|

অজিত ডি সিলভা

১২ ডিসেম্বর, ১৯৫২ তারিখে আম্বালাঙ্গোদা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিং করতেন। এছাড়াও, বামহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৭৩-৭৪ মৌসুম থেকে ১৯৮২-৮৩ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। আরোসা শ্রীলঙ্কার পক্ষে ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

১৯৭৫ থেকে ১৯৮২ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট ও ছয়টিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে অংশ নেন। ১৪ জুন, ১৯৭৫ তারিখে নটিংহামে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জগতে প্রবেশ করেন।

১৯৮১-৮২ মৌসুমে নিজ দেশে কিথ ফ্লেচারের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের মুখোমুখি হন। ১৭ ফেব্রুয়ারি, ১৯৮২ তারিখে সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। কলম্বোর পিএসএসে অনুষ্ঠিত ঐ টেস্টে অন্য সকলের সাথে তাঁর একযোগে অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। এরফলে, শ্রীলঙ্কার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেয়ার গৌরব অর্জন করেন। বেশ ভালোমানের বোলিং করলেও উভয় ইনিংস থেকে মাত্র দুইটি করে উইকেট পেয়েছিলেন। প্রথম ইনিংসে ২/৫২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে ২/৪৬ বোলিং পরিসংখ্যান গড়েছিলেন। নিখুঁতমানের বল উইকেটে ফেললেও স্পিন উপযোগী উইকেটে শূন্যে পর্যাপ্ত বলকে ভাসাতে পারেননি। এছাড়াও, ১২ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, জন অ্যাম্বুরি’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে সফরকারীরা ৭ উইকেটে জয় তুলে নেয়।

সোমাচন্দ্র ডি সিলভা’র সাথে স্পিন জুটি গড়ে টেস্ট ক্রিকেটের সূচনালগ্নে বেশ সামাল দেবার কথা ভাবা হলেও তা আর হয়ে উঠেনি। পাশাপাশি অপর তিন টেস্টেও প্রত্যাশার তুলনায় বেশ নিম্নমানের সফলতা পান। পাকিস্তান সফরে করাচী ও ফয়সালাবাদ টেস্টে নিখুঁততার সাথে বল করলেও মানসম্পন্ন ব্যাটসম্যানদের বিপক্ষে বেশ হিমশিম খান।

১৯৮২-৮৩ মৌসুমে বান্দুলা বর্ণাপুরা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ১৭ সেপ্টেম্বর, ১৯৮২ তারিখে মাদ্রাজে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। ০ ও ১৪ রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, ০/৭৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, দিলীপ মেন্ডিসের জোড়া শতকের কল্যাণে খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ায়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

ঘরোয়া ক্রিকেট অঙ্গনে বেশ উঁচুমানের বামহাতি স্পিন বোলার ছিলেন। দীর্ঘ সময় ধরে শ্রীলঙ্কার অর্ধ-ডজন স্পিনারের অন্যতম ছিলেন। তবে, সর্বোচ্চ পর্যায়ের ক্রিকেটে এ ধারা অব্যাহত রাখতে পারেননি। মাত্র কয়েকটি টেস্ট ও ওডিআইয়েই কেবলমাত্র নিজে মেলে ধরতে পেরেছিলেন। কোনটিতেই তেমন সফলতার স্বাক্ষর রাখতে পারেননি।

প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ব্যাটসম্যানদেরকে বেশ মূল্য দিতে হতো। প্রায়শঃই পরবর্তী খেলায় শিকারের জন্যে মুখিয়ে থাকতেন। আরও অনেকগুলো আন্তর্জাতিক খেলায় অংশ নিতে পারতেন। কিন্তু, ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে তৎকালীন নিষিদ্ধ ঘোষিত দক্ষিণ আফ্রিকা গমনের ফলে দলের অন্যান্য সদস্যের সাথে তাঁকেও আজীবন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে হয়।

সম্পৃক্ত পোস্ট