২ সেপ্টেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মাতারায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিংয়ে পারদর্শী ছিলেন। শ্রীলঙ্কার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
মাতারাভিত্তিক সেন্ট টমাস কলেজে অধ্যয়ন করতেন। এছাড়াও তিনি উইকেট-রক্ষণে পারদর্শী ছিলেন। বিদ্যালয় জীবনে মাত্র ১৪৯ বলে ৩০৪ রান তুলেছিলেন। ইয়ানওয়াত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত খেলায় আম্বালাঙ্গোদাভিত্তিক শ্রী দেবানন্দ কলেজের বিপক্ষে ঐ ইনিংসে ২৫টি ছক্কা ও ১৯টি চারের মার ছিল। শীর্ণকায় গড়নের অধিকারী কিন্তু, শক্তিধর প্রকৃতির ছিলেন না। তবে, ব্যাটিং কৌশল সম্পর্কে ব্যাপকভাবে অবগত ছিলেন। ঘরোয়া পর্যায়ের ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে রান সংগ্রহকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছিলেন। আস্থাব্যঞ্জক ও নিখুঁত কৌশল গ্রহণের কারণে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন। তবে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ের ক্রিকেটে এ সফলতার পুণরাবৃত্তি ঘটাতে পারেননি। এছাড়াও, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁকে যথোপযুক্ত ব্যাটিং অবস্থানে নামাননি।
১৯৯০-৯১ মৌসুম থেকে ২০১৩-১৪ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব, মুরস স্পোর্টস ক্লাব, রুহুনা, সিলেট বিভাগ এবং তামিল ইউনিয়ন ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আবাহনী লিমিটেডের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৯ থেকে ২০০৯ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে চারটিমাত্র টেস্ট, ১৫টি ওডিআই ও একটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ২২ আগস্ট, ১৯৯৯ তারিখে গলেতে অনুষ্ঠিত সফররত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওডিআইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সাথে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ১৮ নভেম্বর, ১৯৯৯ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইন্ডিকা গালাগে ও তিলকরত্নে দিলশানের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। দলের একমাত্র ইনিংসে ৩৯ রান সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন। তবে, মারভান আতাপাত্তু’র ব্যাটিং দৃঢ়তা স্বত্ত্বেও স্বাগতিকরা ড্র করতে সক্ষম হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। জাতীয় দলের পক্ষে খেলায় অংশগ্রহণের পূর্বে ‘এ’ দলের নিয়মিত খেলোয়াড়ের মর্যাদা পান।
১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে সনথ জয়সুরিয়া’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে পাকিস্তান গমন করেন। ১২ মার্চ, ২০০০ তারিখে করাচীতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। ৫ ও ১৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, ইনজামাম-উল-হকের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২২ রানে জয় পেলেও ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
২০০১ সালে দল থেকে বাদ পড়েন। আট বছর পর ভারতের বিপক্ষে খেলার জন্যে টি২০ দলের সদস্যরূপে মনোনীত হন। এরপর, ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত আইসিসি বিশ্ব টি২০ প্রতিযোগিতায় খেলার জন্যে শ্রীলঙ্কা দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
ধ্রুপদীশৈলীর খেলোয়াড় ছিলেন। ব্যাটিং করাকে প্রকৃতই সহজভাবে দেখতেন। ঘরোয়া ক্রিকেটে অধিকাংশ সময়ই শীর্ষ পাঁচ নম্বরের মধ্যে নামতেন। কিন্তু, শ্রীলঙ্কার পক্ষে খেলাকালীন মাঝারিসারির নিচেরদিকে তাঁকে নামানো হতো। এ অবস্থানে থেকে নিজের খেলার সাথে ভারসাম্য রক্ষা করতে পারেননি। এছাড়াও, তাঁকে শীর্ষ পর্যায়ে খেলানো হতো না। অংশগ্রহণকৃত টেস্টসহ ওডিআইয়ের কোন ইনিংসেই অর্ধ-শতরানের সন্ধান পাননি। প্রকৃতপক্ষে কখনো তিনি তাঁর শুরুরদিকের প্রতিশ্রুতিশীলতা তুলে ধরার সুযোগ পাননি। ক্রিকেট খেলা থেকে অবসর গ্রহণের পর কোচিং জগতের দিকে ধাবিত হন।
