১১ জুলাই, ১৯৭০ তারিখে ক্যান্ডিতে জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও কোচ। মূলতঃ উইকেট-রক্ষক হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। এছাড়াও, ডানহাতে ব্যাটিং করতেন। ১৯৯০-এর দশকে শ্রীলঙ্কার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
১৯৮৯-৯০ মৌসুম থেকে ২০০৬-০৭ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটে ব্লুমফিল্ড ক্রিকেট ও অ্যাথলেটিক ক্লাব, কলম্বো ক্রিকেট ক্লাব, কোল্টস ক্রিকেট ক্লাব ও সিংহলীজ স্পোর্টস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, কানাডা দলের পক্ষে খেলেছেন।
১৯৯৩ থেকে ১৯৯৪ সময়কালে শ্রীলঙ্কার পক্ষে সর্বমোট ১১ টেস্ট ও ১৬টি ওডিআইয়ে অংশ নিয়েছিলেন। ১৯৯৩ সালে নিজ দেশে কেপলার ওয়েসেলসের নেতৃত্বাধীন স্প্রিংবকের মুখোমুখি হন। ২৫ আগস্ট, ১৯৯৩ তারিখে মোরাতুয়ায় অনুষ্ঠিত সফররত দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। পিয়াল বিজেতুঙ্গে’র সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৭ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ গ্লাভসবন্দী করেছিলেন। তবে, দলীয় অধিনায়ক অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র বীরোচিত ভূমিকায় খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। একই সফরের ২ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ তারিখে কলম্বোর আরপিএসে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।
ব্যাট হাতে নিয়ে বেশ প্রতিরোধ গড়ে তুলতেন। তবে, দূর্ভাগ্যজনকভাবে তেমন সফলতা পেতেন না। দক্ষিণ আফ্রিকার পেস আক্রমণে বেসামাল হয়ে পড়া শীর্ষসারিতে ব্যাটিংয়ের জন্যে তাঁকে মনোনীত করা হলে তিনি তা অতীব সাহসের সাথে মোকাবেলা করেছিলেন। ১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে নিউজিল্যান্ড গমনার্থে চামারা দুনুসিংহেকে প্রাধান্য দেয়া হয়।
১৯৯৪-৯৫ মৌসুমে অর্জুনা রানাতুঙ্গা’র নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কান দলের সদস্যরূপে জিম্বাবুয়ে গমন করেন। ২০ অক্টোবর, ১৯৯৪ তারিখে বুলাওয়েতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে অংশ নেন। একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, দুইটি ক্যাচ ও একটি স্ট্যাম্পিংয়ের সাথে নিজেকে জড়িয়ে রেখেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি ফলাফলবিহীন অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
প্রতিদ্বন্দ্বিতাধর্মী উইকেট-রক্ষক-ব্যাটসম্যান ছিলেন। ১৯৯০-এর দশকের সূচনালগ্নে শ্রীলঙ্কার পক্ষে খেলতেন। সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্যে দলের প্রধান উইকেট-রক্ষকের মর্যাদাপ্রাপ্ত হন। ১৯৯৩-৯৪ মৌসুমে মাত্র এক মৌসুম তাঁর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান ছিল। কিন্তু, ব্যাটিং দূর্বলতার কারণে দল থেকে বাইরে চলে যেতে বাধ্য হন। পাশাপাশি, অন্যান্যদের সাথে প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হন। গ্লাভস হাতে নিয়ে সর্বদাই কার্যকর ও স্ট্যাম্পের পিছনে সদাসতর্ক অবস্থায় বিচরণ করতেন। এরফলে, দল নির্বাচকমণ্ডলী তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হন। কিন্তু, রান সংগ্রহে তৎপর না থাকায় নতুন খেলোয়াড়ের সন্ধানে নামতে হয়। জাতীয় দল থেকে প্রত্যাখ্যাত হবার পরও ঘরোয়া ক্রিকেটে খেলা চালিয়ে যেতে থাকেন।
১৯৯৮ সালে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে খেলেন। কিন্তু, আর তাঁকে জাতীয় দলে খেলার জন্যে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এরপর, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান। সেখানে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে যুক্ত হন ও দেশে বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন। এক পর্যায়ে দলটি ওডিআই মর্যাদাপ্রাপ্ত হয়। ১২ জুলাই, ২০১৯ তারিখে এ দায়িত্ব ত্যাগ করেন। তাঁর পরিবর্তে ভারতের সাবেক উইকেট-রক্ষক কিরণ মোরেকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
