|

আকিলা ধনঞ্জয়

৪ অক্টোবর, ১৯৯৩ তারিখে পানাদুরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। বামহাতে ব্যাটিং করেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক কিংবা লেগ-ব্রেক বোলিং করেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

৫ ফুট ৭ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। পানাদুরাভিত্তিক মহানামা বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ২০১২-১৩ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ওয়েয়াম্বা ইউনাইটেডের প্রতিনিধিত্ব করছেন। এছাড়াও, চেন্নাই সুপার কিংস, গল গ্ল্যাডিয়েটর্স ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে খেলছেন। ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ তারিখে কলম্বোর কোল্টসে অনুষ্ঠিত কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব বনাম রাগামা ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

ডানহাতি স্পিনার হিসেবে বিস্তৃত পর্যায়ের বোলিং করতে পারেন। অফ-ব্রেক, লেগ-স্পিন, গুগলি ও ক্যারম বলে পারদর্শী। এরফলে, ব্যাটসম্যানদের দুঃশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ান। রহস্যময়তা ও বলের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকায় খেলোয়াড়দের পক্ষে তাঁকে বুঝতে বেশ দুর্বোধ্যের কবলে পড়তে হয়। দল নির্বাচকমণ্ডলীও তাঁদের ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্তের স্বার্থকতা খুঁজে পান।

২০১২ সাল থেকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশ নিচ্ছেন। ২০১২ সালের বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় প্রাথমিক দলে ঠাঁই পান। পরবর্তীতে শ্রীলঙ্কার ১৫-সদস্যের চূড়ান্ত তালিকায় দলের পক্ষে খেলার সুযোগ পান। ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১২ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন। এ পর্যায়ে তিনি কোন প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশগ্রহণ করেননি। অনুশীলনীতে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে বেশ মোহিত করেন। ফলে, অধিনায়ক হিসেবে তিনি দল নির্বাচকমণ্ডলীকে স্পিনার হিসেবে তাঁর গুরুত্বতা তুলে ধরেছিলেন। কিন্তু, তাঁর এ উত্থানকে শ্রীলঙ্কান ক্রিকেট বিশ্লেষকদের কাছে বিতর্কের উদ্রেক ঘটায়। অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের কঠোর পরিশ্রমের বিপরীতে পূর্বেকার অপরিচিত খেলোয়াড়ের অন্তর্ভুক্তিকে মেনে নিতে পারেননি। মাহেলা জয়াবর্ধনে’র নেতৃত্বাধীন ওয়েয়াম্বা ইউনাইটেড দলের সদস্যরূপে তিনি বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত ক্রিকেটে অংশ নিতেন।

বিতর্কিত স্পিনার হিসেবে ঐ প্রতিযোগিতার চার খেলার প্রত্যেকটিতেই অংশ নিয়ে উইকেট পান। তন্মধ্যে, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলায় ২/২৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। এমনকি চূড়ান্ত খেলায়ও অংশ নিয়েছিলেন তিনি। তবে, অধিনায়কত্ব থেকে মাহেলা জয়াবর্ধনেকে প্রত্যাহার করে নেয়ার ফলে দল নির্বাচকমণ্ডলীর কাছ থেকেও আস্থা হারান।

এরপর থেকে পরবর্তী বছরগুলো শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের পক্ষে হঠাৎ আলোর ঝলকানীর ন্যায় অংশ নেয়ার সুযোগ পেতেন। তবে, খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুরদিকে প্রতিশ্রুতিশীলতা ধরে রাখতে পারেননি। জুন, ২০১৭ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওডিআই সিরিজ খেলার জন্যে পুণরায় দলে ফিরিয়ে আনা হয়।

২০১৭-১৮ মৌসুমে দিনেশ চণ্ডীমলের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে বাংলাদেশ গমন করেন। ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২০ ও ০ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৩/২০ ও ৫/২৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, রোশেন সিলভা’র অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে সফরকারীরা ২১৫ রানে জয় পেলে ১-০ ব্যবধানে সিরিজে জয়লাভ করে।

২০১৮-১৯ মৌসুমে নিজ দেশে জো রুটের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৪ নভেম্বর, ২০১৮ তারিখে পাল্লেকেলেতে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২/৮০ ও ৬/১১৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৩১ ও ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, প্রতিপক্ষীয় দলনেতার অসাধারণ অল-রাউন্ড ক্রীড়াশৈলীর বদৌলতে সফরকারীরা ৫৭ রানে জয় পেলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নিয়ে যায়।

২০১৯ সালে নিজ দেশে কেন উইলিয়ামসনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১৪ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের সাথে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ৫/৮০ ও ১/৮৪ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নামার সুযোগ পেলেও উইলিয়াম সমারভিলের বলে শূন্য রানে বিদেয় নিয়েছিলেন। তবে দলীয় অধিনায়ক ডিমুথ করুণারত্নে’র অসাধারণ ব্যাটিং সাফল্যে স্বাগতিকরা ৬ উইকেটে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

কিন্তু, ২০ আগস্ট, ২০১৯ তারিখে সন্দেহজনক বোলিংয়ের কারণে তাঁকে আবারও নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়। ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ তারিখে তাঁকে এক বছরের জন্যে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়। ৮ জানুয়ারি, ২০২১ তারিখে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং করার অনুমতি দেয়া হয়। ৩ মার্চ, ২০২১ তারিখে কুলিজে অনুষ্ঠিত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টি২০আইয়ে হ্যাট্রিক লাভ করেন। তবে, কাইরন পোলার্ড (৩৮) এক ওভারে ছয়টি ছক্কা হাঁকালে তাঁর এ সাফল্য ম্রিয়মান হয়ে পড়ে।

সম্পৃক্ত পোস্ট