২৯ মে, ১৯৫৩ তারিখে ত্রিনিদাদের প্রেসল এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার ও প্রশাসক ছিলেন। মূলতঃ বোলার হিসেবে দলে ভূমিকা রেখে গেছেন। ডানহাতে অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। এছাড়াও, ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ১৯৮০-এর দশকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছিলেন।
নিখুঁতমানসম্পন্ন অফ-ব্রেক বোলিং করতেন। ক্লান্তিবিহীন অবস্থায় ওভারের পর ওভার দিনব্যাপী বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ওয়েস্ট ইন্ডিয়ান ক্রিকেটে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর প্রতিনিধিত্ব করেছেন। ১৯৭২-৭৩ মৌসুম থেকে ১৯৯০-৯১ মৌসুম পর্যন্ত সময়কালে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবন অতিবাহিত করেছিলেন। ক্যারি প্যাকারের ব্যবস্থাপনায় বিশ্ব সিরিজ ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলে শূন্যতার সৃষ্টি হলে তাঁকে দলে ঠাঁই দেয়া হয়। ঐ মৌসুমে জ্যামাইকার বিপক্ষে ৫/৭১ ও ৬/৬৬ লাভ করেন। এ মৌসুমে ১৯ গড়ে ৩০ উইকেট দখল করেছিলেন।
১৯৮০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে একটিমাত্র টেস্টে অংশগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন। ১৯৮০-৮১ মৌসুমে ক্লাইভ লয়েডের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ৮ ডিসেম্বর, ১৯৮০ তারিখে ফয়সালাবাদে অনুষ্ঠিত স্বাগতিক পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ২/৫৪ ও ২/৩৭ লাভ করেছিলেন। তন্মধ্যে, প্রথম ইনিংসে ওয়াসিম রাজা ও দ্বিতীয় ইনিংসে ইমরান খান তাঁর শিকারে পরিণত হয়েছিলেন। এছাড়াও, উভয় ইনিংসে ৮ রান করে সংগ্রহসহ দুইটি গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ নিয়ে দলের ১৫৬ রানের বিজয়ে ভূমিকা রাখেন ও চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। ঐ সফরে ১৬ গড়ে ১৮ উইকেট নিয়ে বোলিং গড়ে শীর্ষে ছিলেন। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।
বিশ্ব মানসম্পন্ন ফাস্ট বোলারদের দাপটে তাঁর খেলার ক্ষেত্র সীমিত হয়ে পড়ে। দলে ফেরার সম্ভাবনা থাকলেও রজার হার্পারের আবির্ভাবে তা নষ্ট হয়ে পড়ে। ১৯৮৪-৮৫ মৌসুমে শেল শীল্ডে ত্রিনিদাদকে নেতৃত্ব দিয়ে ১৪ মৌসুমের মধ্যে প্রথম শিরোপা বিজয়ে ভূমিকা রাখেন। ১৯৯১ সালে অবসর গ্রহণের পূর্ব পর্যন্ত আঞ্চলিক প্রতিযোগিতায় সর্বোচ্চ উইকেট-সংগ্রাহকের মর্যাদা পেয়েছিলেন। অংশগ্রহণকৃত ৯৪টি প্রথম-শ্রেণীর খেলায় অংশ নিয়ে ২৩ গড়ে ৩৬৬ উইকেট দখল করেন। এছাড়াও, একটি শতরানের ইনিংসসহ ২১ গড়ে ২৬০৭ রান তুলেছেন। পাশাপাশি ৩৫টি লিস্ট-এ খেলায় অংশ নেন। এছাড়াও, মারকুটে ব্যাটিং করে স্বীয় নামের পার্শ্বে একটি শতরান তুলেছেন।
ক্রিকেটের বাইরে পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে চাকুরী করতেন। ত্রিনিদাদের দল নির্বাচকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হন। ব্যক্তিগত জীবনে বিবাহিত ছিলেন। মার্থা নাম্নী এক রমণীর পাণিগ্রহণ করেন। এ দম্পতির দুই পুত্র সন্তান ছিল। ২০১৩ সালে স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। পরবর্তীতে, নিজ গৃহে আবারও স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে ২৩ মার্চ, ২০১৬ তারিখে ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর কারোনি এলাকায় কুভা ডিস্ট্রিক্ট হাসপাতালে ৬২ বছর ২৯৯ দিন বয়সে তাঁর দেহাবসান ঘটে।
