২৪ জুলাই, ১৯৩৮ তারিখে অকল্যান্ডের মাউন্ট ইডেনে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। খাঁটিমানের ডানহাতি ব্যাটসম্যানের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, চমৎকারভাবে ফিল্ডিং করতেন। নিউজিল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৫৬-৫৭ মৌসুম থেকে ১৯৭০-৭১ মৌসুম পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর নিউজিল্যান্ডীয় ক্রিকেটে অকল্যান্ড দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন।

১৯৫৮ থেকে ১৯৬৪ সালে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট এগারো টেস্টে অংশগ্রহণ করেছেন। ১৯৫৮ সালে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। তবে, দল একেবারেই খেলার বাইরে ছিল। এ সফরে ৫১৩ রান ও ৩৮ উইকেট দখল করেন। এরফলে, টেস্ট দলে খেলার পথ সুগম হয়। ৩ জুলাই, ১৯৫৮ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। নিজেকে তেমন মেলে ধরতে পারেননি। ৯* ও ১৮ রান করে সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ১/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, সফরকারীরা ইনিংস ও ৭১ রানে পরাজিত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে নিজস্ব ২০তম জন্মদিনে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে ৫০ রান তুলেন। এটিই তাঁর সেরা সাফল্য ছিল। একই সফরের ২১ আগস্ট, ১৯৫৮ তারিখে ওভালে অনুষ্ঠিত সিরিজের পঞ্চম ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। ব্যক্তিগত সফলতার সন্ধান পান। প্রথম ইনিংসে ব্যক্তিগত পূর্বতন সর্বোচ্চ ৩০ রান অতিক্রম করেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৪১* রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালেও সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়।

১৯৬১-৬২ মৌসুমে জন রিডের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের সদস্যরূপে প্রথমবারের মতো দক্ষিণ আফ্রিকা গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৬১ তারিখে ডারবানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ১৩ ও ১০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ৩০ রানে জয় পেলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

১৯৬৩-৬৪ মৌসুমে নিজ দেশে ট্রেভর গডার্ডের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৬৪ তারিখে ডুনেডিনে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। উভয় ইনিংসে এক রান করে সংগ্রহ করেছিলেন ও বল হাতে ১/৯ লাভ করেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়। ব্যাট কিংবা বল হাতে নিয়ে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে তেমন সুবিধে করতে পারেননি। সর্বমোট ৫২ রান ও একটি উইকেট পেয়েছিলেন। তাসত্ত্বেও সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় শেষ হয়।

মাত্র ২৫ বছর বয়সে তাঁর আন্তর্জাতিক খেলোয়াড়ী জীবন থমকে যায়। তবে, ১৯৭১ সাল পর্যন্ত ঘরোয়া আসরের ক্রিকেটে সরব থাকেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট