|

লিয়াম প্লাঙ্কেট

৬ এপ্রিল, ১৯৮৫ তারিখে ইয়র্কশায়ারের মিডলসবোরা এলাকায় জন্মগ্রহণকারী ক্রিকেটার। মূলতঃ বোলিং কর্মে অগ্রসর হতেন। ডানহাতে ফাস্ট বোলিংয়ের পাশাপাশি ডানহাতে নিচেরসারিতে ব্যাটিংয়ে নামতেন। ইংল্যান্ডের পক্ষে সকল স্তরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অংশ নিয়েছেন।

‘পাডসি’ ডাকনামে ভূষিত লিয়াম প্লাঙ্কেট ৬ ফুট ৩ ইঞ্চি উচ্চতার অধিকারী। নানথর্প কম্প্রিহেনসিভে অধ্যয়ন করেছেন। বিশ্বস্ত ও নিখুঁত মানসম্পন্ন সিমার হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। প্রায়শঃই ইনিংসের মাঝামাঝি সময়ে রান-রেট নিচেরদিকে নিয়ে আসতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। ঘরোয়া আসরের প্রথম-শ্রেণীর ইংরেজ কাউন্টি ক্রিকেটে ডারহাম, সারে ও ইয়র্কশায়ার এবং দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটে ডলফিন্সের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। এছাড়াও, চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স, সিলেট সিক্সার্স, দিল্লি ডেয়ারডেভিলস, ডারহাম ক্রিকেট বোর্ড, ইংল্যান্ড লায়ন্স, ক্যান্ডি তুস্কার্স, করাচী কিংস, মেলবোর্ন স্টার্সের পক্ষে খেলেছেন। ২০০৩ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেট জীবন চলমান রাখেন। ৯ মে, ২০০৩ তারিখে ডারহামে অনুষ্ঠিত ডারহাম ইউসিসিই বনাম ডারহামের মধ্যকার খেলায় অংশ নেয়ার মাধ্যমে প্রথম-শ্রেণীর খেলোয়াড়ী জীবনের সূত্রপাত ঘটান।

২০০৫ থেকে ২০১৯ সময়কালে ইংল্যান্ডের পক্ষে সর্বমোট ১৩ টেস্ট, ৮৯টি ওডিআই ও ২২টি টি২০আইয়ে অংশ নিয়েছেন। টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেকের পর থেকেই দলে আসা-যাবার পালায় রয়েছেন। ২০০৫-০৬ মৌসুমে মাইকেল ভনের নেতৃত্বাধীন ইংরেজ দলের সাথে পাকিস্তান গমন করেন। ২৯ নভেম্বর, ২০০৫ তারিখে লাহোরে সফরকারী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় ও চূড়ান্ত টেস্টে তাঁর অভিষেক পর্ব সম্পন্ন হয়। ৯ ও ০ রান সংগ্রহ করেছিলেন। এছাড়াও, ২/১২৬ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করানোসহ একটি ক্যাচ তালুবন্দী করেছিলেন। তবে, মোহাম্মদ ইউসুফের দ্বি-শতকের কল্যাণে সফরকারীরা ইনিংস ও ১০০ রানে পরাজিত হলে তিন-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ খোঁয়ায়। এ সফরেই ১০ ডিসেম্বর, ২০০৫ তারিখে লাহোরে প্রথমবারের মতো ওডিআইয়ে অংশ নেন।

২০০৭ সালে নিজ দেশে রামনরেশ সারওয়ানের নেতৃত্বাধীন ক্যারিবীয় দলের মুখোমুখি হন। ৭ জুন, ২০০৭ তারিখে ম্যানচেস্টারে অনুষ্ঠিত সফররত ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের তৃতীয় টেস্টে অংশ নেন। খেলায় তিনি ১৩ ও ০ রান তুলেছিলেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৪৩ ও ০/৫৭ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। তবে, মন্টি পানেসরের অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৬০ রানে জয় পেলে চার-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।

তবে, নয় টেস্টে অংশ নেয়ার পর দল থেকে বাদ পড়েন। ২০১৪ সালে পুণরায় টেস্ট দলে ফিরে আসেন। লিডসে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫/৬৪ পান। এটিই তাঁর ব্যক্তিগত সেরা বোলিং বিশ্লেষণে পরিণত হয়। ১৩ টেস্টে অংশ নেয়ার পর আর তাঁকে দলে খেলানো হয়নি।

২০১৪ সালে নিজ দেশে এমএস ধোনি’র নেতৃত্বাধীন ভারতীয় দলের মুখোমুখি হন। ১৭ জুলাই, ২০১৪ তারিখে লন্ডনের লর্ডসে অনুষ্ঠিত সফররত ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় ইনভেস্টেক টেস্ট খেলেন। খেলায় তিনি ব্যাটিংয়ে নেমে ৫৫* ও ৭* রান সংগ্রহ করেন। এছাড়াও, বল হাতে নিয়ে ১/৫১ ও ৩/৬৫ বোলিং বিশ্লেষণ দাঁড় করান। ইশান্ত শর্মা’র অসাধারণ বোলিংয়ের কল্যাণে স্বাগতিকরা ৯৫ রানে পরাভূত হলে পাঁচ-টেস্ট নিয়ে গড়া সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। পরবর্তীকালে, এটিই তাঁর সর্বশেষ টেস্টে পরিণত হয়।

টেস্টের ন্যায় ক্ষুদ্র সংস্করণের ক্রিকেটেও একই ভাগ্যবরণ করতে হয়। ২০০৫ সালে অভিষেকের পর ২০০৭ সালে দল থেকে বাদ পড়েন। ২০১০-১১ মৌসুমে দুইটি খেলায় অংশ নেয়ার পর আবারও চার বছর খেলার সুযোগ পাননি। ৩০-এর বয়সে এসে আইপিএলে দিল্লি ডেয়ারডেভিলসের পক্ষে খেলার জন্যে চুক্তিবদ্ধ হন। ওডিআই ও টি২০আইয়ে তাঁকে পুণরায় যুক্ত করা হয়।

১৪ জুলাই, ২০১৯ তারিখে লর্ডসে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ড বনাম নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার বিশ্বকাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত খেলায় অংশ নেন। ৩/৪২ লাভ করে দর্শকদের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা কুড়ান।

সম্পৃক্ত পোস্ট