২৬ জুন, ১৯৫১ তারিখে নিউ সাউথ ওয়েলসের ওয়ারাটা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখেছিলেন। বামহাতে ফাস্ট-মিডিয়াম বোলিংয়ের পাশাপাশি বামহাতে নিচেরসারিতে কার্যকর ব্যাটিং করতেন। ১৯৭০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।
কিশোর অবস্থাতেই তাঁর মাঝে প্রতিশ্রুতিশীলতা লক্ষ্য করা যায়। ১৯৭১-৭২ মৌসুম থেকে ১৯৭৯-৮০ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ২০ বছর বয়সে নিউ সাউথ ওয়েলসের পক্ষে প্রথম খেলতে নামেন। সাউথ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলায় ৪০ ও ১২২ রান তুলেন। পাশাপাশি, দুই উইকেট পেয়েছিলেন।
১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সর্বমোট ১৫ টেস্ট ও পাঁচটিমাত্র ওডিআইয়ে অংশগ্রহণ করেছিলেন। ১৯৭৩-৭৪ মৌসুমে নিজ দেশে বেভান কংডনের নেতৃত্বাধীন কিউই দলের মুখোমুখি হন। ২৯ ডিসেম্বর, ১৯৭৩ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। ইয়ান ডেভিসের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। টেস্ট অভিষেক পর্বকে স্মরণীয় করে রাখেন। দলের একমাত্র ইনিংসে নয় নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৮ বল থেকে ৫২ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন। এর পূর্বে ৪/৭৫ লাভ করেছিলেন। অবশ্য, দ্বিতীয় ইনিংসে ০/১৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। পাশাপাশি, একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। সফরকারীরা ইনিংস ও ২৫ রানের ব্যবধানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে পিছিয়ে যায়।
১৯৭৫ সালে ইয়ান চ্যাপেলের অধিনায়কত্বে অস্ট্রেলিয়া দলের সদস্যরূপে ইংল্যান্ড গমন করেন। ১৪ আগস্ট, ১৯৭৫ তারিখে লিডসের হেডিংলিতে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ৬/৮৫ ও ৩/৭২ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাট হাতে নিয়ে ৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ে পরিণত হলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে স্বাগতিকরা ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
২৩ বছর বয়সে ১৯৭৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী আসরে তুমুল ঝড় তুলেন। গ্রুপ পর্বের খেলায় অংশ নেয়ার সুযোগ পাননি। অবশেষে, সেমি-ফাইনালে স্বাগতিক ইংল্যান্ড দলের মুখোমুখি হন। ৬/১৪ লাভ করে দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান। খেলার প্রথম ছয় উইকেট পেয়েছিলেন। ২০০২ সালে উইজডেনে তাঁর এ বোলিংকে সেরা হিসেবে গণ্য করে। এরপর, জয়ের দিকে ধাবিত অবস্থায় দলের সংগ্রহ ৩৯/৬ থাকাকালে মাঠে নামেন। ২৮ বল থেকে ২৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকে পরিণত হন।
চূড়ান্ত খেলায় ৫/৪৮ লাভ করলেও ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল ২৯১ রান তুলে। ১৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজ খেলায় জয় পায়। দুই খেলা থেকে তিনি ১১ উইকেট পেয়ে অসাধারণ ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শন করেছিলেন।
১৯৭৫-৭৬ মৌসুমে নিজ দেশে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ২৮ নভেম্বর, ১৯৭৫ তারিখে ব্রিসবেনে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ১৩ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/৪২ ও ২/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, গ্রেগ চ্যাপেলের জোড়া শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ৮ উইকেটে পরাজিত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।
একই সফরের ৩ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সিরিজের চতুর্থ টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ২০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৫৪ ও ২/৪০ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। দলনায়ক গ্রেগ চ্যাপেলের অনবদ্য ব্যাটিং কৃতিত্বে সফরকারীরা ৭ উইকেটে পরাভূত হলে ছয়-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ৩-১ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
একই সফরের ৩১ জানুয়ারি, ১৯৭৬ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সিরিজের ষষ্ঠ ও চূড়ান্ত টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ৫/৩৪ ও ০/২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। স্বাগতিকরা ১৬৫ রানে জয় পেলে ৫-১ ব্যবধানে সিরিজ জয় করে নেয়।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে গ্রেগ চ্যাপেলের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে নিউজিল্যান্ড সফরে যান। ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৭ তারিখে ক্রাইস্টচার্চে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উদ্বোধনী টেস্টে অংশ নেন। বিরাট সাফল্যের সাথে ছাঁপ রাখেন। প্রথম ইনিংসে ৯৬ রানে পৌঁছানোকালে টেস্টে পূর্বতন সর্বোচ্চ রানকে অতিক্রম করেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১০১ রান সংগ্রহ করেছিলেন। ১৮৭ মিনিট ক্রিজে অবস্থান করে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। সপ্তম উইকেটে ডগ ওয়াল্টার্সের (২৫০) সাথে ২১৭ রানের নতুন অস্ট্রেলীয় টেস্ট রেকর্ড গড়েন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪৮ ও ১/৪৮ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ দুইটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। খেলাটি ড্রয়ের দিকে গড়ালে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় অগ্রসর হতে থাকে।
১৯৭৬-৭৭ মৌসুমে নিজ দেশে টনি গ্রেগের নেতৃত্বাধীন এমসিসি দলের মুখোমুখি হন। ১২ মার্চ, ১৯৭৭ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত সফররত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের একমাত্র টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাট হাতে নিয়ে ৪ ও ১৬ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/৪ ও ০/২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ডেরেক র্যান্ডলের বীরত্বপূর্ণ শতক সত্ত্বেও স্বাগতিকরা ৪৫ রানের জয় তুলে নেয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।
১৯৭৭ সালে অস্ট্রেলীয় ধনকুবের ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে অংশ নেন। ২৯ বছর বয়সে প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
ক্রিকেটের পাশাপাশি বেসবল ও রাগবি ইউনিয়নে দক্ষ ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। হেলেন নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। ব্রুক ড্রেলিনকোট নাম্নী কন্যা এবং বেন ও স্যাম নামীয় পুত্রদ্বয়ের জনক। কিছুকাল অসুস্থ ছিলেন। অতঃপর, ১০ জুন, ২০১৪ তারিখে সিডনির রয়্যাল প্রিন্স আলফ্রেড হাসপাতালে ৬২ বছর ৩৪৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে। বছরের শুরুরদিকে ৩৩ বছর বয়সী সন্তান ক্লিন্ট মস্তিষ্কের ক্যান্সারে মারা যায়।
