|

স্টিভ ও’কিফ

৯ ডিসেম্বর, ১৯৮৪ তারিখে মালয়েশিয়ায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডার হিসেবে খেলতেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি স্লো লেফট-আর্ম অর্থোডক্স বোলিংয়ে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১০-এর দশকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।

‘সক’ ডাকনামে ভূষিত স্টিভ ও’কিফ ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি (১.৭৫ মিটার) উচ্চতার অধিকারী। স্টিফেন ও’কিফ এবং জেন ও’কিফ দম্পতির সন্তান। রেবেকা ও’কিফ নাম্নী ভগ্নী রয়েছে। হোবার্টভিল প্রাইমারিতে অধ্যয়নের পর রিচমন্ড হাইয়ে অধ্যয়ন করেছেন। ২০০৫-০৬ মৌসুম থেকে ২০২০ সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে নিউ সাউথ ওয়েলসের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, আইপিএল কোচি তুস্কার্স কেরালা ও বিগ ব্যাশ লীগে সিডনি সিক্সার্সের পক্ষে খেলেছেন।

১৮ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত এনএসডব্লিউ বনাম তাসমানিয়ার মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। ২০১২ সাল থেকে বিবিএলে খেলে সর্বাধিক ৪৮ উইকেট পান। প্রতিযোগিতার ইতিহাসে এ সংখ্যাটি যে-কোন স্পিনারের চেয়ে বেশী। নভেম্বর, ২০০৫ সালে প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে প্রথমবারের মতো অংশ নেন।

২০১৫-১৬ মৌসুমে উত্থান-পতনের মাধ্যমে অতিবাহিত করেন। তবে, সৌভাগ্যবশতঃ ভালোর দিকটিই বেশী ছিল। এ মৌসুমের পূর্বে বাংলাদেশ গমনার্থে তাঁকে অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট দলে রাখা হয়। কিন্তু, এ সিরিজটি স্থগিত হয়ে পড়ে। এর পরিবর্তে ম্যাটাডোর বিবিকিউজ ওয়ান ডে কাপে অংশ নেন। আট উইকেট নিয়ে এনএসডব্লিউকে শিরোপা বিজয়ে সহায়তা করেন।

পাঁচ খেলা থেকে ২২.২৫ গড়ে ১৬ উইকেট নিয়ে ২০১৯-২০ মৌসুমের শেফিল্ড শীল্ড প্রতিযোগিতায় স্পিনারদের মধ্যে শীর্ষস্থান অধিকার করেন ও ব্লুজের ৪৭তম শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। এছাড়াও, ২০১১ ও ২০১৩ সালে দলটির অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন।

২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নয়টিমাত্র টেস্ট ও সাতটিমাত্র টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করেছেন। ৬ জুলাই, ২০১০ তারিখে বার্মিংহামে পাকিস্তানের বিপক্ষে টি২০আইয়ে অংশ নেয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে প্রবেশ করেন।

২০১৪-১৫ মৌসুমে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২২ অক্টোবর, ২০১৪ তারিখে দুবাইয়ের ডিএসসিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে অংশ নেন। মিচেল মার্শের সাথে তাঁর একযোগে টেস্ট অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/১০৭ ও ২/১২৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, ৬ ও ০* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, ইউনুস খানের জোড়া শতকের কল্যাণে পাকিস্তান দল ২২১ রানে জয় পেলে দুই-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে এগিয়ে যায়।

২০১৬-১৭ মৌসুমে নিজ দেশে মিসবাহ-উল-হকের নেতৃত্বাধীন পাকিস্তানী দলের মুখোমুখি হন। ৩ জানুয়ারি, ২০১৭ তারিখে সিডনিতে অনুষ্ঠিত সফররত পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ১/৫০ ও ৩/৫৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন ও একটি রান-আউটের সাথে নিজেকে জড়ান। তবে, ডেভিড ওয়ার্নারের অসাধারণ ব্যাটিংশৈলীর কল্যাণে স্বাগতিকরা ২২০ রানে জয় পেয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজে বিজয়ী হয়।

একই মৌসুমের ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ সালে পুনে টেস্টে স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে ৭৬ রান খরচায় ১২ উইকেট দখল করে দলকে জয় এনে দেন। উভয় ইনিংস ৬/৩৫ পেয়েছিলেন। ঘরোয়া ক্রিকেটেও ক্রমাগত ভালো খেলেছিলেন। ২৫-এর কম গড়ে উইকেট লাভ করেন। এছাড়াও, ঘণ্টার পর ঘণ্টা পাথরপ্রাচীর গড়ে বল আটকাতে পারতেন। ২০১৬ সালে পাল্লেকেলে টেস্টে ১৭৮ বল আটকিয়ে ছিলেন।

২০১৭ সালে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি বল হাতে নিয়ে ০/৭৯ ও ২/৪৯ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। এছাড়াও, একবার ব্যাটিংয়ে নেমে ৮* রান সংগ্রহ করেছিলেন। তবে, নাথান লায়নের স্মরণীয় বোলিংয়ের কল্যাণে ৭ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়। পরবর্তীতে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে অংশগ্রহণ ছিল।

টেস্টগুলো থেকে ২৯.৪০ গড়ে ৩৫ উইকেট দখল করেছিলেন। এছাড়াও, টি২০আইয়ে ছয় উইকেট পেয়েছেন। প্রায় ১৫ বছর খেলার পর ৫ এপ্রিল, ২০২০ তারিখে লাল-বলের ক্রিকেট থেকে বিদেয় নেন। নিউ সাউথ ওয়েলস দল থেকে বাদ পড়ার পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। ২৫.০১ গড়ে ২২৪ উইকেট নিয়ে শেফিল্ড শীল্ডের খেলোয়াড়ী জীবন শেষ করেন। সবগুলো প্রথম-শ্রেণীর খেলা থেকে ২৪.৬৬ গড়ে ৩০১ উইকেট পেয়েছেন। তেরোবার ইনিংসে পাঁচ-উইকেট পেয়েছেন। মার্চ, ২০১৮ সালে মেলবোর্নের জাঙ্কশন ওভালে ব্লুজের পক্ষে ব্যক্তিগত সেরা ৮/৭৭ লাভ করেন।

সম্পৃক্ত পোস্ট