|

গ্লেন ম্যাক্সওয়েল

১৪ অক্টোবর, ১৯৮৮ তারিখে ভিক্টোরিয়ার কিউ এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ অল-রাউন্ডারের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। ডানহাতে ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করছেন। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘বিগ শো’ ডাকনামে ভূষিত হয়েছেন। খেলোয়াড়ী জীবনের শুরুতে মিডিয়াম-পেসার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে অফ-স্পিনের দিকে ঝুঁকে পড়েন। এক পর্যায়ে ব্যাটিংয়ের দিকেও মনোনিবেশ ঘটান। ২০১০-১১ মৌসুম থেকে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন চলমান রাখছেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটে ভিক্টোরিয়া এবং ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে হ্যাম্পশায়ার, ল্যাঙ্কাশায়ার ও ইয়র্কশায়ারের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, কিংস ইলাভেন পাঞ্জাব, মুম্বই ইন্ডিয়ান্স, মেলবোর্ন রেনেগাডেস, মেলবোর্ন স্টার্স ও ফিটজরয়-ডনকাস্টারের পক্ষে খেলেছেন।

১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০১১ তারিখে মেলবোর্নে অনুষ্ঠিত ভিক্টোরিয়া বনাম নিউ সাউথ ওয়েলসের মধ্যকার খেলায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান। একই বছর তাসমানিয়ার বিপক্ষে মাত্র ১৯ বলে অর্ধ-শতক হাঁকিয়ে রেকর্ড গড়েন। এরপর থেকেই নিজেকে তরতর করে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে থাকেন।

২০১২ সাল থেকে অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে টেস্ট, ওডিআই ও টি২০আইয়ে অংশগ্রহণ করছেন। ২০১২ সালে দলের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত গমন করেন। ২৫ আগস্ট, ২০১২ তারিখে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন। একই সফরে পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী খেলায় ৩৮ বলে ৫৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে জয় এনে দেন।

স্পিন বলের বিপক্ষে ভীতিহীন চিত্তে খেলার কারণে ২০১৩ সালে ভারতের বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ খেলতে তাঁকে দলে যুক্ত করা হয়। ২০১২-১৩ মৌসুমে মাইকেল ক্লার্কের নেতৃত্বাধীন অজি দলের সদস্যরূপে ভারত গমন করেন। ২ মার্চ, ২০১৩ তারিখে হায়দ্রাবাদের ডেকানে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক ভারতের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। খেলায় তিনি ১৩ ও ৮ রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ৪/১২৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, চেতেশ্বর পুজারা’র অনবদ্য দ্বি-শতকের কল্যাণে স্বাগতিকরা ইনিংস ও ১৩৫ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

দিল্লিতে ব্যাটিং ও বোলিং – উভয় বিভাগেই উদ্বোধনে নামেন। ঐ সিরিজে সফরকারীরা ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিল।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেকের মাত্র ছয় মাস পরই ২০১৩ সালে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগে যোগ দেন। বিশেষ প্রাধিকারপ্রাপ্ত দল মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পক্ষে এক মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে চুক্তিবদ্ধ হন ও সংবাদ শিরোনামে চলে আসেন। পরের মৌসুমের আইপিএলে কিংস ইলাভেন পাঞ্জাবে চলে আসেন। বিধ্বংসী ক্রীড়াশৈলী প্রদর্শনে দলকে চূড়ান্ত খেলায় নিয়ে যান।

২০১৫ সালের বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। এসসিজিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫১ বল মোকাবেলান্তে ঝড়োগতিতে শতক হাঁকান। এরফলে, বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় দ্রুততম তিন অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেন তিনি। ঐ প্রতিযোগিতায় তাঁর দল শিরোপা জয় করেছিল।

সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সালে টি২০আইয়ে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৪৫ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। ৬৫ বল থেকে এ সফলতা পান। পাল্লেকেলেতে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ঐ ইনিংসে নয়টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন। মার্চ, ২০১৭ সালে ভারতের বিপক্ষে নিজস্ব প্রথম টেস্ট শতক হাঁকান। ১৮৪ বল থেকে ১০৪ রান সংগ্রহ করেছিলেন। একই বছর দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নেন।

২০১৭ সালে স্টিভেন স্মিথের নেতৃত্বাধীন অজি দলের অন্যতম সদস্যরূপে বাংলাদেশ সফরে যান। ৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ তারিখে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৩৮ ও ২৫* রান সংগ্রহসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দীকরণে অগ্রসর হন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ০/১৩ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, নাথান লায়নের স্মরণীয় বোলিংয়ের কল্যাণে ৭ উইকেটে জয় পেলে সিরিজটি অমিমাংসিত অবস্থায় শেষ করতে সক্ষম হয়।

৩ মার্চ, ২০২১ তারিখে ওয়েলিংটনে সিরিজের তৃতীয় টি২০আইয়ে স্বাগতিক নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। জিমি নিশামের এক ওভার থেকে ২৮ রান তুলে নেন।

২০১৫ সালে বর্ষসেরা অস্ট্রেলীয় টি২০ আন্তর্জাতিক খেলোয়াড় ও ২০১৬ সালে বর্ষসেরা অস্ট্রেলীয় ওডিআই খেলোয়াড় হিসেবে মনোনীত হন।

সম্পৃক্ত পোস্ট