| |

ক্রিস স্মিথ

১৫ অক্টোবর, ১৯৫৮ তারিখে নাটালের ডারবানে জন্মগ্রহণকারী বিখ্যাত ক্রিকেটার ও প্রশাসক। মূলতঃ ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতে পারতেন। ১৯৮০-এর দশকে ইংল্যান্ডের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

পিতা-মাতা ইংরেজ হবার সুবাদে ইংল্যান্ডের পক্ষে খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন। বর্ণবৈষম্যবাদের কবলে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ভাগ্য পরিবর্তনে ইংল্যান্ডে অভিবাসিত হন। অবশ্য, স্বীয় ভ্রাতা রবিন স্মিথের ন্যায় সাফল্য পাননি। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে গ্ল্যামারগন ও হ্যাম্পশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে নাটাল দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭৭-৭৮ মৌসুম থেকে ১৯৯১ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন।

দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকাকালীন অ্যালান জোন্সের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তিনি তাঁকে সাউথ ওয়েলস লীগে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানান। একই সাথে গ্ল্যামারগনে যোগ দেন। অ্যালান জোন্সের পরামর্শক্রমে ১৯৭৯ সালে সাউথ ওয়েলসের ক্লাব ক্রিকেটে অংশ নেন। তবে, তিনি বিদেশী খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচিত হলে সোয়ানসীতে শ্রীলঙ্কান একাদশের বিপক্ষে গ্ল্যামারগনের সদস্যরূপে কেবলমাত্র একটি প্রীতিখেলায় অংশ নিতে পেরেছিলেন। ৬৭ রানের ইনিংস খেলেছিলেন।

১৯৮০ সালে হ্যাম্পশায়ারের সদস্য হন ও এক পর্যায়ে ইংল্যান্ড দলে খেলার সুযোগ পান। ক্লাবটির পক্ষে ৪১টি শতক সহযোগে ৪০-এর মাঝামাঝি গড়ে পনেরো হাজারের অধিক রানের সন্ধান পেয়েছেন।

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের পক্ষে সব মিলিয়ে মাত্র আট টেস্ট ও চারটি ওডিআইয়ে অংশগ্রহণে সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮৩ সালে নিজ দেশে জিওফ হাওয়ার্থের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ১১ আগস্ট, ১৯৮৩ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত নিউজিল্যান্ড দলের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। নীল ফস্টার ও নিক কুকের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। রিচার্ড হ্যাডলি’র প্রথম বলেই শূন্য রানে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়েন। তবে, দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৩ রান তুলেছিলেন। ডেভিড গাওয়ারের অসামান্য ব্যাটিংশৈলীর সুবাদে স্বাগতিকরা ১২৭ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তিন বছরের অধিক সময় নিয়ে ৮ টেস্ট খেলেন। তবে, দলে নিজেকে কখনও প্রতিষ্ঠিত করতে পারেননি। কেবলমাত্র অকল্যান্ডে ৯১ ও ফয়সালাবাদে ৬৬ রানের দুইটি উল্লেখযোগ্য ইনিংস খেলেছিলেন।

১৯৮৬ সালে নিজ দেশে কপিল দেবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৯ জুন, ১৯৮৬ তারিখে লিডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। ২৮ রান সংগ্রহের পর রবি শাস্ত্রী’র বলে কিরণ মোরে’র গ্লাভসবন্দী হন। এছাড়াও, প্রথম ইনিংসে ৬ রান সংগ্রহ করেন। দিলীপ বেঙ্গসরকারের অসাধারণ ব্যাটিং নৈপুণ্যে স্বাগতিকরা ২৭৯ রানে পরাভূত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

অংশগ্রহণকৃত ওডিআইগুলোর মধ্যে ওয়েলিংটনে ইংল্যান্ডের সংগৃহীত ১৩৬ রানের মধ্যে তিনি ৭০ রান তুলতে পেরেছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ারের পক্ষে বিরাটভাবে সফলতার স্বাক্ষর রাখেন। ১৯৯১ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ৬০.৮৩ গড়ে ১৮৮৬ রান তুলে স্বর্ণালী মৌসুম অতিবাহিত করেন। এছাড়াও, শেষ মৌসুমে ৬৪.৭৩ গড়ে ১৫৫৩ রান সংগ্রহ করেছিলেন।

১৯৮৪ সালে উইজডেন কর্তৃক অন্যতম বর্ষসেরা ক্রিকেটারের সম্মাননাপ্রাপ্ত হন। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর প্রশাসনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। পার্থের ওয়াকায় প্রধান নির্বাহী হিসেবে মনোনীত হন। বিপণন ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেছেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট