কিছুকাল ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অতঃপর, ১৪ জুন, ১৯৮৭ তারিখে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার ম্যাগিল এলাকায় ৫৭ বছর ২৫১ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
